একাত্তরকে বিতর্কিত করার চেষ্টা নাকি প্লাবনের পিঠ বাঁচাবার জন্য নিয়োগ?

সোমবার, মে ১১, ২০২০ ৫:৪২ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


আমরা প্রায় নিয়মিত অপরাধীদের অপরাধ গণমাধ্যমে উন্মোচনের পর দেখি অপরাধী নিজে এবং তার বন্ধুবান্ধব ও আত্মীয়স্বজন ‘মিডিয়া ট্রায়াল’ হয়েছে বলে ঝাঁপিয়ে পড়েন। বিশেষ করে যৌতুক ও নারী নির্যাতনের ঘটনায় এমনটা বলা হয় বেশি। বিশেষ করে নারীটি যখন স্বামী কর্তৃক নির্যাতিত হন, থানা থেকে আদালত পর্যন্ত মামলা করার জন্য ছোটাছুটি করেন, তখন ওই নির্যাতিতের পক্ষে দাঁড়ানো গণমাধ্যমের বিরুদ্ধে ‘ব্যক্তিগত বিষয়’ পাবলিক করার অভিযোগ আনা হয়। এখন যেমন করা হচ্ছে আমাদের সহকর্মী পারুল আপার ঘটনা নিয়ে একাত্তর টেলিভিশনের টকশো ‘একাত্তর জার্নাল’ নিয়ে।

মাঝেমধ্যে যে মিডিয়া ট্রায়াল হয়ে যায় না, তা নয়। কিন্তু প্লাবন ও পারুলের ঘটনা তা হয় নি। ধন্যবাদ একাত্তর টিভিকে, বিষয়টিকে তারা সবার আগে সবার সামনে নিয়ে এসেছেন।

সাংবাদিক রেজাউল করিম প্লাবন ও সাজিদা ইসলাম পারুল বিয়ে করেছেন এই সেদিন। বিয়ের খবরটা জেনে খুব খুশি হয়েছিলাম। প্লাবন সাহেবের সাথে চেনা-পরিচয় হয় নি। পারুল আপা তো আমাদের একান্ত প্রিয়ভাজন। শুনেছি তালাকের নামে একটি কাগজ প্লাবন ফেসবুক ও হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে ছড়িয়ে দিয়ে বিষয়টি সোশ্যাল মিডিয়ায় নিয়ে এসেছিলেন। এরপর আগে-পরের সব ঘটনা তখন সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ে। পারুল আপা নিজে লিখিত অভিযোগ আনেন ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির কাছে, মামলা করার প্রস্তুতি নিতে শুরু করেন তখন ‘একাত্তর জার্নাল’ পারুল এবং প্লাবন দু‘জনকে ডেকে আনে। পারুল আপা যখন যৌতুকের দাবিতে স্বামীর উপর্যুপরি নির্যাতন এবং মানসিক অশান্তির কারণে তার গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়ে যাওয়ার অভিযোগ আনেন, তখন বিষয়টি আর ব্যক্তিগত থাকে কিভাবে আমি বুঝতে পারছি না। ‘একাত্তর জার্নাল’ অনুষ্ঠানে ‘ব্যক্তিগত বিষয়কে গণ’ করা হয়েছে, এমন যুক্তি নিয়ে যারা মাঠে নেমেছেন, তারা হয় একাত্তরকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করছেন, নয়তো অপরাধী প্লাবনের পিঠ বাঁচাবার জন্য নিয়োগ পেয়েছেন। প্লাবনের নিয়োগ করা ওই সব লোকজন মূলত দুটি বিষয়কে সামনে আনছেন-

১. সংবাদমাধ্যমে এভাবে দু'জন সাংবাদিকের বিয়ে, ছাড়াছাড়ি আগে কখনো আলোচনা হয়নি;

