কেয়া তালুকদার

কবি ও প্রাবন্ধিক কেয়া তালুকদারের তিনটি কবিতার বই বের হয়েছে; "পূর্ণতা ফিরে এসো", "ছায়ামানব" এবং কলকাতার কবি মোনালিসা রেহমান'র সাথে যৌথ বই ভালোবাসার সাতকাহন প্রকাশিত হয় ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের একুশের বই মেলায়। ২০১৬ সালে পেয়েছেন 'সমতটের কাগজ' থেকে প্রাবন্ধিক হিসাবে পুরস্কার। ১৬ বছর আন্তর্জাতিক এনজিওতে চাকরী শেষে বর্তমানে "হেঁসেল" নামে রংপুরে একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছেন। লেখকের লেখা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছে।

বিকৃত যৌনাচার এবং আনুশকার মৃত্যু

মেয়েটির সাথে ছেলেটির প্রেম ছিলো কি ছিলো না সেটা মূখ্য বিষয় না। মেয়েটির বয়স ১৭ না ১৯ সেটাও মূল বিষয় না। মেয়েটির সাথে ছেলেটির ইন্টারকোর্স হয়নি। ইন্টারকোর্সে রক্তের ক্ষরণে মৃত্যু ঘটে না। ছেলেটি একা নয়, তার আরো বন্ধুদের নিয়ে মেয়েটিকে ধর্ষণ করেছে। এটাই সত্যি।

"না মেয়েটি ধর্ষণের শিকার হয়নি, স্ব-ইচ্ছায় ইন্টারকোর্স করেছে! "এইরকম প্রশ্ন করার আগে নিজেকে একবার প্রশ্ন করে দেখেছেন যে আপনি কতটুকু জানেন?

ইন্টারকোর্স যখন হয়, মানে দুইজনের ইচ্ছায় যখন ইন্টারকোর্স হয়, তখন মেয়েদের ভ্যাজাইনাতে এক প্রকার মিউকাসজাতীয় পদার্থ সিক্রেশন হয়, যেটা ভ্যাজাইনাকে ইন্টারকোর্সের জন্য তৈরি করে, যার ফলে পেনিট্রেশান সহজ হয়। যেহেতু এটা খুবই ন্যারো একটা পথ, স্বইচ্ছায় ইন্টারকোর্সের ক্ষেত্রে কিছু হরমোনাল কারণে ভ্যাজাইনা ডিকনট্রাক্ট করে, মানে মাসলগুলো একটু রিলাক্সড হয়। এটাও পেনিট্রেশানকে ইজি করে। সম্মতি ব্যতিত অর্থাৎ ধর্ষণের ক্ষেত্রে এসব কিছুই হয় না। ভ্যাজাইনা কনট্রাক্টেড হয়ে যায়, মানে সংকুচিত হয়ে যায়। তখন ফ্রিকশনে ভ্যাজাইনার ভিতরের ওয়াল যেটা খুবই ফিবল-আঘাতপ্রাপ্ত হয়, ক্ষতের সৃষ্টি হয়। 'ইন্টারকোর্সে' মৃত্যু ঘটার মতো ব্লিডিং কখনো হবে না। মৃত্যু ঘটার মতো ব্লিডিং তখনই হবে যখন কেউ কারও উপর জোর করবে। অথবা এমন হতে পারে বিকৃত মানসিকতা নিয়ে ইন্টারকোর্স করলে পর্ন স্টাইল ফলো করলে।

কিন্তু করলে সাধারণ ইন্টারকোর্স নেচার আপনাকে হেল্প করবে। সাধারণ ইন্টারকোর্স এবং ধর্ষণের মধ্যে পার্থক্য বোঝার মতো ক্ষমতা একজন অভিজ্ঞ ডাক্তার আপনার থেকে বেশি জানে। ভুয়া কিংবা মিথ্যা খবর কিংবা নিজের মতো যে কোনো একটা স্টোরি বানিয়ে পোস্ট করার আগে বিষয়টি ভাবুন।

