নারীরা তাদের অপমানকারী, অত্যাচারকারীর বুকে তেল মালিশ করে, তাদের লিংগ অমৃতের ন্যায় চোষে

বৃহস্পতিবার, জুন ২০, ২০১৯ ৬:০৩ PM | বিভাগ : ওলো সই


মাত্র আমার এক স্কুলমেট, সে যখন তখন কল দেয় আমাকে। এমনও বহু রাত গেছে যখন আমি আমার প্রেমিকরে চুদতেছি, তখন তার কল। তাও কি! একবার কল দিয়ে খান্ত হয় না সে, কল না পিক করা পর্যন্ত কল দিতেই থাকে। এক রাতে ১৪৬ বার কল দিয়েছেন। অগাধ ধৈর্য্য তার।

৫/৬ দিন আগে হঠাৎ রাত ১ টার দিকে কল দিয়ে সে ভীষণ কান্নাকাটি। বলে, "ফ্লোরা, আমি কি করবো বলতো?" আমি বললাম, এই প্রশ্ন আমাকে আর করিস না। আগে বহুবার এ প্রশ্নের উত্তর দিয়েছি। তার সম্পর্কে কিছু বলি-

সে বিবাহিত। একাদশেই বিয়ে করে নেয়। বরের বহুত টাকা। তো আমার এই স্কুলমেট বিবাহের পর আমি যে দোকান থেকে কাপড় কিনি, সেও সেই দোকানের এড্রেস আমার কাছ থেকে নিয়ে কাপড় কেনে। আমি যে শ্যাম্পু ইউজ করি, সেও সেই শ্যাম্পু ইউজ করা শুরু করলো। আমি যে জুতা পরি, সেও সে ব্রান্ডের জুতা পিন্দায়। আমি যে ফোন ইউজ করি, সে সেই ফোন কিনলো। আমি যদি গাড়িতে চলি, তারও গাড়ি চাই। আমি যে ব্যাগ কিনি, তারও সেটা চাই। এমনকি আমি যে সাবানখানা গায়ে মাখি, সেটাও সে কিনলো। এসবে সমস্যা নাই আমার। কিন্তু কথা একটা জায়গাতেই- আমার সমস্ত ব্যবহৃত দ্রব্যের খরচ জোগান আমার বাবা আর ওই স্কুলমেটের সমস্ত খরচ চালান তার বর।

এবার রমজানে খুলনায় যেয়ে তার সাথে দেখা। সে আমাকে দেখামাত্র বলে, "ফ্লোরা, তুই তো কালা হইয়া যাইতেছিস। কী সুন্দর ছিলি।" আমি বললাম, আমিতো রোদে পুঁড়ি। সে বলে, "আল্লা, একটু যত্ন নিবি না স্কিনের! ব্লা ব্লা..." আমি শুধু হাসলাম আর বললাম, "আমার সময় হয় না কিংবা সুন্দর, পোড়া-কাটা দাগহীন চামড়ার দরকার পড়ে না আমার। এমনিই দারুণ গ্রহণযোগ্য এবং আকর্ষণীয় আমি, এটাতো তুই নিজেই বলিস। সে আর কিছু না বলে একটা দীর্ঘশ্বাস ছাড়ে যে শ্বাসের ক্ষমতা এতোই যে এশিয়া হয়ে আফ্রিকার এ্যামাজনের গাছের পাতা নড়বে। এবং আরো বহুকিছু -

প্রায়ই যখন তখন কল দিয়ে বলে, " ফ্লোরা, আমি আর পারতেছি না। রহিম (ওর বর, ধরে নেন তার নাম রহিম) আমার গায়ে হাত তুলে কথায় কথায়। আমারে খুলনা পাঠায়ে দিয়ে বাসায় মেয়ে আনে। আমি কিছু জিজ্ঞাসা করলেই মারে। আমি থাকবো না। এমনকি ও আমার সাথে ঠিকমতো সেক্সও করে না। চুমু খায় না, আদর করে না। জাস্ট ঢুকায় আর বের করে। তাও ৫ মিনিট। বল, এর সাথে থাকা সম্ভব।"

