কতোদিন থাকবে দুঃসময়

বৃহস্পতিবার, এপ্রিল ৯, ২০২০ ৪:২৯ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


প্রশ্ন হলো, কতোদিন করোনার ভয়ে আবদ্ধ হয়ে থাকতে হবে ?

ইতিহাসের দিকে তাকালে মন খারাপ হয়ে যাবার কথা, কেননা এক একটা মহামারি ঠেকাতে পৃথিবীর ১০০ বছর কিংবা তারও বেশি সময় লেগেছে। সেই অর্থে আমরা ভাগ্যবান। বিজ্ঞান এর অগ্রগতি এই ১০০ বছর এর বাঁধাকে খুব অল্প সময়ে নিয়ে এসেছে। তার চেয়েও বড়ো বিষয় হলো, এই সঙ্কটকালীন সময়ে পৃথিবীর সমস্ত গবেষকেরা প্রায় এক হয়ে কাজ করছেন। করোনা নিয়ে যতো ধরনের গবেষণাকাজ হচ্ছে, মোটামুটি ভাবে সবাই সবার কাজ উন্মুক্ত করে দিয়েছেন। ফলে, সমস্ত পৃথিবীর মেধাবী মানুষগুলো এক হলে যা হবার কথা ছিলো, তাই হচ্ছে। এই শত্রুকে পরাস্তের কাজ অনেক দ্রুত এগোচ্ছে।

বিজ্ঞানীরা এর চিকিৎসা পদ্ধতি নিয়ে কীভাবে এগুচ্ছেন সেটা জানার আগে আসুন জেনে নিই জিনোম কী। জিনোম কি সেটা খুব সহজে বললে বলা যায়, জীবের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যের বিন্যাস বা নকশা। এর ওপর নির্ভর করে ওই প্রাণী বা উদ্ভিদের বৈশিষ্ট্য। আর জিনোম সিকোয়েন্স করা মানে জীবের বৈশিষ্ট্য জানা।

২০১৫ তে যখন জিকা ভাইরাসের সংক্রমণ শুরু হয় তখন এর জিনোম সিকোয়েন্স করে প্রতিষেধক উদ্ভাবন করতে সময় লেগেছিল ছয় মাস। কিন্তু করোনাভাইরাস রোধের ক্ষেত্রে আশার কথা হলো, জানুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে যখন চীনা বিজ্ঞানীরা করোনা ভাইরাসের জিনের গঠন সম্পর্কে জানতে পারেন , তখনই এর জিনোম সিকোয়েন্স এর কাজ শুরু করেন এবং খুব দ্রুততম সময়ে এই ভাইরাসের প্রতিষেধক তৈরির কাজ শুরু করতে সক্ষম হন। তাঁরা কোভিড–১৯ এর প্রতিকারক হিসেবে নির্দিষ্ট একটি ঔষধের চেয়ে, টিকা আবিষ্কারকেই এই রোগের প্রতিষেধক মনে করছেন। কারণ হিসেবে দেখিয়েছেন, টিকার মাধ্যমে ৫০-৬০ শতাংশ মানুষের মধ্যে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা গড়ে তোলা সম্ভব হলে একটি নির্দিষ্ট জনগোষ্ঠীর ৯০ শতাংশ মানুষকে নির্দিষ্ট সংক্রমণ থেকে নিরাপদে রাখা যায়।

বেশ কিছু স্তর পার হয়ে একটি টিকা মানুষের জন্য ব্যবহার উপযোগী হয়। প্রথম স্তরে টিকা তৈরি করার পর তা ‘অ্যানিমেল মডেলে’ প্রয়োগ করা হয়। অর্থাৎ ইঁদুর, গিনিপিগ, বানর, শিম্পাঞ্জি বা অন্য প্রাণীতে ব্যবহার করে দেখা হয় তার পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া দেখা দেয় কিনা। এরপর ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল হয়। এই স্তরে টিকা মানুষের ওপর পরীক্ষা করা হয়। এর মাধ্যমে জানা যায়, এটা কতোটা কার্যকর, এর কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া আছে কিনা।

ভালো খবর হলো, টিকার প্রথম ধাপের পরীক্ষার পরিকল্পনা অনুযায়ী তিনটি টিকা, মানুষের শরীরে ব্যবহার করে দেখা হচ্ছে। একটি যুক্তরাষ্ট্রের সিয়াটলে, একটি যুক্তরাজ্যের অক্সফোর্ডে এবং অন্যটি চীনের উহানে। সিয়াটল, অক্সফোর্ড ও উহানে, ইতিমধ্যে ১৮ থেকে ৫৫ বছর বয়সী ৬৫০ জন সুস্থ মানুষকে এই ট্রায়ালে যুক্ত করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও ১১টি টিকা প্রি-ক্লিনিক্যাল স্তরে আছে। এর বাইরে আরও ৩৩টির ওপরে গবেষণা চলছে।

গবেষকেরা বলছেন, কোভিড–১৯–এর টিকা ১২-১৮ মাসের মধ্যে মানুষ পেয়ে যাবে। যদি সেটা হয়, তাহলে তা হবে দ্রুততম সময়ে পাওয়া কোনো টিকা।

এই দিকে জাপান দাবি করছে, তারা ঔষধ আবিস্কারে ক্ষেত্রে অনেকটাই সফলতার পথে। ইজরাইলও একই ভাবে বলছে তারা সফলতার খুব কাছাকাছি পৌঁছে গেছে।

সব শেষে বলি, আমাদের সামনে এই দুঃসময় থাকবে না। আমাদের বিজ্ঞানী, আমাদের গবেষকেরা এই সংকট থেকে উত্তোলনের পথ ঠিকই বের করে ফেলবেন। কিন্তু আমরা যেনো এই সময়টাতে আমাদের দায়িত্ব মানে বিচ্ছিন্ন থাকা, সঙ্গনিরোধ ও অবরুদ্ধ থাকা ইত্যাদি বিষয় মেনে চলি। সেই সাথে অন্যান্য প্রানীদের যত্ন নেই। আর পৃথিবীর এই সংকট চলে গেলে, যারা আমাদের বাঁচালো তাদের মনে রাখি।


  • ২৩৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি