মি টু এবং আমার মায়ের গল্প

বৃহস্পতিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৭ ৪:০৭ PM | বিভাগ : আলোচিত


লেখাটা শুরু করার আগে আমার মায়ের কথা একটু বলে নিতে চাই। স্বাভাবিকভাবেই যেসব শিশুরা চাইল্ড এ্যাবিউজের শিকার হয় আমার মনে হয় তার পিছনে একটা বড় কারণ পরিবারের, বিশেষত মায়ের অসচেতনতা কিংবা উদাসীনতা। সেদিক থেকে আমি যথেষ্ট সৌভাগ্যবান যে একজন প্রচন্ড সাহসী সচেতন নারীর গর্ভে আমার জন্ম। চার দেয়ালের গন্ডীতে থাকা একজন নারী কোন জাদুমন্ত্রের বলে এতখানি সাহসী হতে পারে এটা আমার কাছে বরাবরই বিস্ময়কর। এখানে একটা ঘটনার উল্লেখ না করলেই নয়, ঢাকাতে বেড়াতে এসেছি সেবার। ঘোরাঘুরি আর টুকটাক শপিং শেষ করে বাসায় ফিরতি বাস ধরার জন্য হাঁটছি। আব্বু আর ছোটবোন অনেকটা সামনে, আমি আর আম্মু পেছনে। আচমকা অন্ধকার ফুড়ে এক লোক হনহন করে হেঁটে আমাদের সামনে চলে এলো। কাছাকাছি এসেই একটা হাত বাড়িয়ে দিলো। আমি কিছু বুঝে ওঠার আগেই আম্মু খপ করে লোকটার হাতটা ধরে এত জোরে মুচড়ে দিলো যে লোকটা কাত হয়ে মাটিতে পরে গেলো। আম্মু সেদিকে ভ্রুক্ষেপমাত্র না করে আমার হাত ধরে জোরে হাঁটা শুরু করলো, একটাবার আব্বুকেও ডাকলো না।

এই হচ্ছে আমার মা। একই সাথে সাহসী, সচেতন এবং প্রবল ব্যক্তিত্ব সম্পন্ন একজন নারী যিনি খুব ছোটবেলাতেই একেবারে সহজ কথায় আমায় বুঝিয়ে দিয়েছিলেন যে অনেক সময় কাছের আত্মীয়দের কাছ থেকেও সাবধান থাকতে হয়। আমার মনে পড়ে খুব ছোট তখন আমি। স্কুলে ভর্তি হইনি তখনো, একদিন আম্মু আমাকে কাছে ডেকে আমার শরীরের কিছু কিছু অংশ নির্দেশ করে বলেছিলো “কেউ যদি তোমাকে এই এই জায়গায় স্পর্শ করার চেষ্টা করে তাহলে তুমি জোরে চিৎকার করবা, কোনো মহিলাও যদি হয় তবুও”। এরপর একদিন চাচ্চুর এক বন্ধু আমাকে কোলে নিয়ে গালে চুমু খেতে যাবে অম্নি আমি এমন চিৎকার দিলাম যে বেচারা একেবারে হতভম্ভ হয়ে গেলো। ঘটনাটা হাস্যকর হলেও সত্যি এটাই যে আত্মরক্ষার এই বোধটুকুই আমাকে এই নারী জীবনে অনেক বড় বড় দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা করেছে।

কলেজে পড়ি তখন। একদিন অফ পিরিয়ডে বন্ধুদের সাথে বসে গল্প করছিলাম। ক্লাশের একটা ছেলে এসে ছোট একটা পাসপোর্ট সাইজের ছবির খাম আমায় দিয়ে বললো -আমার ছবিটা একটু তোর কাছে রাখবি? আমি পরে এসে নিচ্ছিল। খামটা আমি ব্যাগে রেখে দিলাম এবং বেমালুম ভুলেও গেলাম।