ছেলেটির সাথে সম্পর্ক ছিলো মাত্র ৩ মাসের, ছেলেটি ধর্ষণের উদ্দেশ্যেই মেয়েটিকে ডেকেছিলো আর ধর্ষণের আগে চেতনানাশক খাওয়ায়। ছেলেটি তার জবানবন্দিতে স্বীকার করেছে। তাই ছেলেটির পক্ষে সাফাই গাওয়ার আগে ভাবুন শুধু মেয়ের একক দোষ দিচ্ছেন না তো। দোষ উভয়ের আছে কিন্তু এখানে মেয়েটি ধর্ষণের স্বীকার হয়েছে।

যাদের মেয়ে মারা গেছে সেই এখন বুঝতেছে সে কি হারিয়েছে। যেভাবেই ধর্ষণ হোক সেটা ধর্ষণ। আমাদের ধর্ষণের বিরুদ্ধে সোচ্চার হতে হবে কারো উপরে দোষ দিয়ে এটা অস্বীকার করার কোনো অবকাশ নাই।

মেয়েটির মা-বাবা মেয়েটি কোথায় যায় তা কেনো খেয়াল রাখলো না, তার চেয়ে বেশি ভাবুন এমন পশু যারা তৈরি করেছে তাদেরকে। দিহানের মতন তাদের ছবিও গণ মাধ্যম আর সামাজিক মাধ্যমে প্রকাশ করা হোক। লজ্জা পাক সেই ধর্ষকদের মা-বাবারা। এখন পর্যন্ত তার অন্য বন্ধুদেরকে আইনের আওতায় আনা হয়নি কারণ রিপোর্ট হতে আরো সময় লাগবে সেটি ধর্ষণ না গণধর্ষণ ছিলো?

মেয়েটির যোনী এবং পায়ুপথে অতিরিক্ত রক্ত ক্ষরণের কারণেই মৃত্যু ঘটেছিলো এটি প্রমাণিত হয়েছে। এই যে বিকৃত যৌনাচার শিখেছে পর্ণ সাইড দেখে এবং তা প্রয়োগ করেছে প্রেমের ছলনা করে মেয়েটিকে গ্রুপ স্টাডির নাম করে বাসায় ডেকে। বাসায় ছেলেটির বাবা-মা ছিলেন না। সেই সুযোগটাকে কাজে লাগিয়ে একটি তাজা প্রাণকে মৃত্যুর দিকে ফেলে দিলো। মেয়েটির বাবা-মার অভিযোগ ছেলেটির সাথে তার মেয়ের প্রেম ছিলো না। তারা তার মেয়েকে অপহরণ করে নিয়ে গিয়েছিলো। ঘটনা যেটাই ঘটে থাকুক না কেনো? অপরাধীদের উপযুক্ত শাস্তি দিতে হবে।

দেশের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ পরিবারে যৌন শিক্ষা দিতে হবে ছেলে মেয়েদের। অনেক সময় অজ্ঞতার কারণেও এমন ঘটনা ঘটতে পারে। অভিভাবকদের ছেলে মেয়েদের খোঁজ খবর রাখার সাথে সাথে তাদের বন্ধু হয়ে উঠতে হবে। যাতে তারা কোনো অপরাধ করার সাহস না দেখায়।

সর্বোপরি নারীর উপর পুরুষের মানসিকতা বদলাতে হবে। নারী পুরুষের কাছে যৌন প্রাণী হয়ে উঠার আগে তার প্রিয়তমা হোক। নারীর শরীর নয়, আগে তার মনকে ভালোবাসতে শিখুন। মন ছাড়া শরীর একটা খেলনা ছাড়া কিছুই নয়। মনো-সামাজিক আর আর্থ-সামাজিক অবস্থা বিশ্লেষণ করে বাংলা ইংরেজি মাধ্যমের ছাত্র-ছাত্রীদের শিক্ষা দিতে হবে।

1209 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।