জাকিয়া সুলতানা মুক্তা

সহকারী অধ্যাপক, বাংলা বিভাগ। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়।

“না” উচ্চারণকে “না” ধরতে হবে, জোর করার সুযোগ নেই

প্রবাদে আছে নারীর নাকি “বুক ফাটে তবুও মুখ ফোটে না” কিংবা “লজ্জা নারীর ভূষণ”। এইসব প্রবাদ-প্রবচন এদেশীয় সমাজ-সংস্কৃতিতে (যেহেতু প্রসঙ্গ এদেশীয় প্রেক্ষাপটের আলোকে আলোচিত হচ্ছে এখানে), নারীর মতামতের/প্রতিবাদের গুরুত্ব বা সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা কতটুকু তা বুঝিয়ে দেয়। নারী মানেই তার যেন সবকিছু মুখ ফুটে সহ্য করতে হবে। তার কোনো চাহিদার কথা সে মুখ ফুটে উচ্চারণে করতে পারবে না, যদি না সমাজ তাকে সেই কথা উচ্চারণের কোনো অধিকার দেয়। সে যতই শিক্ষিতা, স্বাবলম্বী হোক না কেনো; সামাজিক-পারিবারিক সিদ্ধান্ত গ্রহণে তার পুরুষের সমান অংশগ্রহণের কিংবা যৌক্তিক অবস্থান ব্যক্ত করার কোনো বিধিবিধান- এই সমাজের সামাজিক চর্চায় সেভাবে স্বীকৃত নয়। এমনকি আইনের কাছেও অনেক সময়েই তাদের দাবিগুলো উপেক্ষিত। এর একটি বড় উদাহরণ, এদেশীয় আইনে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ বলে কোনো কিছুর অস্তিত্ব নেই। এমনকি কোনো নারী যদি এক ব্যক্তির দ্বারা একাধিকবার ধর্ষণের শিকার হয় বা গণধর্ষণের শিকার হয়, সেসব ক্ষেত্রেও এদেশীয় আইনে মামলা নথিভুক্ত হবে একটাই, অর্থাৎ একটি ধর্ষণ মামলা। অথচ প্রতিটা নির্যাতনের বা প্রতিবারের/প্রতিজনের দ্বারা সংঘটিত নির্যাতনের ঘটনাই নিপীড়িত নারীকে মানসিক ও শারিরিকভাবে ক্ষত-বিক্ষত করে। উপরন্তু এদেশীয় সংস্কৃতিতে নারী সম্পর্কে এমন এক অদ্ভুত ধারণা চালু এবং বিস্ময়করভাবে বহু নারীদের মাঝেও এই চর্চা চালু আছে যে, নারীর “না” মানে “হ্যাঁ” আর “হ্যাঁ” মানে “না”! এই যে অবাক করা সমাজমনস্তত্ত্ব এখানে চালু ও চর্চিত, এর পেছনে উপরে উল্লেখিত সাংস্কৃতিক নির্মাণগুলোর ভূমিকা রয়েছে। এসব নির্মাণের কোনোটাই স্বতঃস্বাভাবিক ব্যক্তিমানসের সহজাত প্রবৃত্তি কিংবা নির্বাচন থেকে উঠে আসা নয়, বরং এসব সবই ব্যক্তিমানসের উপর সমাজের আরোপিত নির্মাণ। যার প্রচলন ও সমর্থন দীর্ঘ অভ্যাসের দরুণ লোকে ব্যক্তিক পছন্দ বা নির্বাচন বলে মেনে নেয়, অথচ সভ্যতার মানদণ্ডে বর্তমানকালে ও বিশ্বে এসব এখন ‘বর্বর চর্চা’ বলে বিবেচিত হয়।

