কখন যে আমি খানকি হইয়া গেলাম বুঝলামই না আফা

শুক্রবার, মে ১৫, ২০২০ ১২:২৩ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


 
সারা রাত নানান ধরনের জিজ্ঞাসাবাদ আর অনেক ঘটনার পর যখন চোখ বন্ধ করলাম ততক্ষণে ভোর হয়ে গেছে। ভোরের ঠান্ডা হাওয়া চোখে লাগানোর জন্য জানালার কাঁচটা নামিয়ে রাখলাম। ভোরের আলো ফুটতে না ফুটতেই আমরা মোটামুটি চলে এসেছি। সারা রাতের ক্লান্তিতে কখন চোখ বন্ধ হয়ে গেলো টেরই পেলাম না। চোখ খুললাম গাড়ির ধাক্কায়। কি যেন একটা চোখে পড়লো। এক ঝাঁকিতেই একদম উঠে বসলাম। চোখ চলে গেল শান্ত পশুর নদীর দিকে।
 
এই আমার ছেলে বেলার স্মৃতির নদী। অবশ্য আমি এটাকে মেয়ে বেলাই বলি। কলসী নিয়ে কত যে সাঁতার কেটেছি এই নদীতে! এ মাথা থেকে ও মাথা অবধি কত দিন সাঁতার কেটেছি! আনমনে ছেলে অথবা মেয়েবেলা থেকে ফিরে এলাম ফেরি ঘাটে, ফেরির ইঞ্জিন ড্রাইভারের ডাকে। সে আমার কাছে গাড়ির পাস চায়। কিসের পাস? সে বললো পাস ছাড়া গাড়ি ওপার যাবে না। মাথায় বাজ পড়লো আমার। সারারাত রাস্তায় কোথাও কেউ এমন কথা বললো না। আর বাড়ির পাশে এসে এই ছেলে কিনা এত বাজে ভাবে কথা বলে? গাড়ি নষ্ট হয়ে তিন ঘন্টা রাস্তায় আটকে থেকেও এতটা বিরক্ত হই নি বা কষ্ট পাই নি, এই ছেলের ব্যবহারে যেটা পেয়েছি। যাইহোক, তাকে বললাম সবটা। রাস্তায় আমাদের গাড়ির কী হলো। ইউ এন ও'র কাছ থেকে আমাদের এক্সট্রা পারমিশন নেয়া ছিলো গাড়িটা ফেরি পার করার জন্য। কিন্তু এক্সিডেন্টের কারণে গাড়িটাই পাল্টাতে হয়েছে তাই গাড়ির নাম্বারও পাল্টে গেছে, তাকে বললাম সবই। এবার সে টাকা চাচ্ছে। বললো, টাকা না দিলে ছাড়বে না। তাকে ৭০০ টাকা দিতে হবে। এত ছোট নদী আমি সাঁতার দিলে দুই মিনিটে ওপার চলে যাই। আর আজ এসেছি মানব সেবা করতে, যেখানে পাস নেয়াই আছে সেখানে সে এত কথা বলছে।
 
অনেক কষ্ট করে মেজাজটা কন্ট্রোল করে টিমের বাকি তিন সদস্য তাকে বোঝাতে সক্ষম হলো। গাড়ি নিয়ে ফিরে যাবার সময় পাস/টাকা দেয়ার শর্তে সে আমাদের গাড়ি পার করলো। পার হয়ে দুই কিলোমিটার রাস্তা এগিয়ে একটা বাজারে এসে থামলাম। সেখানে আমাদের পিক করলেন এলাকার ৫ নং ওয়ার্ড এর মেম্বার ফিরোজ সাহেব। ভদ্রলোক বেশ দ্বায়িত্ব নিয়ে ১০৫ টি প্যাকেট করে রাখলেন। আমরা নাস্তা করেই খাবারগুলো বিতরণ করে দিয়ে রওয়ানা হবো খুলনার উদ্দেশ্য। ফিরোজ সাহেবকে জিজ্ঞাসা করলাম, খাবারগুলো কখন দিবো? আর তাদের ঘর-বাড়ি কোনগুলো? এবার উনি যা বললেন তাতে আমি বেশ অবাক হলাম। উনি বললেন আপা, ওনাদের এখানে কই পাবেন? ওনারা তো আলাদা থাকে। সেটা তো একটু দূরে। ওইখানে সাধারণ মানুষ কেউ যায় না। তাহলে আমরা কিভাবে যাবো, জানতে চাইলাম।
 
