মহুয়া ভট্টাচার্য

চট্টগ্রামের দৈনিক আজাদী পত্রিকার 'খোলা হাওয়া' পাতায় লেখালেখির শুরু। এবারের বইমেলায় একটি ছোটগল্পের বই প্রকাশিত হয়েছে। বইয়ের নাম - " মহুয়ার গল্প।"

জাস্ট ফায়ার দেম

আজ আমার ভীষন মনে পড়ছে সেই কিশোরীটির কথা। ধর্ষণের পর তার লাশ মাঠে পড়েছিলো। তার যৌনাঙ্গ দিয়ে পেটের নাড়িভুড়ি বেরিয়ে এসেছিলো- মনে আছে? ধর্ষণ আরো নির্বিঘ্ন করতে ব্লেড দিয়ে কেটে কিশোরীর যোনিপথ বড় করা হয়েছিলো। কি বিচার হয়েছিলো সেই ধর্ষণের?  

সিলেট হোস্টেলের ঘটনাটি খুব বেশিদিন আগের নয়, এরমধ্যেই নোয়াখালীর বেগমগঞ্জের এই ঘটনা। মানবিক বিপর্ষয়ের কোন পর্যায়ে এসে মানুষ পাশবিক নির্যাতনের পর, মারধর করে আবার তার ভিডিও ধারণ করতে পারে? মানুষকে কি করে পশুর সাথে তুলনা করি আজ? পশুর জীবনাচরণেওতো এমন লজ্জাজনক অধ্যায় নেই।

মানুষ হয়ে জন্ম নিয়ে আজ নিজের ওপরই নিজের ঘৃণা হচ্ছে। আচ্ছা!  পশুরা আমাদের দেখে কি ভাবছে? রাস্তার কুকুরগুলো নিশ্চয়ই থু থু ছেটাচ্ছে আমাদের দিকে? পশুরও যৌনতার নির্দিষ্ট সময় থাকে, মৌসুম থাকে। কেবল একমাত্র মানুষই যত্রতত্র শিশ্নোদরপরায়ণ হয়, আর তা নিবারণের জন্য সে যা খুশি করতে পারে। আমরা সেই মানুষজাতি। চারদিকের মহামারীর প্রকোপেও আমরা আমাদের জঘন্য লালসা দমন করতে পারি নি।

নারীর প্রতি এত অবলীলায় নির্মমতা, নৃশংসতা চলছে অথচ প্রশাসন দূর্বল এখানে! কতটা ক্ষমতাশালী এরা? কতটা ক্ষমতাধর এরা যে ৩২ দিন পর্যন্ত এমন একটি ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাখতে পেরেছে? রাজনৈতিক ব্যনারের আড়ালে আশ্রয় নেওয়া এইসব নরপশুদের সাহস কতটা বেড়েছে ভাবলে অবাক লাগে।  জনগণের কল্যাণের রাজনীতি আজ হয়ে গেছে দুস্কৃতিকারীদের আশ্রয়স্থল। 

নারীর শরীর কি করে পুরুষের পাশবিকতার ক্ষেত্র হয়ে গেছে আজ। আমরা নিশ্চুপ। আমরা নিজেদের ঘরবন্দী করে বিপদমুক্ত রাখতে মরিয়া। নোয়াখালী বেগমগঞ্জে গণধর্ষণের শিকার নারীটিকে নির্মমভাবে আঘাত করা হয়েছে। সে বারবার আকুতি জানিয়েছে, কারো দয়া হয় নি। আশাকরি এরপর আর কোনো মানবাধিকার কর্মীর মানবাধিকার অনুভূতিতে চুলকানি হওয়ার কথা নয়।  তাও যদের চুলকবে তারা দয়া করে ভিডিটি দেখে চুলকানির মলম লাগিয়ে নেবেন। এই ধর্ষণের কোনো বিচার চাই না। কোনো শুনানি, কোনো আইনি প্রক্রিয়া চাই না। বিচার বহু করেছেন আপনারা। ফেসবুকে মতের বিরোধী পোস্ট দিলে ধরে নিতে বলেছেন। ধরে নিতে বললে -  বেঁধে নিয়েছেন। তখন প্রশাসনের গতি সুপারসনিক! 

আজ এই ঘটনার ভিডিও ভাইরাল। সমস্ত প্রমাণ হাতের সামনে। বঙ্গবন্ধুর সৈনিক নামের ঢাল করে আত্মরক্ষার পথ বেছে নিয়েছে এসব দুষ্কৃতকারীরা। সুস্থ মানুষ অসুস্থ বোধ করছে তাদের ঘটানো এই ভয়ংকর তান্ডবের ভিডিও দেখে। ধরা ছোঁয়ার নাগালের বাইরে চলে গেছে তারা। প্রশাসন এদের বাড়ির দরজায় ঝুলিয়ে রাখা তালার সামনে আরতি করছে। কিন্তু এর বিচার করতেই হবে। আমরা এর কোনো অন্য কোনো বিচার চাইছি না আর। জাস্ট ফায়ার দেম।

516 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।