খারাপের আঙ্গুল সবসময় নারীর দিকেই কেনো?

মঙ্গলবার, নভেম্বর ৫, ২০১৯ ৪:২৭ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


নারী পুরুষ একে অন্যকে ভালোবেসে পরষ্পরের কাছে আসে৷ যখন ভালোবাসা থাকে তখন বৃষ্টি, রোদ, মেঘ, আকাশ, পাহাড়, নদী সবই ভালোলাগে৷ একসাথে রিকসায় ঘুরতে, মুভি দেখতে, চাইনিজ খেতে, ক্যাম্পাসে বসে বাদাম খেতে, পড়াশুনার নোট বিনিময় করতে ইত্যাদি৷ রাত জেগে মোবাইলে কথা বলা যেনো নিত্যদিনের খোরাক৷ এছাড়াও ফেসবুকে অডিও ও ভিডিও কল এবং চ্যাটিংয়ের মতন মধুর সময় যেনো ফুরাতেই চায় না৷ নারী ও পুরুষ আকর্ষিত হয় একে অন্যের দেহ দেখতে৷ তারপর যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ভিডিও ধারণ৷ এটি সম্মতিতে ঘটে বা লুকিয়ে পুরুষটি ধারণ করে৷
 
এরপর আসেন ব্রেকআপের কথায়৷ যখন নারীটি পুরুষটির সাথে আর সম্পর্ক রাখতে চায় না কোনো কারণে, তখন পুরুষটি নারী দেহের ছবি এবং ভিডিও দিয়ে তাকে ব্ল্যাককমেইল করতে থাকে৷ নারীটির কাছেও যে পুরুষটির ছবি আছে সেটা কোনো বিষয় তারা মনে করে না৷ লজ্জা আর ভয় যেনো শুধু নারীর শরীর ঘিরেই আছে৷ নারীর মানসম্মান ইজ্জত চলে যাওয়ার আশংকায় নারী অনুনয় মিনতি করতে থাকে৷ কারণ অন্য কোথাও বিয়ে হলে যদি গোপন প্রেমের অভিসারের দৃশ্য ফাঁস হয়ে যায়৷ তখন তো আর সেই সংসারও টিকবে না৷ শুধু নারীকেই সংসার টিকানোর দায় বহন করতে হয়৷ হয়রানীর শিকার হতে হয় শুধু নারীকেই৷ পুরুষের কাছে নারী হয়ে যায় ভিকটিম৷ পুরুষের কখনও ইজ্জত যায় না৷ তাদের কৌমার্য হারায় না৷ তাদের সংসার টিকানোর দায় নেই৷ পুরুষরা বাদশা, পাঁচ দশটা প্রেম করতেই পারে৷
 
 
সম্পর্ক যে সব সময় চিরস্থায়ী হবে তা তো নয়৷ যদি কারো সাথে কারো না মিলে তাহলে ব্রেক-আপ তো ঘটাতেই হবে৷ সেখানে পরষ্পর শত্রু হয়ে উঠবে কেনো? সম্পর্কের তিক্ততা পরিলক্ষিত হবে কেনো?
 
নারীর যদি সতীত্ব হারানোর এত ভয় থাকে তাহলে রিলেশন জড়ালে এসব নোংরা অপসংস্কৃতিতে না মজলেই হয়৷ অথবা প্রতিবাদী হয়ে বলতে হবে আমিও সংসার ভাঙ্গার ক্ষমতা রাখি৷ আইনের সহযোগিতাও নিতে পারে৷
 
নাট্য পরিচালক ফাহমি এবং অভিনেত্রি মিথিলার চুমু দেওয়ার এবং অন্যান্য অন্তরঙ্গ ছবি ভাইরাল হয়েছে এবং ভিডিও ভাইরালের হুমকি দেয়া হচ্ছে। ছবিগুলি ফাহমির আইডি থেকেই পোষ্ট করা হচ্ছে। আইডি যদি হ্যাক হয়ে থাকে তাহলে তাদেরকে শাস্তির আওয়ায় আনতে হবে। আর যদি ফাহমি ইচ্ছে করেই মিথিলার ছবি ভাইরাল করে থাকে তাহলে তাকে আইনের আওতায় আনতে হবে। ফাহিম ব্যক্তিজীবনে মাদকাসক্ত। হয়তো মিথিলা সম্পর্কের ইতি টানতে চেয়েছিলো, তাই সে এসব করেছে। কারণ সাইবার ক্রাইম আইনের আওতায় কারো ব্যক্তিগত ছবি তোলা, সংরক্ষণ এবং ভাইরাল করা অপরাধ।
 
