দিনের শেষে সব নারীর জীবন সার্ভিস প্রোভাইডারের জীবন!

বৃহস্পতিবার, মে ৩১, ২০১৮ ১১:৩৬ PM | বিভাগ : সীমানা পেরিয়ে


যে কোনো কারনেই হোক মেয়েরা কেনো জানি আমাকে অনেক গোপন কথা বলে দেয়। এবং এইটার পরিচিত অপরিচিত নাই। ধরেন বাসে উত্তরা থেকে গুলশান যাচ্ছি অফিস ধরতে, টুকটাক একটা দুইটা কথার পর পরই ভদ্রমহলা যিনি বয়সে আমার চেয়ে অনেক বড় হবেন, ফর ফর করে ব্যাক্তিগত জীবনের কত দুঃখের কথা যে বলে ফেললো!

আই এল টি এস পরীক্ষা দিতে গেছি, একজন ডাক্তার আপাও এসেছেন স্কলারশীপের জন্য আই এল টি এস দেবে। এক কথা দুই কথার পর বলে চলেন রিকশায় একটু ঘুরি। রিকশায় ঘুরতে ঘুরতে অল্প সময়ের মধ্যেই উনার হাজবেন্ডের সাথে কেনো সমস্যা হতো, কেনো ডিভোর্স হলো কত কথা যে বলে দিলো। বাংলাদেশে পরিচিত অপরিচিত কত মেয়ে যে কত মনের কথা বলেছে তার কোনো ইয়াত্তা নেই। আমি কাউন্সিলিং না করার চেষ্টা করতাম কারণ এইটা আমার কাজ না।

সে যাই হোক এই পশ্চিমা দেশে এসেও এই কাহিনী হবে সত্যি ভাবি নি। আজকে আমার শপে সাত চল্লিশ বয়ষ্কা দারুণ স্মার্ট এক অসি নারী আসলো। দুই তিনটা কথার পরই প্রায় আধ ঘন্টা ধরে ব্যাক্তিগত বিবাহিত জীবনে কি পরিমান এবিউসিভ একটা সম্পর্ক বহন করেছে তাই বললো। হাতের একটা আঙুল কাটা, একটা আঙুল ভাঙা। হাজবেন্ড ড্রাংক হয়ে বেধরক মারতো। একবার রাস্তায় বাসস্টপে পশ্চাৎদ্দেশে লাথি মেরে রাস্তায় ফেলে দিয়েছিলো। সেই স্বামীর সাথে মৃত্যুর আগ পর্যন্ত সেই মহিলা ছিলো। আমি বিস্ময় নিয়ে বললাম কেনো? একই কাহিনী একই ভাষা।

আমি অবাক হয়ে বললাম -দেখো তোমরা ফার্স্ট ওয়ার্ল্ড দেশের মেয়ে এবং সাদা, আমি কিন্তু আমাদের বাদামী চামরার মেয়েদের জীবনের থেকে তোমার জীবন কিছু আলাদা করতে পারলাম না। ব্যক্তিগত জীবনে পোড় খাওয়া মানুষটা এখন সাংঘাতিক নারিবাদী। বলে -দেখো আমরা অসি মেয়েরা একটা কথা খুব বলি ”গাইস নীড মেইড ইন কীচেন হোর ইন বেড”। বলে -দেখো দুনিয়ার সবাই আমাদের মেয়েদের প্রায়োরিটি লিস্টে থাকে শুধু নিজে ছাড়া। মনে হয় যেন সার্ভ করতেই আমাদের জন্ম! আমি অবাক হয়ে বললাম কি আশ্চর্য তোমার মতো একটা মেয়ে এই কথা বলছে? ও বললো -দেখো মেয়েদের জীবনের কোনো অস্ট্রেলিয়া, ভারত কিংবা ইন্দোনেশিয়া নেই। মেয়েদের জীবনের কোনো রেস মানে বর্ণ নাই, কোনো জাতও নাই। দিনের শেষে আমাদের সবার জীবন সার্ভিস প্রোভাইডারের জীবন!

আমি বললাম তাইতো দেখা যাচ্ছে মেয়েদের জীবনের কোনো আঞ্চলিক সীমারেখা আছে বলেও তো মনে হচ্ছে না। ও বললো -আমাদের ছেলেরাও শক্ত ব্যক্তিত্বের মেয়ে বউ হিসেবে পছন্দ করে না। স্ট্রং পারসনালিটি দেখে হয়তো প্রেমে পড়লো, বিয়ের পরেই একটা সাবমিসিভ বউ চাইবে। ছেলেরা আর যাই পারুক স্ট্রং পারসানালিটির বউ হজম করতে পারে না। আমি অবাক হয়ে বললাম কি কান্ড! আমার দেশ আর তোমার দেশের মেয়েদের রিয়ালাইজেশন কেমনে এত এক রকম হয়? কি তাজ্জব কান্ড! বিদায় নেয়ার সময় নিজরে নামটা বলে জড়িয়ে ধরলো


  • ৩৪১ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

দিলশানা পারুল

জাহাঙ্গীর নগর বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পরিসংখ্যানে পড়াশোনার পাশাপাশি লম্বা সময় ধরে সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সাথে যুক্ত ছিলেন দিলশানা পারুল। দশ বছর বামপন্থি রাজনীতির সাথে ‍যুক্ত ছিলেন, তারপর দশ বছর এনজিওতে শিক্ষা গবেষনা এবং বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করেছেন। বর্তমানে অস্ট্রেলিয়ায় এডুকেশন সেক্টরে কাজ করছেন। এর পাশাপাশি অনলাইনে লিখালিখি করেন।

ফেসবুকে আমরা