উনি বললেন, গতকালের টানা বৃষ্টিতে রাস্তায় কাদা হয়ে গেছে। ভ্যানে যাওয়া যাবে না। ট্রলার ভাড়া করতে হবে। মোংলা মেইন পোর্টে আমার বাড়ি। নদীর ঐ পাড়টা আমার বড্ড চেনা। এইদিকটায় আসা হয় নি কখনো। এতক্ষণ আশেপাশের লোকজন কেমন যেন অদ্ভুত ভাবে আমাদের দেখছিলো। যখন তারা বুঝলো প্যাকেট করা খাবারগুলো যাবে সেই তথাকথিত নিষিদ্ধ পল্লীতে, আশপাশটা কেমন যেন খালি হয়ে গেলো। এখন আর কেউ তাকাচ্ছে না। বুঝলাম না কেনো। যাইহোক, খাবারের প্যাকেটগুলো নিয়ে ট্রলারে উঠলাম। এলাকাটা এমন ভাবে বিভক্ত করা যেটা দেখলে অবাক হতেই হয়। যেখান থেকে যৌনপল্লী শুরু সেখান থেকে ঠিক মিনিট পাঁচেকের পায়ে হাঁটা রাস্তার মাঝে আর কোনো ঘর-বাড়ি নেই। কেমন যেন আলাদা একটা এলাকা। ট্রলার কাছাকাছি চলে আসতে না আসতেই রাজিয়া আপা, এখানকার নেত্রী, সামনে এলেন। পরিচয় দিলাম যে এতদিন আমিই তার সাথে কথা বলছিলাম। নদীর পাড়েই সামান্য জায়গায় মাটির সাথে লাগানো কিছু ঘরে বসত প্রায় ১০০ পরিবারের। এই পল্লীর প্রতিটি পরিবারের কোনো না কোনো সদস্য যৌন বৃত্তিতে লিপ্ত।
 
সবাইকে আগেই বলেছিলাম মাস্ক পরতে। সো কারোই চেহারা দেখা যাচ্ছে না। এখানে বেশিরভাগ মহিলারই বয়স ৪৫ এর বেশি। হাতে গোনা ২০-২২ টা মেয়ের বয়স ১৮-২৫ বছর, বাজারে যাদের চাহিদা আছে। বয়সের ভারে শরীর হয়তো নুয়ে পড়েছে কিন্তু পেট তো আর বাধা মানে না। তাই বাধ্য হয়েই কেউ পাশের হোটেলে পানি টানে, কেউবা জাল টেনে পশুরের বুকে মাছ ধরে। এমনকি নদীতে গুনও টানে। মাঝে মাঝে কেউ ধরে পোনা মাছ। আর যে ঘরে যুবতী মেয়ে আছে হয়তো সে ঘরে রান্না করেই চলে কারো জীবন। কারো মুখ আমি দেখতে পাই নি একমাত্র রাজিয়া আপু ছাড়া, কিন্তু সবার চোখ দেখেছি। সে চোখ কোনো কিছু না বলেও যে কত কথা বলে তা আমি কাউকে বোঝাতে পারবো না। অভাব! মানুষের অভাব এত!! এত সাধারণ মানুষের জীবন প্রণালী!! 
এমন এক জায়গায় তাদের বসবাস..  একপাশে উত্তাল পশুর আর অন্য পাশে মানুষের ঘের। সেখানে বিভিন্ন মাছের চাষ হয়। দুদিকেই পানি আর পানি। খদ্দেররা আসে নৌকায় করে। কাজ শেষ করে সেই বাঁধা নৌকায় করেই আবার ফিরে যায়। সবার প্রয়োজনে ব্যবহৃত হয় কিন্তু স্বীকৃতিটুকু নাই। নিষিদ্ধ রাস্তার বঞ্চনাটুকুই শুধু আছে জীবনে এদের, বিলাসিতাটুকু নাই, ঠাঁই নাই কোথাও। এই পল্লীর বাসিন্দারা আসলে কূল হারা মানুষ। এপারে ওপারে কোনো পারেই ঠাঁই নেই। কখন যে চোখ ভিজে এলো বুঝতেই পারি নি। 
 
"আফা, সাবধানে পা ফেলেন। পড়লে একদম শেষ"। ড্রাইভারের গলার শব্দে চেতনা ফিরে পেলাম। 
 
আরে আপনি সারারাত ড্রাইভ করেছেন, আপনাকে না ঘুমোতে বললাম! এখানে কেনো এসেছেন? 
 
উত্তরে তিনি বললেন "আফা খারাপ জায়গা কোনোদিন দেখিনাই তো, তাই আইলাম দেখতে। এ জায়গাটা কেমন, তাই"। 
 
তো কী দেখলেন? 
 