এদেশের সুফি নারী-পুরুষেরা মিথিলার চরিত্র হননে নোংরা মন্তব্য করে চলেছেন এবং ছবিগুলি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করছেন। কারণ মিথিলা অভিনেত্রি, ডিভোর্সী এবং এক মেয়ের মা। মিথিলা শুধু সমালোচনার পাত্রী হয়নি, মেয়েটাকে নিয়েও কথা বলা হচ্ছে যে এই মেয়েটি বড় হলে এসব ছবি, ভিডিও দেখলে তার মাকে কী ভাববে? মিথিলার ডিভোর্সের পর কয়জন তাকে শান্তনা দিতে গিয়েছিলেন? তার মেয়ের তার খোঁজ খবর রেখেছিলেন? কিন্তু যখন সে কোনো সম্পর্কে জড়িয়ে গেলো তখনই তাকে নিয়ে গুঞ্জন শুরু হয়ে গেলো। ডিভোর্সী নারী মানেই রাস্তার খোলা খাবার এমন মনে করেন অনেকে। সিঙ্গেল মাদারের সেক্স তখন ট্যাবু হয়ে যায়।
 
এই যে সুফিরা, আপনারা কি জানেন এসব ছবি ভাইরাল করা সাইবার ক্রাইম আইনে অপরাধ? কে কার সাথে সম্পর্কে জড়াবে সেটা তাদের ব্যক্তিগত ব্যাপার।
 
আবার অনেকে বলেছেন তাহসানের সিদ্ধান্তটি সঠিক ছিলো। তাহসানের পরকীয়ার গোপন ছবি ভাইরাল হয়নি বলে তাহসান এখনও সুফি পুরুষ। আর ফাহমিও সেরকমই। তাদের আর কোনো পরিচয় লাগে না। তাদের চরিত্র নিয়ে কেউ কথা বলে না। কারণ এটিই এই পুরুষতান্ত্রিক সমাজের চিত্র। সঙ্গম শেষে গোসল করলেই পুরুষরা পবিত্র। আর নারীরা নষ্টা কারণ সে পরপুরুষের সঙ্গে শুয়েছে।
 
আজ দেশে এত সুফি থাকলে ১১ টি রেজিস্টার্ড যৌন পল্লী থাকতো না। আর এখানে প্রায় এক লক্ষ যৌন কর্মী আছে। এছাড়াও ভাসমান যৌন কর্মীর সংখ্যা চার থেকে পাঁচ লক্ষ। এদের কাছে কে যায়? তারা কি সুফি গোত্রের না? অন্য কোনো গ্রহের প্রাণী? তাদের অনেকের ঘরে বউ আছে, শুধুমাত্র যৌনতার বৈচিত্র্যতা খুঁজতে এই সুফিরাই দলে দলে যোগ দেয় এসব নিষিদ্ধ পল্লীতে। রাতের আঁধারে মিটিয়ে আসে তাদের বিকৃত যৌন কামনা। সকাল হলেই তারা সুফি, অল ক্লিয়ার শ্যাম্পু দিয়ে মাথা থেকে পা পর্যন্ত ধুয়ে একদম খাঁটি মুমিন।
 
মনে হয় কোনো সুফিরা কোনোদিন কাউকে চুমু খায়নি, কারো সাথে শোয়নি। সুফিরা এখন সেসব ছবি আর ভিডিও সংগ্রহে ব্যস্ত। ফেসবুকে বিভিন্ন নারী-পুরুষদের কমেন্টগুলো পড়ে মনে হচ্ছে এরাই কোনো না কোনোভাবে যৌন পল্লীর সাথে জড়িত।
 
প্রাইভেসি ভায়োলেশন একটি ফৌজদারী অপরাধ। এর স্বীকার সবচেয়ে বেশী হয় নারীরা। নারীরাই সমাজিকভাবে হেয় প্রতিপন্ন হয়। সম্পর্কে তো দু'জনই জড়িয়েছে, তাহলে দোষের আঙুলটা কেনো শুধু মিথিলার দিকে? মানসিকতা বদলান, নারী-পুরুষরা সুফিমারানি থেকে বেরিয়ে আসুন।
 

  • ৫২৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

কেয়া তালুকদার

কবি ও প্রাবন্ধিক কেয়া তালুকদারের তিনটি কবিতার বই বের হয়েছে; "পূর্ণতা ফিরে এসো", "ছায়ামানব" এবং কলকাতার কবি মোনালিসা রেহমান'র সাথে যৌথ বই ভালোবাসার সাতকাহন প্রকাশিত হয় ২০১৬ এবং ২০১৭ সালের একুশের বই মেলায়। ২০১৬ সালে পেয়েছেন 'সমতটের কাগজ' থেকে প্রাবন্ধিক হিসাবে পুরস্কার। ১৬ বছর আন্তর্জাতিক এনজিওতে চাকরী শেষে বর্তমানে "হেঁসেল" নামে রংপুরে একটি রেস্টুরেন্ট পরিচালনা করছেন। লেখকের লেখা বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পত্রিকাতেও প্রকাশিত হয়েছে।

ফেসবুকে আমরা