সম্প্রতি একটি ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ অভিযোগের প্রেক্ষিতে, আক্রান্ত নারী কর্তৃক নির্যাতক পুরুষসঙ্গীর জীবননাশের ঘটনা আলোচনায় এসেছে। বিষয়টি আরও চাঞ্চল্যকর ও হৃদয়বিদারক এই অর্থে যে, আক্রান্ত নারী ঠিক নারী বলে বিবেচিত হওয়ার বয়সে আসেনি এখনও। অর্থাৎ সে প্রাপ্তবয়স্ক নয়; সে ১৪ বছরের এক অপ্রাপ্তবয়স্ক কন্যা। ঘটনাটি ঘটেছে ১৩ এপ্রিল, ২০২১ তারিখে রাজশাহীর মোহনপুর উপজেলার বিষহরা গ্রামে। পুলিশের প্রাথমিক জেরার মুখে আক্রান্ত মেয়েটির জবানবন্দীতে যা উঠে এসেছে, তা অত্যন্ত অমানবিক ও চিন্তাউদ্রেককারী। তার বয়ান থেকে জানা যায়- পরিবার কর্তৃক জোরপূর্বক বিয়ে দেয়ানোর মতন অন্যায় থেকে শুরু করে, তাকে সম্মুখীণ হতে হয়েছে বৈবাহিক সম্পর্কে অত্যন্ত ভীতিকর শারীরিক নির্যাতনেরও। দৈনিক ইত্তেফাকের ১৬ এপ্রিল, ২০২১-এর “ইচ্ছের বিরুদ্ধে শারীরিক সম্পর্ক করায় স্বামীকে মেরে ফেললো স্ত্রী”-শীর্ষক প্রতিবেদনে উল্লেখ আছে, 

বিয়ের পর স্বামীর যৌন চাহিদা পূরণ করতে গিয়ে অসুস্থ হয়ে পড়ে সে। গত মঙ্গলবার রাতেও স্বামী তার সঙ্গে শারীরিক সম্পর্ক স্থাপন করতে চান। তখন মেয়েটি জানায়, তার শারীরিক সমস্যার কথা। তখন স্ত্রীর গায়ে হাত তোলেন হারুন(সূত্র-স্টাফ রিপোর্টার, রাজশাহী, ১৬ এপ্রিল ২০২১)।

উক্ত ঘটনার পরবর্তী সময়ে স্ত্রী-কর্তৃক স্বামী হত্যার ঘটনাটি সম্পাদিত হয় বলে প্রাথমিক বয়ানে জানা গেছে। প্রশ্ন হলো- উক্ত সহিংসতা বা হত্যার পেছনে কতগুলো প্ররোচনা বা কারণ লুকায়িত আছে, এটা এখন ভেবে দেখার সময় এসেছে কিনা? যেকোনো সভ্য সমাজের বিবেচনায় দেখলে বলতে হয় সময় এসেছে এইসব দৃশ্যপটগুলো, অর্থাৎ সামাজিক ঘটনাগুলোকে আর ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ হিসেবে না দেখে; ‘সত্যিকারের সংকট’ হিসেবে বিবেচনা করার এবং এসবের প্রতিরোধকল্পে সুষ্ঠু কোনো সমাধানে পৌঁছাতে চেষ্টা করার। এক্ষেত্রে বৈশ্বিকভাবে আলোচিত একটা ঘটনার উল্লেখ প্রাসঙ্গিকভাবে করা যায়। সবাই অবগত যে, 

২০১২ সালে অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে ধর্ষণের মামলা হয়েছিল সঙ্গমকালে যৌনপ্রতিরোধক ব্যবহার করা না করার প্রশ্নে। সুইডেনের দুই নারী অভিযোগ করেছিলেন তাদের অনিচ্ছা সত্ত্বেও অ্যাসাঞ্জ যৌনপ্রতিরোধক ছাড়াই মিলনে লিপ্ত হয়েছিলেন। (সূত্র- বাংলা ট্রিবিউন ‘পুরনো ধর্ষণ মামলায় ফাঁসছেন অ্যাসাঞ্জ?’, ১৩ এপ্রিল, ২০১৯ : বিদেশি ডেস্ক)