হেইডা পরে কই। ঢাকায় এত গরিব মানুষ থাকতে আফনে এহানে আইছেন ক্যান? মাইনষের কি অভাব?
 
কি বলবো বুঝলাম না। আসলে মামুন ভাই, ঢাকায় অন্যের উপকার করার মানুষের অভাব নাই সেটা ঠিক কিন্তু এই মানুষের ঘরে খাবার পৌঁছাতে কেউ আসবে না। তাই আসা। 
 
আফেনেরে যে লোকে খারাপ কইবো, মাইয়া মানুষ এইরকম খারাপ জায়গায় কেনো আসছেন? 
 
আসলে কি জানেন? আমার গায়ে অনেক গন্ধ, ছোটবেলা থেকেই। তাই এখন আর ভয় পাই না। আপনি ট্রলারে করে চলে যান, ঘুমান। সারাদিন ড্রাইভ করতে হবে। আমি ত্রাণ দেয়া শেষ করে আসছি।
 
কিন্তু দেখা গেলো ড্রাইভার নাছোড়বান্দা। যাবেই না। ভাবলাম থাকুক তাহলে, রং দেখুক। যদিও রংয়ের চাইতে যে এখন ওর ক্ষুধার তাড়না অনেক বেশি সেটা ওর চকচকে চোখ দেখেই বোঝা যায়। বেটা মামুন মিয়ার অসময়ে আসা হয়ে গেছে। রাজিয়া আপা ডেকে বললেন আপা ঐ ঘরটাতে একটু ফ্যান ছাইড়া বসেন। সারা রাত অনেক কষ্ট করছেন। আমি গেলাম। বসলাম। ঘরটা খুব সুন্দর। আগের দিনের সিনেমার হিরোদের বড় বড় পোষ্টারে ঢাকা। মিষ্টি আপা পানি দিলেন খাবার জন্য। চোখেও একটু ঝাপ্টা দিলাম। ড্রাইভারও দরজার পাশে দাড়ানো। ড্রাইভারের বয়স খুব বেশি না ২৫-২৬ হবে। চোখে দারুন বিস্ময়! সারা রাত এই বেটা আমাকে চোখ দিয়ে গিলেছে আর এখন এখানে! কী আর বলি..
 
মিষ্টির চোখের কিনারায় একটা অনেক পুরোনো দাগ। মাস্ক এর বাইরে থেকে ও দেখা যাচ্ছে।
 
কী হয়েছিলো? 
 
আফা জামাই মারছিলো। 
 
শুকানোর পরেও ঘা টায় এমন দাগ, কাটা অবস্থায় কী ছিলো তাই ভাবছি। 
 
আচ্ছা, এই পথে আসলে কেনো? 
 
আফা কী আর কমু, জামাই খানকির পোলায় আছিলো একটা মাদারচোদ। নেশা করতো, গাজীপুর থাকতাম আমরা। এট্টা পোলা। ৫ বছর। সবই ভালো আছিলো কিন্তু নেশা ধইরা সব শ্যাষ। একদিন নেশা কইরা আমার ঘরে অন্য বেটা ঢুকাই দিছে। আমারে জোর কইরা নষ্ট করছে। এক দিন করছে করছে, কিন্তু এরপর আমার জামাই পেরায় দিনই নেশা করতো আর টাকা না থাকলে জহন তহন অই বেডা রে আমার ঘরে ঢুকাইতো। কী কইতাম, আশে পাশে বেশ্যা নাম হইলো আমার৷ পোলাডার দুধের টাকা নাই। পরে আমি নিজেও পাশের বাসার একজনের লগে মেলামেশা করছি। কখন যে আমি খানকি হইয়া গেলাম বুঝলামই না আফা। 
 
পরিবেশটা কেমন যেন ভারী হয়ে গেলো। বেড়ার এক ফাঁকে ছোট্ট করে একটা ওয়ালম্যাটে লেখা, 'ভুলনা আমায়'। নিয়তির কি এক নিষ্ঠুর বিদ্রুপের মতো লেখাটা ঝুলে আছে এই ঘরে, এই বিছানার ওপরে। কেউ কি আসলেই কোনোদিন মনে রাখে মিষ্টিদের কথা? ড্রাইভারের দিকে তাকালাম, দেখি তার চোখে জল। কিছুই বললাম না। আসলে এইসব মানুষের জীবনে কোনো কূল নাই, গন্তব্য নাই, পাড়ে ফেরার তাড়া নাই, নাই কোনো স্বপ্ন। কেবলই এক উদ্দেশ্যবিহীন ক্লান্তিকর পথচলা। যেন শুধু চলতে হবে জন্যই চলা, নিজেকে টেনে নিয়ে বেড়ানো। এমনই ১০০ মিষ্টির বসবাস এখানে। যাদের মনের ভেতর সবসময় জেগে থাকে দুইটা শব্দ, 'ভুলনা আমায়'। কিন্তু কে মনে রাখে?
 
