ব্লু হোয়েলের গহ্বরে কিশোর সমাজ

রবিবার, অক্টোবর ৮, ২০১৭ ৭:৪০ PM | বিভাগ : আলোচিত


কয়েক মাস আগে ভারতের এক বন্ধু তার টাইমলাইনে এক ভয়াবহ অভিজ্ঞতার কথা লিখেছিলেন। নিজের ঘরের প্রথম শ্রেণীতে পড়ুয়া ছোট্ট মেয়েটি, স্কুল থেকে বাড়িতে এসে বাড়ির সব ডিভাইসে এক গেইম ডাউনলোড করার চেষ্টা করছিল। কোনো একটা অথরাইজেশনের দরকার থাকায় সে যখন একা পারছিল না তখন বাড়ির বড়দের সাহায্য নিতে আসলে বিষয়টি সামনে আসে। গেইমটির নাম 'ব্লু হোয়েল'। কিভাবে সে এই গেইম সম্পর্কে জানে, জিজ্ঞেস করতেই বললো স্কুলের গাড়িতে তার থেকে দুই ক্লাস বড় ভাইয়ারা বলেছে। এই বাচ্চাটির বয়স ছিল পাঁচ বছর।

বর্তমান বিশ্বের আতঙ্ক এখন একটি অনলাইন গেইম নিয়ে। যার নাম ‘ব্লু হোয়েল চ্যালেঞ্জ’। এই খেলার জন্ম হয় রাশিয়ায়। গেইমটির প্রস্তুতকারক ২২ বছরের তরুণ ফিলিপ বুদেকিন। সে বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিতাড়িত মনোবিজ্ঞানের ছাত্র। ২০১৬ থেকে গেইমটি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়তে থাকে। এই গেইমটি ৫০ দিনের একটি সিরিজ। এডমিনিষ্ট্রেটররা গেইমটির প্রতিটা টাস্ক নির্ধারণ করে দেয়। সেগুলো খুবই ভয়ানক এবং সাহসিকতাপূর্ন। প্রতিটা টাস্ক শেষ করে তার ছবি প্রমাণস্বরূপ এডমিনিষ্ট্রেটরদের কাছে পাঠাতে হয়, তারপরে তারা পরবর্তী টাস্ক দেয়। এই টাস্কগুলো এতই ভয়াবহ যে কোনো কোনোটিতে নিজের হাত ছুরি দিয়ে কেটে হোয়েল আঁকতে বলা হয়। আর খেলার সবশেষ সাহসিকতার টাস্ক শেষ হয় আত্নহত্যার মধ্যে দিয়ে। গেইমটির টার্গেট গ্রুপ সাধারণত কিশোর বয়সের ছেলেমেয়েরা। এ পর্যন্ত এক রাশিয়াতেই এই গেইমের কারণে আত্নহত্যা করেছে ১৩০ জন ছেলেমেয়ে। গেইমটির প্রস্তুতকারক ছেলেটির তিন বছরের জেল হয়েছে। পুলিশের কাছে স্বীকারোক্তিতে সে বলেছে, 'যারা এই গেইমের কারণে আত্নহত্যা করবে তারা 'বায়োলজিক্যাল ওয়েস্ট', তাদের বেঁচে থাকার কোনো অধিকার নেই। সে সমাজ সংস্কারের কাজ করছে'।

আতঙ্কের বিষয় হচ্ছে গেইমটি সারা বিশ্ব ছড়িয়ে পড়ছে এবং এর ইফেক্ট ও ভয়ঙ্করভাবে মৃত্যুর মধ্যে দিয়ে শেষ হচ্ছে।

দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলো গত কয়েকমাস ধরে এই আতঙ্কে কাঁপছে। কয়েকদিন আগে সে লিস্টে যোগ হয়েছে বাংলাদেশ।

ইংল্যান্ডের একটি সংবাদপত্রে সংবাদ প্রকাশ হয়েছে, স্কুল কর্তৃপক্ষ ছাত্রছাত্রীদের বাবা মাকে সতর্ক করছে এই গেইম এবং এর ভয়াবহতা সম্পর্কে। খুবই ভয়াবহ ব্যাপার হলো ইউকেতে সাত বছরের বাচ্চাদের মধ্যে ও এর প্রকোপ পাওয়া যাচ্ছে। এমনকি আরও ছোট বাচ্চারাও এই গেইমটির নাম জানে। একটি জাতিকে ধ্বংসের জন্য আর কিছুর কি প্রয়োজন আছে!

সবচেয়ে গুরু দায়িত্ব এই মুহূর্তে প্রতিটা বাবা মায়ের। এই টেকনোলজির যুগে, সন্তানদের হাতে স্মার্ট ফোন, ট্যাব, গেমস না চাইলেও দিতে হয়। সন্তান এক কোনায় বসে নিজের মতো করে গেইম খেলছে কাউকে বিরক্ত না করে, এতেই বাবা মা সন্তুষ্ট। বাবা মায়েদের চোখ, কান খোলার সময় বোধহয় এসেছে। নিজের সন্তানকে এই মৃত্যু ফাঁদ থেকে বাঁচাতে হলে, সন্তান তার স্মার্ট ফোনটিতে কী খেলছে সেদিকে সময় থাকতে নজর দিন, প্লিজ, নাহলে আপনার উদাসীনতা আপনার নিজেরই ক্ষতির কারণ হবে হয়তো।।

 


  • ১২৩৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

আসমা খুশবু

ইংরেজি সাহিত্যে এম এ, করা আসমা খুশবু ফ্রিল্যান্স লেখালেখি করতে ভালবাসেন।

ফেসবুকে আমরা