উক্ত ঘটনাটি উল্লেখ করা হলো এ কারণেই যে, বিশ্বে ধর্ষণকান্ডের যে পরিসংখ্যান; তাতে চার্টের উপরের দিকের দেশ হিসেবে সুইডেনের নাম আসে। অথচ বাংলাদেশের মতন দেশ, যেখানে নারীর অধিকারের প্রশ্নে সমাজ এখনও সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধক; সেই দেশের নাম চার্টে বেশ নীচে অবস্থান করে। এটা যে একটা শুভঙ্করের ফাঁকি, তা বোঝাটা জরুরি এবং সময় এসেছে জানার যে, এই পরিসংখ্যান বাংলাদেশের মতন দেশে নারী নির্যাতন সম্পর্কে একটি ভয়ানক ভুল বয়ান রচনা করে যাচ্ছে। উল্লেখ্য প্রায়শই এই মিথ্যা প্রচারটি এদেশের আমজনতা থেকে শুরু করে, জ্ঞানী-গুণী বহু প্রাজ্ঞজনদের বয়ানেও উঠে আসে। কিছুদিন আগেও প্রাবন্ধিক ও শিশু-সাহিত্যিক অধ্যাপক জাফর ইকবালের মতন সজ্জন ও সুপরিচিত ব্যক্তিত্বের বক্তব্যের মধ্য দিয়েও, এই ধরনের ভুল প্রচারের ঘটনা সচেতন সমাজ প্রত্যক্ষ করেছে। হয়তো উনিসহ অপরাপর এদেশীয় অধিকাংশ জনগণেরই অজানা, সুইডেনের আইনে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ অপরাধ হিসেবে সভ্য অনেক দেশের মতন অন্যায় হিসেবে অন্তর্ভুক্ত। বিশেষভাবে তাদের আইনের স্বকীয় বৈশিষ্ট্য হলো- যে কেউ যতবার শারীরিকভাবে নিগৃহীত অর্থাৎ ধর্ষণের মতন অপরাধের শিকার হন, আইন মোতাবেক সেই প্রতিটির নিগৃহীত হওয়ার ঘটনায়; নিপীড়িতের সুযোগ রয়েছে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে সেসব অন্যায়ের উল্লেখ করে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে আলাদা আলাদা মামলা দায়ের করার। অথচ এদেশে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ কোনো অপরাধ বলেই গৃহীত নয়। কোনো নারী এমন অভিযোগ করলে সেটা বরং এ সমাজে, হাস্যস্পদ একটি ঘটনা বলেই বিবেচিত হবে। কিন্তু উইকিলিক্সের প্রতিষ্ঠাতা বিশ্বনন্দিত জুলিয়ান অ্যাসাঞ্জের বিরুদ্ধে সংঘটিত ধর্ষণ তথা যৌন নির্যাতনের উক্ত মামলাটির বয়ানে দেখা যায়, সম্মতির সঙ্গমের মাঝপথ সঙ্গিনী নারীর উচ্চারিত ‘না’কে উপেক্ষা করার বিষয়টিকে; সুইডিশ আইন অনুযায়ী আদালত অপরাধ হিসেবে আমলে নিয়ে, তার বিরুদ্ধে মামলা গ্রহণ করেছে। এই ঘটনার মানেটা দাঁড়ায়- কেউ যখন ‘না’ বলবে, তখন আপনাকে থামতে হবে এবং ‘না’ উচ্চারকের সেই অসম্মতিকে সম্মান জানাতে হবে। 

সভ্য সমাজ আজকাল ‘না’কে ‘না’ বলে বিবেচনা করতে শিখেছে। কিন্তু বাংলাদেশের বাস্তবতায় বিষয়টি কী রকম একটু দেখে আসা যাক। বাংলাদেশের এ-সংক্রান্ত আইন বিশ্লেষণ করে বিশেষজ্ঞদের মত অনুযায়ী উল্লেখ করা যায়, 

