মা এর জীবন সঙ্গী নির্বাচনের দায়িত্ব সন্তানের

সোমবার, ফেব্রুয়ারী ৫, ২০১৮ ৯:৫৮ PM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


এই দেশে বহু সন্তান আছে যারা তাদের বিপত্নীক বাবার দ্বিতীয় বিয়ে করিয়েছে কিন্তু এমন সন্তান কি আছে, যে তার একাকী মা এর দ্বিতীয় বিয়ের দায়িত্ব নিয়েছে? কিংবা মায়ের জন্য সঙ্গী নির্বাচনের চেষ্টা করেছে?

যে সন্তানের কথা ভেবে কোনো কোনো মা একাকী জীবন কাটাচ্ছে, সেই সন্তানেরা কেনো তাদের মায়েদের জন্য সঙ্গী খোঁজার দায়িত্ব নেয় না? কেনো মায়ের জীবনের একাকীত্ব দুর করার চেষ্টা করে না?

গত ক’দিন থেকে ভাবছিলাম আমাদের সমাজে অসংখ্য অসুখী মা আছেন। তারা সন্তানের কথা ভেবে অসুখী সম্পর্ক কিংবা একাকী থাকাটাকেই গ্রহণ করতে বাধ্য হয়েছেন। তাদের জীবনের একটা বড় সময় ছেলে মেয়ের সুখের কথা ভেবে নিজের সুখ বিসর্জন দিয়ে যাচ্ছেন। সেই ছেলে মেয়েরা কি পারে না তাদের মায়ের আনন্দের দায়িত্ব নিতে?

আমাদের চারপাশে একাকী মায়ের সংখ্যা তো কম না । ছেলে মেয়ের সামনে মা রোজ নির্যাতিত হয়েও সংসার করে যাচ্ছে। এমন মায়েদের শেষ আশ্রয় তার সন্তানেরা কি সেই মা কে, এই যন্ত্রণা থেকে মুক্ত করতে পারে না? আমার পরিচিত বেশ কয়েকজন মা এমন-ই একাকী জীবন কাটাচ্ছেন।

গল্প ১

ভদ্রমহিলা একা থাকেন, ওনার স্বামী মারা গেছেন যখন ওনার বয়স ৩৩। এখন বয়স পঞ্চাস ছুঁইছুঁই। একটাই ছেলে, থাকে কানাডাতে। সময় কাটাতে একটা স্কুলে পড়ান। এতগুলো বছর যে জীবন তিনি পার করেছেন সেই গল্পটা একাকীত্বের। তিনি প্রতি মুহূর্তে ভাবেন, একজন সঙ্গী হলে এই ভয়ংকর মানসিক কষ্ট তার সঙ্গী হতো না। সব মেয়ের মতোই ওনারও কারো হাত ধরতে ইচ্ছে করে, ইচ্ছে করে বিশেষ কেউ একজন তার পাশে বসে বলুক, চলো এক সাথে চা খাই।

গল্প২

স্বামী যখন ওনাকে তালাক দিলো, তখন ছোট ছেলের বয়স সাত মেয়ের বয়স ১০ । আত্মসম্মান বোধটা ছাড়া সম্বল কিছুই ছিলো না। তাই মাথা নত করলেন না। নতুন করে লেখাপড়া শুরু করলেন, ব্যাংকে ভালো একটা জবও পেলেন। সংগ্রাম করেই ছেলে মেয়ে মানুষ করেছেন। এখন ছেলে কলেজে, আর মেয়ে ভার্সিটিতে পড়ছে। ওনার জীবনে যে কেউ আসে নি তা নয়, একজন আছেন তাকে ভালো লাগে উনার, কিন্তু ছেলে মেয়ের দিকে তাকিয়ে সেই সম্পর্কের দিক থেকে মুখ ফিরিয়ে রেখেছেন।

গল্প ৩

ধরে নেই ভদ্রলোকের নাম আনিস, এবং তার স্ত্রীর নাম রুমানা। বিয়ের বয়স আজকে ২৩ বছর হতে চলেছে। এক ছেলে এক মেয়ে । বিবাহিত জীবনে আনিস এবং রুমানা কখনোই সুখি ছিলেন না । ঝগড়া তো খুব সামান্য বিষয়, এর চেয়ে বাজে বিষয় তাদের মধ্যে প্রায়ই ঘটে। ছেলে মেয়েরা জানে বাবা মা বিবাহিত জীবনে সুখি না। কিন্তু ছেলে মেয়ের কথা ভেবে-ই তারা সংসার করে যাচ্ছে ।

এই অসুখী মানুষগুলো আজীবন সন্তানের কথা ভেবেছে। এখন সন্তানেরা বড় হয়েছে, তারা জানে তাদের মা সুখী নন। এক্ষেত্রে ছেলে মেয়ের উপর দায় বর্তায় এই অসুখী জীবন থেকে মা কে মুক্তি দেয়া।

মা কে সাপোর্ট দিয়ে নতুন জীবন শুরু করতে উৎসাহী করা। যে মা তার সন্তানের জন্য এই মাঝ বয়সে একা কাটাচ্ছেন, যে মা সারা জীবন অত্যাচার মেনে নিয়েছে সন্তানের কথা ভেবে, এখন সেই সন্তানের দায়িত্ব মায়ের জীবনে একজন ভালোবাসার মানুষ এর পদচারনার পথ প্রসস্থ করা। তার জীবনে একজন সঙ্গী খুজে দেবার দায় সেই সন্তানের।

অর্থ দিয়ে একাকীত্ব দুর হয় না। মায়ের হাতে টাকাগুজে দিলেই মা সুখী হন না। তার মনের খবর রাখাও সন্তানের দায়িত্ব।


  • ৩৭২৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

ফেসবুকে আমরা