ফুলগুলো যেনো কথা (দ্বিতীয় পর্ব)

শুক্রবার, আগস্ট ৭, ২০২০ ৪:০৮ AM | বিভাগ : সাহিত্য


আমেরিকা যখন হিরোশিমাতে বোমা ফেলে, সাদাকো সাসাকি নামের জাপানি এক বাচ্চার বয়স তখন কেবল দুই। অলৌকিকভাবে সেইবার বাচ্চাটা বেঁচে যায়। কিন্তু তার বয়স যখন বারো, অন্য আরো অনেকের মতো শরীরে ভয়ানক তেজস্ক্রিয় বিষ বয়ে বেড়ানো কিশোরী সাসাকি ভীষণ অসুস্থ হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়। দিনের পর দিন অসুস্থ থাকলেও তার মনোবল ছিলো তীব্র। হসপিটালের বিছানায় শুয়ে শুয়ে সাসাকি বেঁচে থাকার এক অসাধারণ বুদ্ধি বের করে। জাপানিজ লোকবিশ্বাস আছে, কেউ যদি সৃষ্টিকর্তার উদ্দেশ্য সাদা কাগজের এক হাজার সারস পাখি বানায় তাহলে সৃষ্টিকর্তা তার মনের ইচ্ছা পূরণ করেন। সাসাকি বেঁচে থাকার তীব্র ইচ্ছা নিয়ে সাদা কাগজের সারস বানাতে বসে। হিরোশিমার সেই হাসপাতালের ডাক্তার, নার্স এমন অভূতপূর্ব ঘটনা আগে কখনো দেখেনি! সবাই কিশোরী মেয়েটাকে ভালাবেসে উৎসাহ দেয়। সবার অনুপ্রেরণায় তার সারসের সংখ্যা দ্রুত বাড়তে থাকে। ৬৪৪ টা সারস তৈরি হবার পরে সাসাকি সাদাকো মারা যায়। এরপরে এগিয়ে আসে তার বন্ধুরা, বাকি সারস তৈরি করে তারা ফুলের মতো করে সাসাকির সমাধি ঢেকে দেয়!

সেই থেকে প্রতি বছর জাপানের বাচ্চারা সাসাকির স্মরণে তার মৃত্যুদিবসে এক হাজার কাগজের সারস তৈরি করে।

গন্ধরাজ ফুল সাধারণত মার্চ এপ্রিলে ফোটে। আজ জুনের শেষ দিনে হঠাৎ একটা ফুটলো।

গন্ধরাজ ফুলের আদি নিবাস সাসাকির দেশ জাপান।

আনান্দ সমরকান নামের সিংহলি এক ছাত্র পড়েন শান্তিনিকেতনের সংগীত ভবনে। পড়া শেষে দেশে ফিরে যাবার আগে ছাত্র একদিন গেলেন রবীন্দ্রনাথের কাছে। গুরুদেবকে তাঁর প্রিয় ছাত্রটি অনুরোধ করলেন তার দেশ শ্রীলঙ্কা নিয়ে একটি গান লিখে দেবার জন্য। রবীন্দ্রনাথ প্রিয় ছাত্রের জন্য একটি গান লিখে তাতে সুরও দিয়ে দিলেন। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর শ্রীলঙ্কা স্বাধীন হলো, প্রয়োজন হলো নিজেদের একটি জাতীয় সঙ্গীতের। লঙ্কার কর্তৃপক্ষ দেশের গীতিকারদের নোটিশ করলো একটা জাতীয় সঙ্গীত তৈরি করে দেবার জন্য। আনান্দ সমরকান তাকে লিখে দেয়া রবীন্দ্রনাথের গানটি সিংহলি ভাষায় অনুবাদ করে জমা দিলেন। শ্রীলঙ্কার জাতীয় সঙ্গীত হিসাবে নির্বাচিত হয়ে গেলো রবীন্দ্রনাথের গানটি। বাংলাদেশ, ভারত এবং শ্রীলঙ্কা এই তিন দেশের জাতীয় সঙ্গীতের রচয়িতা হলেন রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর।

হলুদ রঙের এই বাগান বিলাসের গাছটি আমার খুব প্রিয়। বাগান বিলাস নামটি রবীন্দ্রনাথের দেয়া। এর আদি নাম bougainvillea।

বৃটিশ ভারতের আলিপুর সেন্ট্রাল জেলে বন্দীদের একঘেয়ে ক্লান্তিকর জীবনে হঠাৎ একদিন অন্যরকম এক আনন্দের সংবাদ এলো। এই জেলের এক বন্দী তরুণকে কবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর একটি বই উৎসর্গ করেছেন। বইয়ের নাম "বসন্ত"। এটি একটি নাটক। বন্দী তরুণ আনন্দে, অনুপ্রেরণায় উচ্ছ্বসিত হয়ে একটি কবিতা লিখলেন –

" আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে

মোর মুখ হাসে, মোর চোখ হাসে

মোর টগবগিয়ে খুন হাসে

আজ সৃষ্টি সুখের উল্লাসে।। "

বন্দী তরুণের নাম কবি কাজী নজরুল ইসলাম।

পৃথিবীর ইতিহাসে একটি বিরল ঘটনা এই যে,

কবি নজরুলকে এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়েছিলো কবিতা লেখার অপরাধে।কবিতার নাম "আনন্দময়ীর আগমনে"।

অনেকদিনের পুরনো ক্যাকটাসের ফেলে দেয়া অংশ থেকে সৃষ্টি হয়েছে নতুন এই ক্যাকটাস গাছটি।


  • ২১৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

মাহমুদা পারভীন

১৯৭১ সালে জন্ম নেয়া মাহমুদা জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় বাংলা বিভাগে সম্মান শেষ করার পরে "কবি নজরুল সরকারি কলেজ"-এ শিক্ষকতার সাথে যুক্ত আছেন।

ফেসবুকে আমরা