সারভাইভালের সূত্র ।। ফারজানা সুরভীর কবিতা

বৃহস্পতিবার, জুলাই ১১, ২০১৯ ৭:৪২ PM | বিভাগ : সাহিত্য


একদিন সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখবেন, বিবর্তন হামাগুড়ি দিচ্ছে।
রাস্তায় রাস্তায়। মানুষের বিলুপ্ত শিরদাঁড়ায় থকথকে জেলি।
বই নেই। গান নেই। আকাশের নিচে দাঁড়িয়ে থাকার আনন্দ নেই।

একমাত্র বিনোদন অত্যাধুনিক ফোন।

ছুটির দিনে মানুষ এক গলি থেকে অন্য গলিতে ঘুরে বেড়াবে।
প্রথম গলিতে স্বামীকে কোপানো হচ্ছে। একজন স্ত্রীর সামনে।
ফোনে এই হত্যা দৃশ্য ভিডিও করতে করতে,
জিভে জল এসে যাবে বিনোদন বঞ্চিত মানুষের।

একঘেয়ে লাগলে, দ্বিতীয় গলিতে যাবে।
সেখানে একটি কিশোরীর গায়ে আগুন ধরিয়ে উদযাপন হচ্ছে,
নারী ক্ষমতায়নের পঞ্চাশ বছর।
কিশোরীর পুড়ে যাওয়া জামা, ছুটির বিকালের রিফ্রেশমেন্ট।

একদিন সকালে ঘুম ভেঙ্গে দেখবেন,
সারভাইভালের জন্য দরকার পচা-গলা মেরুদণ্ড।
প্রেমিক প্রেমিকার দিকে সরাসরি তাকাচ্ছে না।
চোখের সামনে ফুল ধরলে, তারা দেখতে পায় না।
ফোনের ক্যামেরা ছাড়া তাদের দৃষ্টিশক্তি কাজ করবে না।
প্রেমিকার থুতনির কাটা দাগ অনাকর্ষণীয়।
ক্যামেরার ফিল্টার অন করে, দাগমুক্ত চিবুকে চুমু খাবে প্রেমিক।
প্রেমিকার কোমর যথেষ্ট সরু না হলে, পাঁজরের হাড় খুলে নেয় চিকিৎসক।
বারবি পুতুলের শরীর ছাড়া, কামবোধ করবে না কেউ।

সারভাইভালের জন্য রক্ত পাড়িয়ে প্রতিদিন অফিসে যাবেন।
ফোনের ক্যামেরা অন করে, উপভোগ করবেন বর্বরতা।
ভুলেও প্রশ্ন করবেন না, রাষ্ট্র কেন রক্তের দায়ভার নেয় না?
ভুলেও প্রশ্ন করবেন না, মানুষ হতে হলে কেন অমানুষ হতে হয়?


  • ২০২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

ফারজানা শারমীন সুরভি

জন্মস্থান ঢাকা, বাংলাদেশ। বর্তমানে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নর্দান ইলিনয় ইউনিভার্সিটিতে রাষ্ট্রবিজ্ঞানে পিএইচডি করছেন। পেশায় একই বিভাগের গ্র্যাজুয়েট টিচিং এসিস্টেন্ট। লেখক হওয়ার স্বপ্ন নেই, কিন্তু লেখালেখির নেশায় একটা জীবন কাটিয়ে দেয়ার স্বপ্ন দেখেন।

ফেসবুকে আমরা