মেনস্ট্রুয়াল কাপের ব্যবহার নিয়ে কিছু কথা

শনিবার, জানুয়ারী ৪, ২০২০ ৭:৪৯ PM | বিভাগ : আলোচিত


পিরিয়ড/ ঋতুস্রাব নারীদের জন্য প্রতিমাসের অস্বস্তির আরেক নাম। এই অস্বস্তি শুধু ব্যাথার নয়, আছে বার বার প্যাড/স্যানিটারি ন্যাপকিন পাল্টানোর ঝামেলা। তবে আমাদের দেশে প্যাড ব্যবহারের সংখ্যও খুব কম। এর প্রধান কারন দাম এবং সচেতনতার অভাব। আজকাল পিরিয়ডে মেনস্ট্রুয়াল কাপের ব্যবহারও দেখা যাচ্ছে। সংখ্যায় স্যানিটারি ন্যাপকিনের তুলনায় অনেক কম। তবে এই প্রডাক্টটি সবচেয়ে বেশি স্বাস্থ্যকর হলেও, এখনও খুব একটা জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। অনেকেরই অনেক রকমের প্রশ্ন, জিজ্ঞাসা এবং কনফিউশন আছে মেনস্ট্রুয়াল কাপ নিয়ে। বেশিরভাগ মহিলারা যদিও এখনও স্যানিটারি ন্যাপকিন ব্যবহার করেন স্বাচ্ছন্দ্যে কিন্তু স্যানিটারি ন্যাপকিনে এখন পর্যন্ত সেই পরিচ্ছন্নতা পাওয়া যায় না যা শুধু মাত্র পিরিয়ড চলাকালীনই নয়, পরেও আমাদের যোনিদেশ সুরক্ষিত রাখতে পারে। তুলনামূলকভাবে মেনস্ট্রুয়াল কাপ অনেক বেশি স্বাস্থ্যকর।

মেনস্ট্রুয়াল কাপ কী তা নিয়ে অনেকের অনেক ধরনের প্রশ্ন রয়েছে। সিলিকন বা ল্যাটেক্স রাবার দিয়ে তৈরি কাপের মতো এই বস্তুটি পিরিয়ড চলাকালীন ব্যবহার করা হয়। স্যানিটারি ন্যাপকিন বা ট্যাম্পনের মতো এটি ঋতুস্রাব শুষে নেয় না, বরং বলতে পারেন এটি ঋতুস্রাবের রক্ত স্টোর করে রাখে। মেনস্ট্রুয়াল কাপের ব্যবহারটা ঠিক কীভাবে করতে হয়, এটাও একটা বিরাট প্রশ্ন। অনেকেই ভাবেন যে, বাইরে থেকে একটা বস্তু যোনিতে ঢুকিয়ে রাখা, এটা কি করে সম্ভব কিংবা ভয়ঙ্কর ব্যাথার কারণ হতে পারে, এমন হাজারো প্রশ্ন। আবার অনেকে ভাবেন পরা তো হলো, কিন্তু যেখানে সেখানে যদি খুলে যায়?

কিছু স্টেপ ফলো করে এ কাজটি করতে পারলে, তবে বিশ্বাস করুন এরপর আর আপনি অন্য কিছু ছুয়েও দেখবেন না। স্টেপগুলো হচ্ছে :

★ সবার আগে খুব ভাল করে হাত ধুয়ে নিন।

★মেনস্ট্রুয়াল কাপটি ভাল ভাবে ভিজিয়ে নিন যাতে তা সহজেই আপনি আপনার ভ্যাজাইনায় ইনসার্ট করতে পারেন।

★কাপটিকে একটু ভাঁজ করে নিজের যোনির ভিতরে প্রবেশ করান এবং আঙ্গুল দিয়ে দেখে নিন যে ভিতরে গিয়ে কাপটি খুলে গেছে কি না, যদি না খুলে থাকে তাহলে কাপটি বাইরে বেরিয়ে আসতে পারে এবং রক্তও গড়িয়ে পড়তে পারে। যদি দেখেন কাপটি ভালভাবে বসেনি, তাহলে একবার বের করে আর একবার প্রবেশ করান।

