প্রমা ইসরাত

আইনজীবী ও মানবাধিকার কর্মী

লজ্জা বিসর্জন দিতে হবে

মানসিকতা কোন পর্যায়ে গেলে, নারীদের উত্যক্তকরা, বা বিব্রত করার জন্য, এখন পাব্লিক ট্রান্সপোর্টে, কিছু অসুস্থ বিকৃত মস্তিষ্কের মানুষ, হাতে ব্লেড বা এন্টি কাটার জাতীয় জিনিস নিয়ে উঠছে। তাদের এই বদমায়েশীর ধরণ টা কি? ধরণ হচ্ছে, নারীদের পিছনের সিটে বসে, তাদের জামা কাপড় কেটে দেয়া। এতে কি হয়? এতে সেই নারীর পরনের কাপড়টি বাতিল হয় এবং নারীটির জামা টা যেহেতু পশ্চাদ্দেশ বরাবর কাটা সে চরম লজ্জা আর বিব্রতকর একটা অবস্থার মধ্যে পড়ে।

সম্প্রতি এইরকম বেশ কয়েকটি ঘটনার খবর সোশ্যাল মিডিয়াতে দেখেছি। এখন এই নতুন অত্যাচারের মানে কি? নারীরা যেন বাসে আর না চলাচল করে? মানে তারা তাহলে কিভাবে চলাচল করবে? সবার তো গাড়ি নেই, সবার তো সিএনজিতে, উবারে, রিক্সায় চলার টাকা নেই। একজন ছাত্র, সে কিভাবে নানান সময়ে চলাচল করবে?

পাবলিক ট্রান্সপোর্টে এমনিতেই পুরুষের গুতাগুতির শেষ নেই। গুতা খেয়ে যারা চুপ করে থাকে না, চিৎকার করে ওঠে, তাদেরকেও থামিয়ে দেয় বাসের যাত্রীরাই, এমনকি নারী যাত্রীরা। কারণ এই ইস্যু খুব শরমের, আর এটা নিয়ে প্রকাশ্যে চিল্লাচিল্লি করা আরো শরমের। শুধু শুধু কেওয়াজ কইরা লাভ টা কি? তার উপর এখন গোঁদের উপর বিষ ফোঁড়া এই জামা কাপড় কেটে দেয়া। 
এতো রাগ! এতো ঘৃণা! এতো বিদ্বেষ নারীর প্রতি!

ট্রায়াল রুমে ক্যামেরা ফিট করে রাখা, ম্যাসাজ পার্লারে ক্যামেরা ফিট করে রাখা, আর এখন নতুন সংযোজন জামা কাপড় কেটে দেয়া। এবং ম্যসেজ গুলো কিভাবে সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রচার করা হচ্ছে?
“সাবধান, আপনার সাথেও হতে পারে এমন” মানে একটা আতংক বার্তা।

কেনো! ম্যাসেজ টা এইভাবে লিখেন, যে রাজধানীর পাবলিক ট্রান্সপোর্টে নতুন বদমায়েশদের আগমন, ধরতে পারলে তার চামড়া ছুলে দিবেন। 

মানুষের খেয়ে দেয়ে এতো ফ্রি সময়, যে তারা এই জান কয়লা করা জ্যামের নগরীতে ধাক্কাধাক্কি করে বাসে উঠে, আর হাতের ধারালো জিনিস দিয়ে সামনের সিটের বসা নারী দের জামা কেটে দেয়। এই বদমায়েশ দের জন্য আতংকিত হওয়ার কিছুই নেই, বড়জোর মন খারাপ হবে, ক্রোধ হবে কারণ আপনার পছন্দের জামাটি হয়তো নষ্ট হবে। 

আমি বলি আমাদের কি করতে হবে। আমাদের সবার প্রথমে যে টি করতে হবে, সেটি হচ্ছে লজ্জা বিসর্জন দিতে হবে। ডিলিট দ্যা টার্ম “লজ্জা হইল নারীর ভূষণ” 

এইরকম ঘটনা ঘটলে, বুকের ওড়না গলা থেকে খুলে পিছনে বেঁধে, থানায় গিয়ে কমপ্লেইন জানাতে হবে, তারপর যে জায়গায় যাওয়ার সেখানে যেতে হবে। নিজের কাজ শেষ করতে হবে। আর যদি ধরতে পারেন, কি করতে মন চায়, করবেন। একটুও দয়া দেখানোর কোনো প্রয়োজন আমি বোধ করি না।

নারী হইলো, মায়া, নারী হইলো মমতা, নারী হইলো লজ্জার ডিপো, মাই ফুট!

 

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।