আমি সব শুনে প্রতিবার শান্ত গলায় বলি, মানুষ মাত্রই পলিগ্যামাস। তোর নিজের ক্ষমতা নেই, সুযোগ নেই তাই অন্য প্রেম নাই তোর। তোর বরের অর্থনৈতিক সক্ষমতা আছে, অবস্থান আছে, সুযোগ আছে তাই তার প্রেম হয়, অন্য নারীর শরীর, মনে সুর তোলার সুযোগ তার হয়। আমার এসব কথাতে সে আরো কষ্ট পায়। তারপর বলে, আমি এসব সহ্য করতে পারবো না। আমি বলছি, ক্যারিয়ারে ফোকাসড হ। কিন্তু তার ক্যারিয়ারও অলরেডি টিফিন বাক্স বানায়ে ফেলছে সে। তাকে আমি এ ও বলেছি, তুই ঢাকায় আমার কাছে চলে আয়। আমি আপাতত তোর থাকা-খাওয়ার এক্সপেনসেস দিই। পরে তুই নিজে কিছু করিস। এসব বলার পর প্রতিবার সে রাজি হয় কিন্তু দু'দিন বাদে বর যখন তাকে একখানা ১৫ হাজার টাকার শাড়ি বা বসুন্ধরায় শপিং করায় তখন সে সব ভুইলা যায়।

আমি বিশ্বাস করি এই মেয়ে আর ৪/৫ দিন যেতে না যেতেই আমাকে আবার কল দিয়ে হয়তো রাত ১ টার সময়, যখন আমি চোদাচুদি করবো ঠিক তখনই সে বলবে, "ফ্লোরা, আমি কি করবো? তোর জীবন কতো সুন্দর। কতোকিছু করিস তুই। কষ্ট হলে বসে বসে তোর লেখা পড়ি বা তোর ছবি দেখি।"

মানে বুঝলেন, আপনাদের লেজে ঘি মাখলেও সোজা হবে না। এই সব নারীরা স্ট্রাগেল করবে না। ভাই, দুনিয়া এত্তো সহজ না। রূপ বিক্রি করে পেট চলে, মন-মান চলে না। পুরুষের মাথায় কাঁঠাল ভেঙে খাবে আর বলবে, "আমার বর পরকিয়া করে। আমারে মারে।" ওরা পারেও! মাইর, গুতা, লাঠি, ঝাটা সব খাবে তারপর তাদের মনোবাসনা এমন - "১৫ হাজার টাকার শাড়ি চাই, বসুন্ধরায় শপিং চাই, পারসোনা চাই"।

এইরকম বহু নারী আমাকে প্রচুর বিরক্ত করে। অনেক হয়েছে। আপারা, আপনারা দয়াকরে আমাকে আর কল দিয়ে বিরক্ত করবেন না কিংবা আমার মতো নীলাকাশের উড়ন্ত পাখি বা সূর্যমুখীর মতো গর্বিত জ্বলন্ত ফুল হওয়ার স্বপ্ন দেখবেন না কারণ আপনার জীবন আর আমারটা সমান না।

আমাকে কোনো পুরুষ গায়ে হাত তুললে তাকে ছিঁড়ে রক্ত বের করে সেই রক্ত তার জিহবায় না মাখায়ে কোনোদিন আসিনি আমি। মৌখিক অপমান করলে তাকে ১০ গুণ অপমান করে আসছি। তার সম্পর্কে সমস্ত সম্পর্ক ছিন্ন করছি। আমাকে অপমান করে ক্ষমা চাইতে আসলে আমার পায়ের কাছে মাথা না নামানো পর্যন্ত ক্ষমা পায়নি কেউ। এটা আমি। একসময় অন্যের আচরণ প্রভাব ফেলতো আমার উপর। আমি কষ্ট পেতাম। তবে যারা কষ্ট দিতো তাদের হৃদয়কে সারাজীবনের মতো ব্লক করে দিয়েছি আমি। এটাই আমি। আমি কারো অপমান, অত্যাচার সহ্য করিনি। কাউকে ক্ষমাও করিনি। তবে ঠান্ডা মস্তিষ্কে কয়েকটা পুরুষের প্রতিশোধ নিয়েছি। তবে, ছেড়ে দিইনি কাউকে।

আপনারা সুযোগসুবিধা লাভের আশায় অনেক অপমান, অত্যাচার সহ্য করেন। আসলে সুবিধা পেতে হলে এটা করতে হয়। এটা পৃথিবীর নিয়ম। আমার ভাবতে কষ্ট হয় - নারীরা তাদের অপমানকারী, অত্যাচারকারীর বুকে তেল মালিশ করে, তাদের ২ ইঞ্চি লিংগ অমৃতের ন্যায় চোষে। কিন্তু কেনো? কেনো তারা এসব করে? আর কতোদিন করবে? তোমাদের কি হৃদয়, মেরুদণ্ড বলে কিছুই নেই? না থাকলে কেনো নেই? এগুলো কতো কোটিতে বিক্রি করেছো? কার কাছে বিক্রি করেছো?

আমি এসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাই না। এখানে আমার বিপ্লবী কণ্ঠস্বর রুদ্ধ হয়ে যায়।


  • ৪২১৮ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

ফাহমিদা জামান ফ্লোরা

শিক্ষার্থী (ডিপার্টমেন্ট অফ ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়) এবং নারীবাদী লেখক।

ফেসবুকে আমরা