দণ্ডবিধির ৩৭৫ ধারা এবং এর ব্যতিক্রম থেকে আমরা বলতে পারি- বিয়ের পর কোনো স্বামী যদি তার ১৩ বছরের কম বয়সী স্ত্রীকে তার ইচ্ছার বিরুদ্ধে ধর্ষণ করে, তবে তা ধর্ষণ বলে বিবেচিত হবে এবং এই ধর্ষণকে আমরা বৈবাহিক ধর্ষণ বলতে পারি।

(সূত্র-ধর্ষণ কি? আইন, প্রতিকার ও বাস্তবতা ২০২০, এখানে ক্লিক করে দেখতে পারেন ২৭ সেপ্টেম্বর, ২০২০) 

 অর্থাৎ, আইন অনুযায়ী এখানে সরাসরি ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’-এর কোনো সংজ্ঞা নেই। আইনের মারপ্যাঁচে ১৩ বছর বয়সী কোনো কন্যাশিশুর বেলায়, এরকম কোনো শারীরিক নির্যাতনের ঘটনাকে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ হিসেবে গণ্য করানোর অস্পষ্ট একটা সম্ভাবনা থাকে বটে। কিন্তু আইন অনুযায়ী প্রাপ্তবয়স্ক কোনো নারীর জন্য, তার সাথে সংঘটিত হওয়া এরকম কোনো নির্যাতনের সুরাহা পাওয়ার; সেই সম্ভাবনাটুকুনও নেই। কিছুক্ষেত্রে অবশ্য বলা হয়ে থাকে ‘পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০’-এ ৩(গ) ধারায় উল্লেখিত, ‘Sexual Abuse’-এর অধীনে, এ ধরনের নির্যাতনের ক্ষেত্রে প্রতিকারের জন্য আবেদন করা যেতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো এই যে, সেই ধারাটিতেও এ-সংক্রান্ত নির্যাতনের প্রতিকার হিসেবে সুস্পষ্ট কোনো সমাধানের উল্লেখ পাওয়া যায় না। কারণধারাটিতে ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ বলে কোনো বিষয়ের সরাসরি কোনো সংজ্ঞার উল্লেখ নেই। ধারাটি এরকম- “যৌন

নির্যাতন অর্থে যৌন প্রকৃতির এমন আচরণও অন্তর্ভুক্ত হইবে, যাহা দ্বারা সংক্ষুব্ধ ব্যক্তির সম্ভ্রম, সম্মান বা সুনামের ক্ষতি হয়”(সূত্র-‘পারিবারিক সহিংসতা (প্রতিরোধ ও সুরক্ষা) আইন, ২০১০’ , ২০১০ সালের ৫৮ নং আইন, আইনটি এখানে ক্লিক করে দেখতে পারেন)।

অর্থাৎ এই ধারায় সমাজ-নির্ধারিত শরীরভিত্তিক যে ট্যাবু বা সংস্কার প্রচলিত, যে প্রচলনের উপর সামাজিক চর্চায় কারোর সম্মান নির্ভর করে বলে এ সমাজ স্বীকৃতি দিতে চায়; সেই সংস্কারকেই মূলত গুরুত্ব দেয়া হয়েছে। মানবিক কোনো ব্যক্তিক সিদ্ধান্তের বা মতামতের গুরুত্ব আইনের এই ধারাতে সুস্পষ্ট নয়। আবার আইন করেও সবক্ষেত্রে এধরনের অন্যায় রোধ করা যায় না। বরং এদেশীয় সমাজ মনস্তত্ত্বে এসব অন্যায়ের বিরুদ্ধে ধর্নাত্মক পরিবর্তন আনাটা জরুরি, যাতে করে লোকে এসব ঘটনাকে অন্যায় বলে বিবেচিত বা চিহ্নিত করতে শেখে। অর্থাৎ, সমাজের সেই মনস্তত্ত্ব হবে নারীবান্ধব অর্থাৎ নিপীড়িতের প্রতি সহনশীল সমাজ, যেহেতু আজতক নারীর অবস্থান এ সমাজে অনেকটাই নিপীড়িতের(অবশ্য কিছু ব্যতিক্রম থাকলেও, তা উদাহরণে এনে গণ্য করার মতন নয়)।