এর প্রায় ৫/৬ দিন পর আমার বন্ধু আমার ব্যাগে কলম খুঁজতে গিয়ে খামটা পেলো। জিজ্ঞেস করলো -কি রে এটা? আমি বললাম -শামীম রাখতে দিছে, ওর ছবি। পরে তো আর নেয় নাই, আমিও তো দিতে ভুলে গেছি -তর কাছে রাখতে দিছে ক্যান? বলতে বলতে ও খামটা খুললো। আমরা অবাক হয়ে দেখলাম খামে ওই ছেলেটির পাসপোর্ট সাইজের ছবি নয় বরং দুটো খুবই বাজে ন্যুড ছবির নেগেটিভ ছিলো। আমার জীবনে এরকম ঘটনা ঐ প্রথম। মাথার মধ্যে ঝাঁ ঝাঁ করছিলো। ওকে খুঁজলাম কিন্তু সেদিন ও ক্লাশে আসেনি। এরপর ঈদ উপলক্ষে কলেজ বন্ধ হয়ে গেলো । ঈদের পরের দিন সন্ধ্যায় আব্বু বাসায় ছিলো না, কি একটা আনতে আম্মু আমাকেই দোকানে পাঠালো। ফেরার পথে দেখি ওই ছেলেটি দাঁড়িয়ে। আমাকে দেখে দাঁত কেলিয়ে জিজ্ঞেস করলো -কি রে ক্যামন আছিস? ঈদের পরের দিন, তাই রাস্তায় লোকজন এমনিতেই কম। তার উপর মাগরিবের আজান হয়েছে কিছুক্ষন আগে, পুরো গলির মধ্যে একটা কাক পক্ষীও নেই। কিছু না বলে আমি সোজা বাসার দিকে হাঁটতে শুরু করলাম। ছেলেটাও আমার সাথে সাথে হাঁটতে শুরু করলো। আমি আস্তে হাঁটলে ও আস্তে হাঁটে আবার আমি জোরে হাঁটলে ও জোরে হাঁটে। মোট কথা গায়ে গা লাগিয়ে হাঁটার চেষ্টা করছে। হঠাৎ মাথায় রক্ত উঠে গেলো, ওর মুখোমুখি দাঁড়ালাম, চোখের দিকে তাকিয়ে জিজ্ঞেস করলাম কি সমস্যা তোর? বেহায়ার মতন দাঁত বের করে বললো -নেগেটিভগুলা ফেরত দিলি না যে? এক মুহুর্ত ভাবলাম না, ঠাস করে থাপ্পর লাগিয়ে দিলাম, তারপর আরেকটা, তারপর আরেকটা।

তারপর শার্টের কলার ধরে হ্যাচকা টান মেরে বললাম -চল আমার সাথে, ওইগুলা আম্মুর কাছে রাখতে দিছি, তার কাছ থেকে চেয়ে নে। ছেলেটা এতটাই হতভম্ভ হয়ে গেলো যে পালানোরও চেষ্টা করলো না। একেবারে হিঁচড়ে বাসার গেটে নিয়ে এলাম। বুঝতে পারিনি যে এই জল আরো অনেকদূর গড়াবে। সেদিন সন্ধ্যায় আম্মুর সামনে ও মাফ চেয়ে পালালো ঠিকই কিন্তু ঈদের ছুটির পর কলেজে আমার জন্য অপেক্ষা করছিলো অন্যরকম বিভীষিকা। ছুটির পরে প্রথম ক্লাশেই আমার সব থেকে পছন্দের স্যার আমাকে দাঁড় করিয়ে জিজ্ঞেস করলো -তুই নাকি অনেক বড় মাস্তান হয়ে গেছিস যে কলেজের ছেলেদের পিটানো শুরু করছিস? আমি স্যার কে বুঝাতে চেষ্টা করলাম। যেহেতু স্যার খুব ভালো মানুষ, মনে হলো তিনি বুঝবেন! বললাম স্যার ও বেয়াদবি করছে। কিন্তু স্যার আমার কোনো কথাই শুনলেন না, উল্টো বেত দিয়ে আমাকেই মারতে শুরু করলেন। ক্লাশ ভর্তি ছেলেমেয়েদের মধ্যে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মার খেলাম। এখানেই শেষ না, আরো বড় অপমান অপেক্ষা করছিলো আমার জন্য। এরপর থেকে ক্লাশের অনেক ছেলেরা এমনকি অনেক কাছের ছেলে বন্ধুও লোকের সামনে চিৎকার করে জিজ্ঞেস করতে শুরু করলো -ও তোর সাথে কি বেয়াদবি করছিলো রে? কই হাত দিছিলো? বলেই সবাই মিলে খ্যাক খ্যাক করে হাসা শুরু করতো। টানা দুই মাস এরকম বাজে পরিস্থিতিতে ক্লাশ করতে হয়েছিলো আমার। তবু কখনো সাহস হারাইনি। আমি জানতাম আমি যা করেছি ঠিকই করেছি ।