২. ব্যক্তিগত বিষয় টিভির পর্দায় টেনে গণ করে দেওয়া হয়েছে।

আগে আলোচনা হয় নি বলে কখনোই হবে না, এটা তো হতে পারে না। ভিডিওটি শুনুন ( দেখতে এখানে ক্লিক করুন), সাজিদা ইসলাম পারুল স্পষ্ট করে জানাচ্ছেন, তিনি নিজে বহুবার এই ধরণের নির্যাতন নিয়ে লিখেছেন। মাঝে মধ্যে আন্দোলনেও গেছেন। তিনি নিজে যখন নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তখন সবার কাছে বিচার চাইতে এসেছেন। কেনো ‘একাত্তর জার্নাল’ এই আলোচনার অবতারণা করেছে ফারজানা রুপা তা ব্যাখ্যা করে দিয়েছেন। প্লাবনকেও ডেকে আনা হয়েছিলো তার আত্মপক্ষ সমর্থনের জন্য। শুনে দেখুন কী ধৃষ্টতা তার। বিয়ে নাকি গোপন বিষয়। গোপন না রাখলে স্ত্রীকে ডিভোর্সও দেওয়া যায়। তিনি কতো বড়ো নিধিরাম সর্দার হয়েছেন, তাকে ফোন করে কেনো কেউ কিছু জিজ্ঞেস করছে না, সেই প্রশ্ন করছেন। মনে করেছিলেন এই সব বলে পার পেয়ে যাবেন। পারুল আপা হয়তো লজ্জায় মুখ খুলবে না। যখন সাজিদা ইসলাম পারুল সব প্রকাশ করে দিলেন, তখন অনলাইন থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পালিয়েছেন প্লাবন। এখন কতিপয় দালাল নিয়োগ করেছেন, ‘একাত্তর জার্নাল’ ব্যক্তিগত গোপনীয়তা গণ করে দিয়েছে দোহাই দেওয়ার জন্য।

ফৌজদারি অপরাধ কোনো গোপনীয়তার আবরণে ঢাকার সুযোগ নেই। আমাদের ‘সমকাল’ সম্পাদক শ্রদ্ধাভাজন মুস্তাফিজ শফিও বলে দিয়েছেন, এটা ফৌজদারি অপরাধ। ‘সমকাল’ সবসময়ই নির্যাতিতের পক্ষে থাকে। তাছাড়া পারুল আমাদের সহকর্মী, আমাদের বোন। আমরা তার পক্ষে আছি।

প্লাবন যে অপরাধগুলো করেছেন, সেগুলোর একটি ভ্রুণ হত্যা দণ্ডবিধির ৩১২, ৩১৩ এবং ৩১৪ ধারার অপরাধ বলে গণ্য, যার সর্বোচ্চ শাস্তি যাবজ্জীবন, ন্যূনতম ১০ বছর। আইন-আদালতের বিষয় সেখানেই সমাধান হবে। কিন্তু যারা না বুঝে ‘একাত্তর জার্নাল’ অনুষ্ঠানে ‘ব্যক্তিগত বিষয়কে গণ’ করেছে বলে প্রচারণায় নেমেছেন, তাদের বলতে চাই, প্লাবন নামের ব্যক্তিটি মানুষ হিসেবে পারুল আপার মর্যাদা যেভাবে হরণ করেছে তার বিরুদ্ধে আবস্থান নেওয়া আপনার সামাজিক দায়িত্ব। ব্যক্তিগতভাবে আমি অপেক্ষা করছি সাংবাদিকদের সংগঠনগুলো এবং ‘যুগান্তর’ কর্তৃপক্ষ প্লাবনের বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয় সেটা দেখার জন্য। ‘একাত্তর জার্নাল’ দেখুন আমাদের সম্পাদক মুস্তাফিজ শফি জানিয়েছেন, অনেক আগেই প্লাবনের এই প্রতারণামূলক আচরণের কথা তিনি ‘যুগান্তর’ সম্পাদক শ্রদ্ধেয় সাইফুল আলমসহ উর্ধ্বতন ব্যক্তিদের জানিয়েছেন।

‘একাত্তর জার্নাল’ কোনো মিডিয়া ট্রায়াল করে নি, আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দিয়েছে, রেজাউল করিম প্লাবনের মতো লোকদের মিডিয়ায় থাকার কোনো অধিকার নেই।


  • ২৫১ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

ইজাজ আহমেদ মিলন

সাংবাদিক।

ফেসবুকে আমরা