হজ্ব করতে গিয়ে নারীকে যৌননিপীড়ন ইসলামে ধর্মশিক্ষারই অংশ

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ১২, ২০১৮ ১১:১৬ AM | বিভাগ : আলোচিত


যে পাকিস্তানি মহিলাটি সৌদি আরবের মক্কায় হজ্বে গিয়ে যৌন হেনস্থার শিকার হলেন, এটা তো আমাকে একদম অবাক করে না। কেউ কেউ বলছেন, একটা মহিলা কিভাবে হ্বজে গিয়ে একটা ধর্মীয় পবিত্র জায়গায় যৌন লালসার শিকার হয়? বিষয়টি অবাক করার মতো বিষয়। তাই না? আমার মতে মোটেও না। এর আগেও আমরা দেখেছি আল্লাহর ঘর মসজিদে কোরাণের পাঠ নিতে আসা কন্যা শিশু ধর্ষণ! ছেলে শিশু ধর্ষণ এই আর নতুন নয়। আর প্রতিদিন তো মাদ্রাসায় ছাত্র-ছাত্রীরা যৌনাক্রম ও ধর্ষণের শিকার হচ্ছেই।

পাকিস্তানি মহিলাটি যদি সাহস করে তার ফেইসবুক ওয়ালে না বলতেন, তাহলে আমরা জানতেই পারতাম না হ্বজে পুরুষ হ্বাজী দ্বারা নারীরা এমন যৌন হেনস্থার শিকার হন। পাকিস্তানি নারীটি সাহস করে বলার পর এখন অনেক নারী মুখ খুলেছেন, তারা বলছেন, তারাও হ্বজে গিয়ে এমন যৌন লালসার শিকার হয়েছেন।

যে ধর্ম তাদের শিক্ষা দেয় নারী হলো শষ্যক্ষেত। সেই ক্ষেতে যেমন খুশি তেমন গমন করে চাষ করা যায়। নারী হলো ভোগ লালসার বস্তু। নারী হলো বাচ্চা উৎপাদনের একমাত্র যন্ত্র। যে মুমিন মুসলমানরা তাদের ধর্ম থেকে শিখেছে, নারীর কোনো অধিকার নেই তার শরীর নিয়ে নিজের সিদ্ধান্ত নেয়ার। তার শরীর কেমন কি অবস্থায় ব্যবহার করবে তার সিদ্ধান্ত নেবে একমাত্র পুরুষ, নারী নয়। সেই মুর্খ ধর্মান্ধরা যদি হ্বজে গিয়ে কোনো নারীর স্তন-নিতম্ব একটু ধরে দেখে, বা একটু চাপ দিয়ে বিকৃত যৌন সুঁড়সুঁড়ির অমৃত স্বাদ অনুভব করে, তাহলে বুঝতেই হয় তাদের ধর্মীয় শিক্ষা ঠিক স্তরের! যে ধর্ম নারীকে মানুষের মতো মূল্যায়ন করার শিক্ষা দেয় না, সেই ধর্মের ধর্মান্ধরা তো নারীকে যৌন লালসার ভোগ্যবস্তু ভেবেই একটু যৌন-হেনস্থা করবেই। সেটা রাস্তাঘাট হোক আর ধর্মীয় পবিত্র নগরী মক্কা হোক, নারীরা যৌন-লালসার শিকার হবেই।

কে কে যেন বলেছিলেন? মক্কা নগরীর মতো একটা ধর্মীয় পবিত্র স্থানে কিভাবে নারীর প্রতি একজন পুরুষের যৌন হেনস্থার কথা মনে আসে? ধর্ম কি নারীর মৌলিক অধিকারের শিক্ষা দেয়? ধর্ম কি নারীর যৌন স্বাধীনতার শিক্ষা দেয়? ধর্ম কি নারীকে তার শরীর তার স্বাধীন মতে ব্যবহার করার শিক্ষা দেয়? ধর্ম কি নারী-পুরুষের সাম্যের কথা বলে? না বলে না। আরে ভাই সেই ধর্মের জম্মই তো হয়েছে নারীকে অচ্ছ্যুত, দ্বিতীয় লিঙ্গ, পুরুষের অর্ধেক সমকক্ষ, আর গরু-ছাগলের মতো সন্তান উৎপাদনের যন্ত্র হিসেবে মনে করার বিধান রেখে। সেই ধর্মই তো নারীকে স্রেফ যৌনদাসী ভাবা ব্যতীত আর কোনো শিক্ষাই দেয় না। সেই ধর্ম যদি মুমিন মুসলমানদের শিক্ষা দেয়, নারী শুধু পুরুষের ভোগ্যবস্তু আর যৌনদাসী ছাড়া কিছুই নয়।

তাহলে সেই অচ্ছ্যুত, দ্বিতীয় লিঙ্গ, পুরষের অর্ধেক সমকক্ষ নারীকে তো যেখানে একা পায় একটু নেড়ে দেখবেই। কারণ নারীকে এখনো মানুষ ভাবতে শেখে নি সেই ধর্মের ধর্মান্ধরা। ইসলাম তো তাদের সেই শিক্ষা দেয় নি। ইসলাম যেখানে মুমিন মুসলমানদের শিক্ষা দেয় নারী কামনার বস্তু, ভোগের বস্তু, যত্রতত্র যৌন-লালসা নিবারণ করার একমাত্র বস্তু, সেখানে হ্বজে একটা নারী একটু আধটু যৌন-হেনস্থার শিকার হয়েছে বলে এতে অবাক হবার কি আছে? হইচই করারই বা কি আছে?

আমি তো ভাবছি যারা তাদের সর্বোচ্চ মহান জ্ঞাণভাণ্ডার পবিত্র গ্রন্থের কাছে স্বেচ্চাচারীর হয়ে নারীকে যেমন খুশি তেমন পণ্যের মতো ব্যবহার করার শিক্ষা পেয়েছে, সেখানে যে ঐ পাকিস্থানী নারীটি যে ধর্ষণের শিকার হয় নাই এটাই তো ঢের! এতোগুলো অসভ্য বর্বর ধর্মান্ধ ইসলামানুসারী হ্বাজীদের ভীড়ে পাকিস্তানি মহিলাটি যে ধর্ষণ হয় নাই সেটাই তো আমাকে অবাক করে! কারণ ইসলামে ধর্ষন করলে অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয় এমন কোনো শব্দ বা বিধান ইসলামে নেই।


  • ৬৮৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

অপ্রিয় কথা

লেখক একজন নারীবাদী, ব্লগার এবং অনলাইন একটিভিস্ট।

ফেসবুকে আমরা