আমার অশালীনতা এবং আমি...

শনিবার, মে ৪, ২০১৯ ৮:৩৯ PM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


খুলনা ত্যাগ করে পড়ালেখার তাগিদে আমার আগমণ ঘটলো পুরান ঢাকাতে। অথচ পরিচিত জনেরা, শুভাকাঙ্ক্ষীগণ বারংবার বললেন, "ইউ কান্ট স্টে দেয়ার, জগন্নাথ।" জগন্নাথে পড়ুয়া পরিচিত-পরিচিতাগণ বললেন, "এখানে আসলে তুমি চেঞ্জ হতে বাধ্য। এভাবে চলতে পারবা না। নাট্যকলায় তোমার মতো এক মেয়ে ছিলো। সে টিকতে পারে নাই। পরবর্তীতে জাহাঙ্গীরনগর চলে গেছে। ব্লা ব্লা..."

সকলেই আমার পুরান ঢাকা কিংবা জগন্নাথ গমণ নিয়ে খুবই চিন্তিত, তাদের ভ্রু-কুঁচকিত। অনেকটা জিদ আর চ্যালেঞ্জ নিয়েই এইখানে ভর্তি হইলাম। এমতাবস্থায় আমি তাদের উদ্দেশ্যে শুধু বললাম, "আই কান।" যখন প্রথম প্রথম ক্যাম্পাসে আসলাম সিনিয়রগণ দলবেঁধে দেখতে আসতো আমায়। কিন্তু ট্রাস্ট মি। কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থী আমার পোশাক, সিগারেট বা জীবন যাপন কোনো কথা বা প্রশ্ন আমার সামনে আজ পর্যন্ত তুলেন নি। এক সিনিয়র সালাম, অন্য একদল সিনিয়র আমার প্রেমজীবন নিয়ে প্রশ্ন তোলায় সার্ফ-এক্সেল দিয়ে তাদের আপাদমস্তক ধৌতের পর আর কেউ কখনো কিছু বলেননি।

অতঃপর মানুষেরা বলা শুরু করলো, "তুমি তো অভিজাত। ধানমণ্ডিতে থাকো। তোমার বাপের টাকা আছে। পারলে পুরান ঢাকায় থেকে দেখাও। বুঝতে পারবা।" ব্যাপার না৷ এই মাসেই ধানমণ্ডি থেকে তল্পিতল্পা গুছিয়ে চলে এসেছি পুরান ঢাকা। হ্যাঁ, এই পুরান ঢাকার রাস্তাতেই আমি হাঁটি স্লিভলেস জামা, থ্রি-কোয়ার্টার প্যান্ট পিন্দে উইথ বিড়ি অ্যান্ড পুরুষবন্ধু।

পুরান ঢাকার ধর্মপ্রাণ, শালীন জনতা অবাক চক্ষে আমায় দেখে। মাঝে মধ্যে কোনো নারী পুরুষের অবাক অপলক নয়নের সামনে হাত নেড়ে বলি, "হাই, আমি খুব সুন্দর। তাই না?" কখনো সখনো সামনে যেয়ে দাঁড়ায়ে বলি, "ভালো করে দেখেন। আপনার দেখা শেষ হলে আমি যাবো।" আর মন্তব্যকারীদের প্রায়শই চড়-থাপ্পড় মারি। ফলে কয়েকদিনে পুরান ঢাকা আমার জন্য স্বাচ্ছন্দ্যময় হয়ে উঠেছে।

আরো কিছু হাইস্যকর ব্যাপার- ম্যাগাজিনটার দিকে তাকান- নারীদের গরমে ফুলস্লিভ, ওড়না, মাথা বস্ত্রাবৃত কইরা শালীন হইতে হবে আর পুরুষেরা গরমে পলো পিন্দাবে! হাহা...এই গোবরভর্তি মালগুলার হাতে গণমাধ্যমের মতো গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম কেনো যে তুলে দেওয়া হয় ভাইবা পাই না! তেনারা ঠিক কইরা দিতে আসছে কোনটা নারীর শালীন পোশাক আর কোনটা অশালীন। অশিক্ষিত, গোবর মস্তিষ্কের লোকেরা সব! জানি না এরা যে কবে খানিক শিক্ষিত আর উর্বরমস্তিষ্কাধিকারি হবে!

হে ধার্মিক, পুরুষতান্ত্রিক সমাজ, আমি আপনাদের শালীনতা চুদি না। এই গরমে আমার স্লিভলেসে আরাম, আমি তাই পরবো। এই গরমে আমার থ্রি-কোয়ার্টারে আরাম, আমি তাই পরবো। আমি শালীন হবো না। আমি মাথায় কাপড় পিন্দাবো না৷ আমি চার-পাঁচ পাল্লা কাপড় দিয়ে স্তন ঢাকবো না। আমি আলখেল্লা পরবো না। আমি আপনাদের ন্যায় টি-শার্ট, লুঙ্গিন্যায় স্কার্ট, প্যান্ট এগুল্লা পিন্দবো। আমি বিড়ি খাইতে মন চাইলে চিপায় নয়, আপনাদের ন্যায় বুক ফুলাইয়া রাস্তায় বিড়ি টানবো। আমি পার্কে না রাস্তায় দাঁড়ায়ে প্রেমিককে চুমু খাবো।

আমি আরো ম্যালা কিছু করি, করবো। আমি অশালীন, অশালীনই থাকবো। শালীন হবো না, ভদ্র হবো না। বেয়াদব, অভদ্র, অশালীন, অশ্লীলই থেকে যেতে চাই। কারণ আই ডোন গিভ এ্যা ফাক অফ দিস মেইল-ডোমিনেটেড ইলিমেন্ট লাইক টু-ডে'স ফ্যাশন ম্যাগাজিন!


  • ১৯৪০ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

ফাহমিদা জামান ফ্লোরা

শিক্ষার্থী (ডিপার্টমেন্ট অফ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) এবং নারীবাদী লেখক।

ফেসবুকে আমরা