 আরেকটা ঘটনা বলি। এটা লেখার আগে আমি বেশ কয়েকবার ভেবেছি লিখবো কিনা, কেননা এই ঘটনার সাথে যিনি জড়িয়ে আছেন তিনি আমাদের অত্যন্ত নিকট আত্মীয়। এই লেখা লেখার সাথে পারিবারিক সম্প্রীতির ব্যাপারটিও জড়িয়ে আছে। অনেক ভেবে চিন্তে তবু লেখাটাই উচিৎ মনে করলাম।

ছোটবেলা থেকে আমি জানতাম আব্বুর পরে যদি কেউ আমায় বেশী ভালোবেসে থাকে তো সে হচ্ছেন ইনি। তিনিও কোথাও পরিচয় করিয়ে দিতে হলে বলতেন আমি তার বড় মেয়ে। ভার্সিটি এডমিশনের ঠিক কিছুদিন আগে আব্বু খুব একটা অসুবিধায় পরে গেলো। আমি কোথাও কোচিং এ ভর্তি হতে পারলাম না, এমনকি ঠিক মতোন পড়ালেখাও করতে পারছিলাম না। শুধু ঢাবি আর রাবির ফরম তুললাম তবু একটা সময় আমার মনে হতে লাগলো আমি হয়তো এই দুটো পরীক্ষায়ও এটেন্ড করতে পারবো না। উনি বললেন, আমি থাকতে আমার মেয়ে ভর্তি পরীক্ষা দেবে না তা কখনোই হবে না। উনি আমাকে সাথে নিয়ে পরীক্ষা গুলোতে এটেন্ড করালেন। পরীক্ষা শেষ করে বিকেলে বাসের টিকেট করার কথা, উনি বললেন, বাসে যাওয়ার দরকার নেই, লঞ্চে যাবো। খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার, যেহেতু আমি টানা দুই/তিন দিনের বাস জার্নি তে বারবার বমি হওয়ার কারণে বেশ অসুস্থ হয়ে পড়েছিলাম, আমার আব্বু হলেও আমাকে বাসের পরিবর্তে লঞ্চেই নিয়ে যেত।

রাত আটটায় লঞ্চ, বাসায় পৌঁছাবো পরের দিন ভোরে। তখন অব্দি সব ঠিক ছিলো। খটকা লাগলো তখন যখন লঞ্চে উঠেই উনি বললেন, আমরা যে লঞ্চে যাচ্ছি এটা বাসায় বোলো না, বলবা বাসে যাচ্ছি। জীবনে সিক্স সেন্সের উপস্থিতির গুরুত্ব আমি সেদিন প্রথম বুঝতে পারলাম, সিক্স সেন্স আমায় বলে দিলো উনি বাবার মতোন কিন্তু বাবা নন। লঞ্চে উনি যে কেবিন ভাড়া করেছেন সেটাও আমি জানতাম না। যেহেতু লঞ্চের কেবিন পেতে হলে দুই তিন দিন আগে টিকেট কাটতে হয় আর আমরা বিকেলে টিকেট কেটেছি তাই স্বাভাবিক ভাবেই আমি ধরে নিয়েছিলাম যে আমরা ডেকে যাবো। আর যারা লঞ্চে চড়েছেন তারা জানবেন, একটা ডেকে চার/ পাঁচশোর বেশী মানুষ থাকে, সেখানে বিপদের কোনো আশঙ্কা নেই বললেই চলে। কিন্তু দেখলাম উনি কেবিন পাননি ঠিকই কিন্তু স্টাফদের জন্য বরাদ্দ থাকে যে কেবিনগুলো তারই একটা ভাড়া করেছেন। সিদ্ধান্ত নিলাম যেকোনো ভাবেই হোক রাত টা লঞ্চের ছাদে ঘুরে ফিরে কাটিয়ে দিতে হবে। শীতের রাত প্রায় দুটো বাজে, আমরা খাওয়া দাওয়া করলাম, লঞ্চের ছাদে গিয়ে বসে অন্যান্য লোকদের সাথে গল্প করলাম। ততক্ষন অব্দি উনার আচরন একেবারেই স্বাভাবিক। একটা সময় আমার মনে হতে লাগলো ধুর আমি কি বোকা, নিজের বাবাকে কেউ এরকম বাজে ভাবে সন্দেহ করতে পারে!

