পারতাম বলার চেয়ে পারবো বলা অনেক আনন্দের, সাহসের জন্ম দেয়, শৃঙ্খল ভাঙা যায়

বুধবার, জুলাই ১১, ২০১৮ ৩:৩৯ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


এক আপু কে দেখলাম লিখেছেন, আই উইশ আই কুড ডু। তিনি জীবনে কেনো একটু সাহসী হয়ে স্বপ্নগুলো পূরণ করলেন না, সেটা নিয়ে আক্ষেপ করে লিখেছেন। আমি ভাবছিলাম অন্য কথা।

মেয়েরা শৃঙ্খলিত হয় একটু একটু করে। অথচ তারা সেটা টেরও পায় না। মেনে নাও, মানিয়ে নাও, অমুকে মেনে নিছে তুমি কেনো নেবে না?

অমুকের মেয়ে সব কিছু মেনে নিয়ে কত সুখে আছে দেখো …… এই লাইনটা হলো মেয়েদের মানুষ থেকে মেয়ে হয়ে ওঠার প্রথম পাঠ। এই লাইনটা দিয়ে মেয়েটার মাথায় ঢুকিয়ে দেয়া হয় অমুক মেয়ের মতো হতে পারলে তুমি ভাল মেয়ে হবে, তুমি সুখী হবে। অথচ ঐ মেনে নেয়া মেয়েটা জীবনে কোনো দিন হয়তো মানুষ হওয়া শেখেই নাই, সে খাঁচায় পোষা পাখির মতো জেনে এসেছে তার আসলে ডানা নাই। খাঁচাটাই তার একমাত্র জায়গা।

এই সমাজে ২৭ এ মেয়েদের বিয়ে না হলে বুড়ি হয়ে যাচ্ছে, পরে ছেলে মিলবে না তাই বিয়ে দাও, মেয়ে মোটা তাকে জিমে পাঠাও, মেয়ে কালো তাই রূপ চর্চা করাও, মেয়ে বেঁটে তাকে রিঙে ঝুলতে বলো কিংবা হিল পরার অভ্যাস করাও, সব শেষে মেয়ে লাফাঙ্গা তাই তারে সহি পথে আনো, ...

এসব বড় বড় কাঁটাতারের বেড়া দিয়ে মেয়েটা কে মানুষ না বানিয়ে একটা বিবাহ যোগ্য প্রোডাক্ট বানানো হয় সেখানে মেয়ে শৃঙ্খল ভাঙা তো দুরের বিষয় নিঃশ্বাস নেবার জন্য ছাঁদে বসে থাকাটাকে স্বাধীনতার নাম দিয়ে স্বস্তি খোঁজে।

তারপর শুরু হয় বংশ রক্ষার প্রক্রিয়া।
-বিয়ের তিন বছর হলো, বাচ্চা নাই কেনো? আরে বাচ্চা নিয়ে নাও, এরপর বাচ্চা হলে সেই বাচ্চার লালন পালন সারা বছর এর মাঝে দু'চারটা ট্যুর দিতে পারলে এবং ছবিগুলো ফেবুতে, ইন্সটাগ্রামে আপ করতে পারলে সেটাই মেয়ের কাছে বিশাল বড় স্বাধীনতা, স্বস্তি।

সেখানে তুমি কই মেয়ে? তোমার যে স্বপ্ন ছিলো গিটার শিখবে তার কি হলো? তুমি ব্রেক ডান্স ভালোবাসতে সেটার কি হলো? তুমি খুব ভালো কবিতা লিখতে তার কি হলো? তুমি না কলেজে একটা ছেলের প্রেমে পড়েছিলে, প্রতিজ্ঞা করেছিলে একদিন বলে দেবে, তা কি করে ফেলেছো? আচ্ছা তোমার না খুব জিপ্সি হবার ইচ্ছে ছিলো, তুমি না বব ডিলানের কন্সার্ট দেখবে বলে টাকা জমাতে, তার কি হলো? এখনো কি ডায়েরী লেখো? তোমার না খুব অভিনেত্রী হবার ইচ্ছে ছিলো? তুমি না নিঝুম দ্বীপে একটা বাড়ি বানাবে বলে পণ করেছিলে? আচ্ছা সব বাদ দাও যাকে বিয়ে করেছো সে জানে তো আজ তোমার মন খারাপ? সে জানে তোমার কানের লতিতে কত উত্তাপ?

যে শৃঙ্খল এই সমাজে তৈরি হয়ে আছে সেটা একদিনে ভাঙা যায় না, কিন্তু শৃঙ্খলিত হবো না বলে প্রথম থেকে যুদ্ধটা করলে স্বপ্নগুলো পচে যায় না। প্রথম বারেই প্রশ্ন করতে হয়, কেনো আমি পারবো না? কেনো আমার জন্য ভিন্ন নিয়ম? কেনো আমি করবো না? কেনো করতে পারবো না? অবাধ্য হতে হয়, লড়াইটা করতে হয়।

কেউ কেউ বলে বয়স হয়ে গেছে আর কি!... এটা হলো নিজেকে ধ্বংস করার সর্বশেষ লাইন। আমি মাঝে মাঝে আম্মু কে কঠিন বকা দেই। বলি, কি কারণে নিজের শরীরটা বুড়িয়ে যেতে দিচ্ছো? হেমা মালিনী, রেখা কিংবা মাধুরীকে না হয় উদাহরন হিসেবে নাই নিলে কিন্তু আমাদের জয়া আহসান কে তো দেখো। চল্লিশ পার হয়ে গেছে কিন্তু শরীর তার সেই ষোলতেই আটকে রেখেছে। তুমি কেনো পারবে না? শরীর মানে শুধু যৌনতা না, সুস্থতা, কর্মক্ষমতা, লাবণ্যও। তাই শরীরটার যত্ন নাও। আজ থেকে শুরু করে দাও। চেষ্টা করেই দেখো। এত বছরের শেঁকল একদিনে ভাঙতে পারবে না কিন্তু ভাঙা শুরু করে দাও, একটা শেকল কমলেও একদিন আকাশ দেখার সাধ পাবে। বৃদ্ধ বয়সে আই উইশ আই কুড ডু বলার চেয়ে, চেষ্টা করেছি এবং পেরেছি ভাবা অনেক আনন্দের।


  • ৩৮৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

ফেসবুকে আমরা