ঘুমন্ত দীপ্তি বিশ্বাসের ছবি অনেকগুলো প্রশ্নের জন্ম দেয়

রবিবার, অক্টোবর ২২, ২০১৭ ২:৫৫ AM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


একজন মন্ত্রী সাহারা খাতুন যখন সংসদে ঘুমিয়ে পড়েন, তখন তাঁর ঘুমিয়ে পড়া ছবি পাবলিক হয়। সেটা সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়। হাসি তামাশার খোরাক যোগায় সাধারণ, অসাধারণ, শিক্ষিত, অশিক্ষিত সম্প্রদায়ের মধ্যে। বহুদিন চলে সেই ট্রল। এটা যে অন্যায় তা বেশিরভাগেরই মনে থাকে না।

একজন বয়স্ক মানুষ স্বাস্থ্যগত কারণে ঘুমিয়ে পড়তে পারেন। কিন্তু সহানুভূতির বদলে তাঁর রাজনৈতিক পরিচয়টি বড় হয়ে দাঁড়িয়েছিলো সেখানে। যেন রাজনীতিবিদেরা অসুস্থ হতে পারবেন না, আর সে কারণে ঘুম, সে তো অনেক দূরের বিষয়! এ বোধহয় এক অলিখিত নিয়ম!

সবচেয়ে চোখে পড়ার মতো বিষয় ছিলো একজন নারী হিসেবে তাকে আক্রমন। ফটোশপ করে অর্থমন্ত্রীর সাথে তাঁর প্রচারিত ছবিটি দেখেনি এমন মানুষ বোধহয় দেশে কমই আছে। অন্যদিকে ছবির নিচের কিছু কুরুচিপূর্ণ কমেন্ট দেখলে বোঝা যাবে মানুষ হিসেবে আমাদের অবস্থান। সেখানে একজন নারীর ব্যক্তিজীবন থেকে শুরু করে তার চরিত্রহনন সবই হয়েছিলো। এক্ষেত্রে আমরা অবশ্য একদিক থেকে সৎই আছি, তা হলো একটি দেশের নারী প্রধানমন্ত্রী থেকে শুরু করে প্রত্যন্ত অঞ্চলের ধর্ষিত মেয়েটির চরিত্র হননের ভাষা আমাদের একই। এ যেন এক ছন্দময় অর্গাজম!

স্কুল শিক্ষিকা দীপ্তি বিশ্বাসের পরীক্ষাকেন্দ্রে ঘুমন্ত ছবি ভাইরাল হয়েছে। ছবিগুলো দেখলেই বোঝা যায়, এগুলি তোলার সময় খুব বিকৃত আনন্দ নিয়ে তোলা। ক্লাসে ঘুমানো যদি শিক্ষকের অপরাধ হয় তবে তার শাস্তি নিশ্চয়ই তার অজান্তে ছবি তুলে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল করা নয়! এখানে উদ্দেশ্য তো খুব পরিস্কার, একজন নারীর পেট বের করা ছবি, বহুত আনন্দের খোরাক!

একজন ঘুমন্ত দীপ্তি বিশ্বাস অনেকগুলি প্রশ্নের জন্ম দেয়। অসুস্থ অবস্থায় একজন শিক্ষক কেনো বাধ্য হয় তাঁর কর্মক্ষেত্রে কাজ চালিয়ে নিতে?

আমাদের দেশে প্রযুক্তির সহজলভ্যতা বাড়ছে দিনদিন, কিন্তু তা ব্যবহারের জন্য কি যথেষ্ট ম্যাচিউড়িটি আমাদের আছে?

একের পর এক এর অপব্যবহারের শিকার যেভাবে নারীরা হচ্ছে তাতে করে কি এর কন্ট্রোলের প্রয়োজন এখন সময়োপযোগী নয়?

আর একজন নারীর ছবি তার অনুমতি ছাড়া তুলে তা জনসমুক্ষে তার অনুমতি ছাড়া প্রকাশ করার জন্য আইন কি চেয়ারম্যান এবং তার সহযোগীদের কোনো শাস্তির ব্যবস্থা করবে?

সংসদ ভবন অথবা শ্রেণিকক্ষে ঘুমানোর জন্য স্ব স্ব ব্যক্তির কর্মকান্ডের তদন্ত হতে পারে নিয়মের মধ্যে থেকে নিয়ম বহির্ভুতভাবে নয়। কর্মক্ষেত্রে ভুল করলে একজন পুরুষ যেসব বিচারিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে যান নারীও না হয় সেভাবেই এগুবেন। কিন্তু কোনোভাবেই নারী বলেই তার শরীর এবং চরিত্র পর্যবেক্ষণের দায়িত্ব নিয়ে নয়।।

 


  • ১৬১৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

আসমা খুশবু

ইংরেজি সাহিত্যে এম এ, করা আসমা খুশবু ফ্রিল্যান্স লেখালেখি করতে ভালবাসেন।

ফেসবুকে আমরা