রাত আড়াইটার দিকে উনি বললেন, বাইরে বসে থাকলে তোমার ঠান্ডা লেগে যাবে, রুমে গিয়ে ঘুমাও আমি বাইরে আছি, কিছু লাগলে ডেকো। আসলেই বাইরে অনেক ঠান্ডা ছিলো। রুমে এসে দরজা লাগিয়ে শুয়ে পড়লাম আর মনে মনে নিজেকে ধিক্কার দিলাম অহেতুক ভয় পাবার জন্য। কিছুক্ষন পরেই উনি এসে দরজায় নক করলেন। বললেন তার নাকি ঘুম পেয়েছে। সিক্স সেন্স এবার আমায় আরো প্রবল ভাবে জানান দিলো। আমি বললাম, তুমি ঘুমাও আমি বাইরে থেকে ঘুরে আসি। জীবনে সেবার প্রথম আমাকে কেউ অতো জোরে ধমক দিলো। প্রচন্ড ধমক দিয়ে সে বললো এই ঠান্ডার মধ্যে বাইরে যাওয়ার দরকারটা কি! আমি ভয়ে গুটিসুটি মেরে জানালার খুলে বসে রইলাম। সে শুয়ে পড়লো আর আমাকে বারবার বলতে লাগলো জানালা বন্ধ করে ঘুমাও। কিন্তু আমার কেবলই মনে হচ্ছিলো জানালাটা বন্ধ করলেই বিপদ। জানালার অপোজিটে কয়েকজন লোক দাঁড়িয়ে সিগারেট খাচ্ছে। ওই মুহূর্তে আমার কাছে বাবার মতোন এই লোকটার চাইতে ওই অপরিচিত লোকগুলোর উপস্থিতি অনেক বেশী নিরাপদ মনে হচ্ছিলো। ওই জানালাটাই তখন একমাত্র ভরসা, জীবনে যত দোয়া শিখেছি ওই একদিনে সেসব দোয়া পড়তে পড়তে গলা শুকিয়ে কাঠ হয়ে এলো তবু এক ফোঁটা পানি খাওয়ার জন্যেও জানলার কাছ থেকে নড়লাম না আর মনে মনে বলছিলাম আল্লাহ ওই লোকগুলা যেন সারারাত এখানেই আড্ডা দেয়। বেশ কয়েকবার ঘুমাতে বলার পরেও আমি যখন জানালার কাছ থেকে একচুলও সরছিলাম না আমাকে অবাক করে দিয়ে উনি তখন উনার ফোনে লাউড স্পিকার দিয়ে পর্ণ দেখা শুরু করলেন।

