ইমতিয়াজ মাহমুদ

এডভোকেট, মানবাধিকারকর্মী

একাধিক যোগ্যতা মিথ্যাচারকে যায়েজ করে না

মিস ওয়ার্ল্ড প্রতিযোগিতায় তো এর আগেও বাংলাদেশ থেকে মেয়েরা গেছে। চুরানব্বই কি পঁচানব্বই সনে একটা মেয়ে মিশ বাংলাদেশ হলো- এ লেভেল পাশ করে এসিসিএ না কি যেন পড়ছিল মেয়েটা ভুঁইয়া একাডেমীতে। টেলিভিশনেও দেখেছিলাম। আমার খুব কৌতূহল ছিল সুইম স্যুট রাউন্ডে মেয়েটা যখন আসবে ওকে দেখে বাংলাদেশের মানুষের কি প্রতিক্রিয়া হয় সেটা দেখার। সেটা আর হয়নি। কেন হয়নি ভুলে গেছি। সম্ভবত সেই মেয়েটা ঐ রাউন্ডের আগেই বাদ পড়ে গিয়েছিল। এনিওয়ে। কথা সেটা না।

কথা হচ্ছে চোট্টামি কোন সংগ্রামী কাজ না। জীবনের একটা পর্যায়ে সংগ্রাম করছি বলে পরবর্তীতে সারা জীবন আমার মিথ্যাচার বা অন্য সকলপ্রকার অপরাধ জায়েজ হয়ে যাবে এটা একটু অন্যায় আবদার হয়ে যায়। আর নিজের দারিদ্র্য নিজের অসহায়ত্ব এইসব নিয়ে যেমন গ্লানির কিছু নাই, একইরকমভাবে এইগুলি কোন বিশেষ যোগ্যতাও না যে এইগুলিকে আমি প্রতিযোগিতায় জেতার জন্যে আলগা স্কোর হিসাবে ব্যবহার করবো। মেয়েটা নিজের জীবনে লড়াই করেছে, সংগ্রাম করেছে, লড়ে লড়ে এই পর্যন্ত এসেছে- সে তো একটা গর্বের বিষয়। সেজন্যে স্যাল্যুট পাবে সে। কিন্তু চুরি করাটা ঠিক হয়নি।

আর এইখানে চোট্টামিটাতো হয়েছে দুই লেভেলে। এক হচ্ছে সে বিবাহিতা ছিল কিন্তু লিখেছে যে ওর বিবাহ হয়নি। আরেক হচ্ছে যে অন্যায়ভাবে চোট্টামি করে সে অন্য প্রতিযোগীদের ঠকিয়েছে। একটা হচ্ছে মিথ্যাচার, আরেকটা হচ্ছে প্রতারণা। এখন আমাকে বলেন, ওর প্রতি আমার যতই সম্মান থাক, যতই ওর লড়াই দেখে আমি আপ্লুত হই- এইগুলি কিভাবে সমর্থন করবেন?

কি ঘটেছে সেটার খুব ডিটেইল আমি জানিনা। যেটা জানি যে ওর বিয়ে হয়েছিল, কিন্তু সেটা সে গোপন করে এই প্রেজেন্টে নাম লিখিয়েছে আর প্রতিযোগিতায় বিচারক যারা ছিল ওদের রায়ে সে জিতেনি, আয়োজকরা জোর করে ওকে জিতিয়ে দিয়েছে। এই ঘটনা কি সত্যি? সত্যি যদি হয় তাইলে তো সে অন্যায়ই করেছে। এখন কেউ একজন বলতে পারেন যে আয়োজকরা জিতিয়েছে জোর করে তাতে ওর কি দোষ। হতে পারে। সে ক্ষেত্রে সে অন্যায়টার সুবিধাভোগী মাত্র।

এই মেয়েটা জোরে মোটর সাইকেল চালাতে পারে কিনা, ইয়ামাহার ব্র্যান্ড এম্ব্যাসাডর কিনা সেগুলি দিয়ে কি ওর মিথ্যাচার জায়েজ হয়? আর অন্য যে মেয়েগুলি প্রতিযোগিতায় এসেছিল, কম্পিটিশনে ওর চেয়ে এগিয়ে ছিল, ওদের কি দোষ! ওদের সাথে যে প্রতারণা হলো সেটার কি? বিউটি প্রেজেন্ট ব্যাপারটা ভালো কি মন্দ সেটা তো আলাদা প্রশ্ন। আপনি যদি বিউটি প্রেজেন্ট পছন্দ না করেন, তাইলেও এই মেয়েটি মিথ্যাচার করেছে, আর যদি পছন্দ করেন তবুও ওর সে মিথ্যাচার করেছে।

এক বন্ধুকে দেখলাম খুবসে গালি দিচ্ছে প্রথম আলোকে। গালি দেন, গালিতে আপনার দক্ষতা আছে, জায়গায় বেজায়গায় দেখাবেন, সেটা তো ঠিক আছে। কিন্তু প্রথম আলো কি কোন মিথ্যা তথ্য দিয়েছে? ভাই পক্ষপাতিত্ব করেন ঠিক আছে, একটা উত্তম যুক্তি তো দিবেন আরকি। মিথ্যাচার প্রতারণা এইগুলিকে সমর্থন করার কি আছে। ধুর! বরং এই মেয়েটিই নিন্দার কাজ করেছে। মিথ্যাচার করে, আয়োজকদের গায়ের জোরে চোট্টামি করে অন্যদেরকে লেঙ্গি মেরেছে।

কাজটা ঠিক করেনি।

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।