তাহিদের ডাকে ঘর ছেড়ে ডিস্ট্রিবিউশন রুমে গেলাম। সব রেডি। একজন একজন করে টোকেন নিয়ে আসলেন আর আমরা খাবার দিলাম। চামড়া ঝুলে যাওয়া মানুষ। এত মায়া হচ্ছিলো। জবেদা খালা, প্রায় পঞ্চাশ বছর বয়স তার। খালাকে জিজ্ঞাসা করলাম,
কেউ নেই? 
এক ছেলে আছে। বিয়ে করেছে। 
 
আপনাকে দেখভাল করে না?
 
খালা কান্না জুড়ে দিলেন। পরে একটু ঠিক হয়ে বললেন, বেশ্যা নিয়ে নাকি এক হাঁড়িতে ভাত খাওয়া যায় না। ছেলের বউ পরিস্কার জানিয়ে দিয়েছে। অথচ এই বেশ্যাবৃত্তি করেই ছেলেকে মানুষ করেছি। 
 
কিছু বলার মতো ভাষা খুঁজে পাই না আমি আর। ড্রাইভার আমার সাথেই, আগাগোড়া। এমন হাজারও মিষ্টি আর জবেদা খালাদের গল্প মিশে আছে এই নিষিদ্ধ পল্লীর দেয়ালে দেয়ালে। যেটা বলতে শুরু করলে রাতও শেষ হয়ে যাবে। বিলিবন্টন শেষ, এবার ফেরার পালা। নদীর পাড় ধরে হাঁটছি। নদীটা পার হলেই ঠিক এক কিলোমিটার পর আমার ঘর। মা কি এই মুহুর্তে বসে আছে ঘরের দরজায়? হঠাৎ মনে হলো মাকে আমি দেখতে পাচ্ছি। সেই যে পাড় অলা সবুজ ছাপার শাড়িতে মাকে যেদিন শেষ দেখেছিলাম, সেই ছাপার শাড়িটা পরে মা কি দাঁড়িয়ে আছে নদীর পাড়ে? কিন্তু কী পরিচয়ে ফিরব আমি? সামনে হাজারটা প্রশ্নের বান। চোখ আর এবার বাধা মানে না কিছুতেই। হুহু করে বইতে শুরু করে। বুকের ভেতরটা টনটন করে ওঠে আমার। ভেতরে কিছু একটা ছিঁড়ে-খুঁড়ে যায়। চিৎকার করে কাঁদতে ইচ্ছা করে আমার। 
 
ড্রাইভার মামুন বললো, আপা কাইন্দেন না। আপনি আসলেই অনেক ভালো মানুষ। এইবার আমি বুঝছি, এইসব মানুষের জীবনে অনেক কষ্ট। 
 
আসলে কী বলবো ড্রাইভারকে? ওকে কি আমি বোঝাতে পারব কী হচ্ছে ভেতরে আমার?
৮ টা বছর আমি মাকে দেখি না। এত কষ্ট করে, এত ঝুঁকি নিয়ে এত কাছে এসেও আমাকে ফিরে যেতে হচ্ছে খালি হাতে। আজ আমি বুঝলাম আমাদের কারো জীবনেরই কূল নাই। পাড় নাই। রাজিয়া আপা, মিষ্টি আপা, জবেদা খালা আর আমার যাপিত জীবনের প্রেক্ষাপট ভিন্ন হলেও বাস্তবতার ঢেউ ঠিক একই রকম। সব কিছু থেকেও আজ কিচ্ছু নেই। গাড়ি আবার চলে পশুরের পাড় বেয়ে আর আমার চোখ শুধু বার বার খোঁজে সেই পাড় অলা সবুজ শাড়ি পড়া এক মাঝ বয়সী মুখ, আমার মায়ের মুখ। নদী শেষ হয়। আমিও আবার চোখ মুছি, সমস্ত দুঃখ রূপসায় বিসর্জন দেয়ার বৃথা চেষ্টায় শুন্য হাতে আবার শুন্য ঘরে ফিরি।
 
 

  • ৬৮৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

তাসনুভা আনান

মানবাধিকারকর্মী, অভিনেত্রী

ফেসবুকে আমরা