★হাঁটু গেড়ে বসে এবং কাপটিকে একটু কাত করে ভ্যাজাইনাতে প্রবেশ করান।

★যখন মনে হবে যে কাপটি রক্তে ভরে গেছে তখনও আবার বসুন এবং ধীরে ধীরে কাপটি বাইরে বের করুন। কাপের নিচের দিকে সরু যে জায়গাটি তা ধরে টানলেই খুলে আসবে।
★একবার কাপটি ভাল করে ধুয়ে নিন এবং পুনরায় ব্যবহার করতে পারবেন।

★পিরিয়ড শেষে ভাল করে গরম জলে কাপটি ফুটিয়ে রেখে দিন এবং পরের মাসে আবার ব্যবহার করুন।

মেন্সট্রুয়াল কাপ (ছবিঃ ইন্টারনেট)

মেনস্ট্রুয়াল কাপের ব্যবহারের ফলে আমরা কী ধরনের সুবিধা পেতে পারি, আসুন তা জেনে নি।

★ বলতে পারেন এটি ওয়ান টাইম ইনভেস্টমেন্ট। অর্থাৎ একবার একটি মেনস্ট্রুয়াল কাপ কিনলে তা ১০ বছর অবদি ব্যবহার করা যায়।

★ মেনস্ট্রুয়াল কাপ পরিবেশ বান্ধব। ট্যাম্পন বা স্যানিটারি ন্যাপকিন মাটিতে মিশে না, ফ্লাস করাও যায় না আবার আগুনে পোড়ানো সাংঘাতিক ক্ষতিকর। কারণ, এতে তুলো আর এক ধরনের সিলিকা জেল থাকে যা পরিবেশের জন্য ভয়ঙ্কর।

★ একবার মেনস্ট্রুয়াল কাপ পরে নিলে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘন্টার জন্য নিশ্চিত।

অনেকের কাছে হয়তো শুরুর দিকে একটু আধটু সমস্যা মনে হতে পারে, যা খুবই সাময়িক। যেমন:

★ প্রথমদিক ঠিকমতো প্রতিস্থাপনে অসুবিধা হতে পারে।

★কাপটি প্রতিবার গরম জলে ধুয়ে স্টেরিলাইজ করতে হয়, যা অনেকের কাছেই ঝামেলা মনে হতে পারে।

★যদি আপনার যোনিপথ বা ইউটেরাসে কোনো সমস্যা থাকে তা হলে মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যাবহারের আগে ডাক্তারের পরামর্শ নিয়ে নিবেন।
★খুব শুচিবাই গ্রস্থ হলে এটি ব্যবহারে অসুবিধা হতে পারে, কারণ প্রতিবার কাপটি খোলার সময় ঋতুস্রাবের কিছু রক্ত হাতে লাগতে পারে।

এই ছোটখাট অসুবিধা ব্যতীত তেমন কোনো অসুবিধা মেনস্ট্রুয়াল কাপ ব্যবহারে নাই। তাই আমার মতে আধুনিক নারীদের এটি ব্যবহারে সচেষ্ট হওয়া উচিৎ, পাশাপাশি অন্যদেরও সচেতন করা উচিৎ। সকল স্তরে মেনস্ট্রুয়াল কাপের ব্যবহারের প্রতি সজাগ করার পাশাপাশি কাপড়, স্যানিটারি ন্যাপকিন কিংবা ট্যাম্পনের ক্ষতিকর দিকগুলোও তুলে ধরতে হবে। সেই সঙ্গে খরচের প্রসঙ্গটাও জানাতে হবে, কারণ একটা মেনস্ট্রুয়াল কাপ যত্ন নিয়ে ব্যবহার করলে প্রায় ১০ বছর পর্যন্ত খুব সহজেই ব্যবহার সম্ভব।


  • ৪৬৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

কৃষ্ণা দাস

সমাজ সচেতন লেখক।

ফেসবুকে আমরা