সবার আগে পুরুষকে ও পুরুষতান্ত্রিক চর্চার অধীন পুরুষতান্ত্রিক নারীদের বুঝতে হবে, কারোর ‘না’ মানে তা ‘না’ই হবে। সেটা কোনো পুরুষের সমাজস্বীকৃত নারীসঙ্গী অর্থাৎ বিবাহিত স্ত্রী হলেও, তার যেকোনো ‘না’কে ‘না’ বলেই গণ্য করতে হবে। শুধু তাই নয়, প্রেমিকার হলেও তার ‘না’ হবে ‘না’; নারী-পুরুষ উভয়ের সম্মতিতে শারীরিক সম্পর্কে যাওয়ার মাঝেও ‘না’-সূচক কোনো উচ্চারণ, ‘না’ বলেই বিবেচিত হবে। এমনকি কোনো নারী যৌনকর্মীর সাথে মিলিত হওয়ার ক্ষেত্রেও, তার ‘না’কে ‘না’ বলেই মানতে হবে। যেহেতু এখানে কোনো পক্ষই কোনো পক্ষের অধীনস্ত বা মালিক, কোনটাই নয়।

এছাড়াও উল্লেখ্য যে, এই পৃথিবীতে কোনো প্রাণীই কিন্তু অন্য কোনো প্রাণীর সম্পত্তি নয়। তাহলে মনুষ্য সমাজের রীতিতে, এই জঘণ্য রীতি কেনো চালু থাকবে? কারণ, কারোর বা কোনো পক্ষের মতামতকে মানবিকতা রহিত উপায়ে অগ্রাহ্য করার সাথে মূলত, উপেক্ষাকারীর কোনো অন্যায় ও অবৈধ ক্ষমতার চর্চার সম্পর্ক থাকে। অথচ পশুদের রাজ্যের দিকে তাকালে দেখা যাবে, এরকম কোনো চর্চা তাদের মাঝে সেভাবে নেই (ব্যতিক্রম আছে বটে, যেমন- ডলফিন)। তাহলে হিসেব করে দেখলে বলতে হয়- প্রাণীদের মধ্যে যে প্রাণীর চিন্তাশক্তির প্রসার সর্বোচ্চ, সেই মানুষ তার বিশাল মস্তিষ্ক খাটাতে জানলেও; কেনো তারা তাদের চর্চায় এমন বর্বর প্রথা ও মানসিকতা লালন করবে এবং তা এখনও, এই একবিংশ শতাব্দীতে এসেও? ঠিক কোন যুক্তিতে? 

সুতরাং এই নীচ চর্চাগুলোর এবার সংস্কার করার সময় এসেছে। মেনে নিতে শিখতে হবে “না” উচ্চারণকে “না” হিসেবেই ধরার। ‘না’ উচ্চারণের পর কারোর উপর কারোর জোর করার কোনো সুযোগ নেই। জোরজবরদস্তির প্রসঙ্গ যদি আসে, তবে বলতে হবে- ‘কে বলে পশু তারে, মানুষ সেইজন’। সবশেষে দাবি এই যে, ‘বৈবাহিক ধর্ষণ’ বন্ধের জন্য শীঘ্রই আইন করতে হবে। একইসাথে এসব ব্যাপারে সমাজের মান্ধাতার বর্বর সাংস্কৃতিক চর্চা বাতিল করে, ধনাত্মক সভ্য সংস্কার চালু ও লালন করায় সবার অংশগ্রহণ প্রত্যাশিত।

531 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।