মি টু মানে প্রতিবাদ

সোমবার, অক্টোবর ১৫, ২০১৮ ৯:৫৩ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


দারুণ একটা সাক্ষাৎকার দেখলাম। তনুশ্রী দত্ত মিস ইন্ডিয়া হয়েছিলেন, ক্যারিয়ার শুরু করতে চেয়েছিলেন বলিউডে। নানা পাটেকর নামক ‘বড়’ অভিনেতার কারণে সেটা হয় নি। কাজেই ক্যারিয়ার গুটিয়ে নিতে হয়েছিলো। তনুশ্রী থেমে যান নি, প্রতিবাদ করে বলেছেন- ঠিক কি কি যৌন হয়রানি তাঁকে করা হয়েছে। জিয়া খান সুইসাইড করেছিলেন কেনো সেইটাও কেউ জানে না। বাংলাদেশে আপনারা একসময় ‘প্রভা’র ভিডিও দেখেছেন, অথচ তার সাথে করা অন্যায় দেখতে পান নি। কাজেই যৌন দাসত্ব বা সেক্সুয়াল স্লেভারি পৃথিবী থেকে যায় নি। কেবল সেক্সুয়াল স্লেভের বাজার বদলেছে।

প্রিয় বাংলাদেশের মিডিয়ায় কর্মরত মেয়েরা, আপনাদের দেখে ব্যক্তিগতভাবে আমার খুবই লজ্জা লাগছে। ভারতের মিডিয়ায় কর্মরত মেয়েরা সাহস করে অনেক প্রভাব প্রতিপত্তিওয়ালা লোকেদের নাম ফাঁস করে দিয়েছে। এসেছে সুভাষ ঘাই, নানা পাটেকরের মতো অভিনেতা আর পরিচালকদের কথা। ফারিয়া শাহরিন নামের একজন মডেল যখন এই ব্যাপারে এসে মুখ খুলেছিলো, আপনারা সবাই তখন নিজেদের সতী সাবিত্রী প্রমাণ করতে শুরু করলেন! অথচ আমি প্রবলভাবে নিশ্চিত আপনারা প্রায় প্রত্যেকেই নানা ধরণের সেক্সুয়াল হ্যারেজমেন্টের শিকার। তাদের নাম মুখে নেওয়ার সাহস নাই আপনাদের?

এই যে আমাকে দেখছেন, প্রিন্ট মিডিয়ার অনেক বড় লেখক, সাহিত্য সম্পাদক, সাংবাদিক- এদের অনেকের ভেতরের চেহারাটা আমি খুব সুন্দরভাবে দেখেছি, দেখছি। প্রতিবাদ করেছি, আবারো করবো। যখন প্রতিবাদ করেছি তখন তারা আমাকে ডেকেছে ‘বেশ্যা’, অনেকে আড়ালেও ডাকে। আমার কিচ্ছু যায় আসে নি এবং ভবিষ্যতেও যায় আসবে না। কারণ বেশ্যা নিজে রোজগার করে। কিন্তু যারা বেশ্যার কাস্টমার হয়েই আবার ‘বেশ্যা’কে গালি দেয়, তাদের দেখলে আমার স্রেফ হাসি আসে! কাজেই আমি বেশ্যা হলেও সমানভাবেই প্রতিবাদ করতাম!

এবছর যিনি শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পেয়েছেন সেই নাদিয়া মুরাদ নিজে ছিলেন যৌন দাসী। আই এস নামের জঙ্গিগোষ্ঠী তার পরিবারের সবাইকে মেরে তাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিলো যৌন দাসী হিসেবে। হয়েছেন গণ ধর্ষণের শিকার, এই একুশ শতকে এসে বিক্রি হয়েছেন বাজারে। কিন্তু পিছিয়ে যান নি। আইএসের ডেরা থেকে পালানো মেয়েটিই এই বছরের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী। তিনি দাঁড়িয়েছেন জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে, যৌন দাসত্বের বিরুদ্ধে।

যতদিন নিজের সম্মান যোনিতে রাখবেন আর গায়ের চামড়ায় কেউ হাত দিলেই আপনি ‘লোকে কি বলবে’ নামক ভয়ে প্রতিবাদহীন থাকবেন, ততদিন আপনি আত্মসম্মান বিক্রির মার্কেটের একটি প্রোডাক্ট। সেক্ষেত্রে আপনি আধুনিক হারেমের যৌনদাসী।

চাইলে গ্রুমিং করে হয়তো তথাকথিত সুপারস্টার হবেন, কিন্তু নাদিয়া মুরাদের মতো সাহসী হওয়াটা কেবল গ্রুমিং থেকে আসবে না। এখন বেছে নিন কি হতে চান- সাহসের দিক থেকে নাদিয়া মুরাদ, ব্যক্তিত্বের দিক দিয়ে তনুশ্রী, নাকি আন্তর্জাতিক মার্কেটের আধুনিক সেক্সুয়াল স্লেভ? ভাবুন!


  • ২৪২৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

ফেসবুকে আমরা