নারীর প্রতিবন্ধকতা

মঙ্গলবার, আগস্ট ৬, ২০১৯ ৬:১৯ PM | বিভাগ : আলোচিত


বর্তমান সময়ে আমরা নারীরা কোথায় নিরাপদ? বলতে খুব কষ্ট হচ্ছে তারপরও বলতে হচ্ছে আমরা বাবার কাছেও নিরাপদ না। আজকাল টেলিভিশন খুলতে না খুলতে ধর্ষণের খবর কানে ভেসে আসে। তাও কিনা দশ মাসের বা দুই বছরের বাচ্চা। শিক্ষা প্রতিষ্ঠানেও অবিভাবকরা নিশ্চিন্তে তাদের বাচ্চাদের  রেখে আসতে পারে না। কারণ সেখানেও তারা নিরাপদ না। একজন শিক্ষককে বাবা মার সাথে তুলনা করা হয়। কিন্তু সেই শিক্ষক ও সুযোগ পেলে তার মেয়ের বয়সী ছোট ছোট বাবচ্চাদেরও ছাড়েননা। এমনকি মাদ্রাসাগুলোতেও আজকাল ইমাম দ্বারা ছাত্রী ধর্ষণের খবর শোনা যায়।
 
নিউজ গুলোতে যখন শুনি কোনো বাচ্চা ধর্ষণের শিকার হয়েছে  এবং এটাও শুনতে হয় যৌনাঙ্গ কেটে ধর্ষণ করায় রক্তপাত হয়ে শিশুর মৃত্যু, তখন লজ্জায় মরে যেতে ইচ্ছা করে। যে দেশে শিশুদের কোনো নিরাপত্তা নেই সে দেশে প্রাপ্ত বয়সী মেয়েদের নিরাপত্তা কতোটুকু। বাচ্চা থেকে বয়স্ক ধর্ষণের শিকার হচ্ছে এরকম সংবাদ আমরা প্রায়ই শুনে থাকি। কিন্তু ধর্ষকদের উপযুক্ত  বিচার হয়েছে এরকম সংবাদ কয়টা শোনা যায়?
 
 
এইবার আসি তথাকথিত কিছু মন্তব্যকারিদের নিয়ে, বর্তমানের সবচেয়ে জনপ্রিয় স্যোসাল মিডিয়া ফেসবুকে প্রায়ই বিভিন্ন মানুষের ধর্ষণ নিয়ে নানা পোস্ট দেখি, রীতিমতো গুটিকয়েক মানুষের কমেন্ট পড়ে সত্যিই আবাক লাগে। তাদের বক্তব্য, মেয়েরা আশালীন পোশাক পরিধান করায় ধর্ষণের শিকার হয়। এখন আমার প্রশ্ন প্রাপ্ত বয়স্কদের অশালীন পোশাকে না হয় ধর্ষকদের জিভে জল আসে কিন্তু দশ মাস/দুই বছরের শিশুদের দেখে তাদের কোন অনূভুতিটা কাজ করে যার জন্য শিশুরাও ধর্ষণেরর শিকার হয়?
 
আর অশালীন পোশাকের কথায় যদি আসি তাহলে ইউরোপের কথা বলতেই হয়। ইউরোপের মেয়েরাও তো অনেক খোলামেলা পোষাক পরিধান করে, তাদের দেশে বাংলাদেশের মত কয়টা শিশু বা নারী ধর্ষণের শিকার হচ্ছে? বিকৃত চিন্তাধারা ছাড়া আসলে এই মানুষ গুলোকে কোনভাবে সজ্ঞায়িত করা যায় আমার জানা নেই। 
 
যে দেশের প্রায় অর্ধেক নারী সে দেশে নারীর স্বাধীনতায় কোনো নিরাপত্তা না থাকলে দেশ নারীর থেকে কী আশা করে। বর্তমানে বিভিন্ন সামাজিক অর্থনৈতিক কর্মকান্ডে নারীরা কোনোভাবেই পিছিয়ে নেই। পিছিয়ে আছে শুধু স্বাধীনতার দিক থেকে। কর্মক্ষেত্রেও নারীরা যৌন হয়রানির শিকার হয়। একজন পুরুষ যেভাবে বিভিন্ন সময়ে বিভিন্ন কাজ করতে পারে কিন্তু নারীদের সমাজের বিভিন্ন প্রতিবন্ধকতা  পিছিয়ে দিচ্ছে, অন্যদিকে যৌন হয়রানিতো আছেই।
 
রাস্তাঘাট, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, বাজার এমন কোনো জায়গা নেই যেখানে মেয়েদেরকে হয়রানির শিকার হতে হয় না। আর যানবাহনগুলোর কথাতো বলাই যায় না। আরেকটি বাস্তবতা যেটা না বললেই না একটি মেয়ে প্রতিদিন রাস্তঘাটে নীরব ধর্ষকদের চোখ দ্বারা বারবার ধর্ষিত হয়। একটি মেয়ে রাস্তা দিয়ে হেটে গেলে তার দিকে এমন  দৃষ্টি দেওয়া হয় যা ধর্ষনের চেয়ে কোনো অংশে কম না।
 
যদি কোনো তরুণ বা নারী এগুলোর বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ায় তাহলে তাদের জীবন সংশয় হয়ে যায়। তাদেরকে সমাজের কিছু ক্ষমতাধর ব্যক্তি দ্বারা নানা ভাবে হুমকি দেওয়া হয়। যাতে তারা প্রতিবাদ না করে। এদেশের নাগরিকদের মত প্রকাশের স্বাধীনতাটুকুও নাই।
 
সবচেয়ে দুঃখের ব্যাপার এই ধর্ষকরা কারোর ভাই, কারোর বাবা বা কারোর স্বামী। যারা সমাজে ভালোমানুষের মুখোশ পড়ে থাকে।
 
র্ষণের মাত্রা ক্রমেই বেরে যাচ্ছে শুধুমাত্র উপযুক্ত শাস্তির অভাবে। কোনো শাস্তি ছাড়াই ক্ষমতাধর ব্যক্তি দ্বারা অপরাধী জামিনের মাধ্যমে ছাড়া পেয়ে যায়। 
 
ধর্ষনের শাস্তি জরিমানা বা কিছু বছরের কারাদণ্ড যথার্থ বলে আমার মনে হয় না। যদি ধর্ষণের শাস্তি হতো তৎক্ষনাৎ মৃত্যুদন্ড তাহলে ধর্ষণেরর পরিমান আনেকাংশে কমে যেতো।
 
যেহেতু বাংলাদেশে এমন উপযুক্ত শাস্তির দাবী করাটাও অপরাধের সেহেতু নিজদের সাবধানে থাকা এবং বাচ্চাদের সাবধানে রাখা ছাড়া কোনো উপায় নেই।

  • ৩৮৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

ফারহানা নওশীন তিতলী

নারীবাদী লেখক।

ফেসবুকে আমরা