ভয়ে, রাগে, দুঃখে আমার কান্না পেয়ে গেলো। আরো বেশী জানালা আঁকড়ে ধরে বসে রইলাম। পারলে লাফ দিয়ে নদীতে পরে যাই মনের অবস্থা এমন। শুধু মনে হতে লাগলো উনি কোনোরকম অশালীন আচরন করতে নিলেই আমি চিৎকার করে ওই লোকগুলোকে ডাকবো। বেশ কয়েকবার জানালা বন্ধ করতে বলার পরেও আমি বন্ধ করছি না দেখে সে আমাকে ধমকে উঠলো কিন্তু এবার আমি আর প্রথমবারের মতন ধমক খেয়ে চুপ করে থাকলাম না। রাগে ততক্ষনে আমার মাথা ঝিমঝিম করছে। এত জোরে ধমক দিলাম আমি লোকটাকে। বললাম কি সমস্যা তোমার? আমি সারারাত জানলা খুলে বসে থাকবো তোমার সমস্যা কি! এইসব ফোন টোন রাখো আর নিজের মত ঘুমাও। জানি না আমার ধমকে কি ছিলো, লোকটা একেবারে চুপ মেরে গেলো। একটাও কথা না বলে ঘুমিয়ে পড়লো, আর আমি সারাটা রাত ওই জানালার কাছে বসে রইলাম, কাঁদছিলাম হয়তো কিন্তু মনে একটা স্বস্তি ছিলো যে ওই লোকটার বেয়াদবির শিকার হতে হয়নি আমাকে। আর আমার সৌভাগ্যের কথা শুরুতেই বলেছি, আমার মা। আরো অনেকের মতোন এই ঘটনাটা একটা বাজে স্মৃতি বানিয়ে বয়ে বেড়াতে হয়নি আমাকে, সকালে বাসায় পৌঁছে সবার আগে আম্মুকে পুরো ঘটনাটা খুলে বলে হালকা হতে পেরেছিলাম। এরপর বহু বছর তার সাথে আমাদের যোগাযোগ ছিলো না। ইদানীং টুকটাক যোগাযোগ হয় কিন্তু সেটা অত্যন্ত কাছের আত্মীয় বলেই হয়তো। তবে যে কয়েকবার তার সাথে দেখা হয়েছে তার চোখে এক প্রবল অনুতাপ আর লজ্জা দেখেছি।

এখন তো অনেক বড় হয়ে গেছি। একা একা পথ চলতে শিখেছি। পথ চলতে, বাসে গাড়িতে সৌভাগ্যক্রমে এখন অব্দি আমি নিজে হয়রানির শিকার হইনি তবে আমার সামনে অন্য কোনো নারীর অপমান হতে দেখলেও চুপ করে থাকতে পারি না। মহিলা সিটে কোনো মহিলার গায়ে গা লাগিয়ে বসা পুরুষটিকে ওই মহিলা কিছু না বললেও আমি বলি ভাই একটু সরে বসেন।  একবার প্রেসক্লাবের সামনে দুই বদমাশ লোককে জুতো দিয়ে পিটিয়ে ছিলাম নোংরা কথা বলার জন্য। এই যে একা একা চলি, রাস্তায় কেউ বাজে মন্তব্য করলে ঘুরে দাঁড়াই এই সব কিছুর ক্রেডিট এক বাক্যে আমার মায়ের যিনি ছোট বেলায়ই শিখিয়ে ছিলেন কেউ আমাকে চব্বিশ ঘন্টা পাহারা দিবে না, নিজের আত্মরক্ষাটা নিজেকেই করতে হবে। যিনি শিখিয়েছিলেন নিজের সাথে হোক কিংবা অন্যের সাথে। কোনো অন্যায়ই ভয় পেয়ে কিংবা লোকলজ্জায় চুপ করে থাকতে নেই। আসলে যারা অন্যায় করে তারা আমাদের এই লজ্জা আর ভয়ের সুযোগটাই নেয়। একবার পার পায় বলেই বারবার অন্যায় করে। অধিকাংশক্ষেত্রে এই লোকগুলোই মারাত্নক ভীতু প্রকৃতির হয়। একবার এদেরকে রুখে দিতে পারলে আর অন্যায় করার সাহস পাবে না কখনো, নতুবা প্রজন্মের পর প্রজন্ম এই গল্প চলতেই থাকবে।  

 

 

 

 


  • ১১০৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

আফরোজ ন্যান্সি

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ফেসবুকে আমরা