ধর্মীয় বিধান সবই কি কল্যাণকর?

শনিবার, জানুয়ারী ১২, ২০১৯ ৯:৫২ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


আজকাল কেউ নিজেকে নাস্তিক বলে ক্লেইম করলেই প্রশ্ন করা হয় সব ধর্ম পড়েছেন কী যে নিজেকে নাস্তিক বললেন?

আসলে নাস্তিক হতে সব ধর্ম পড়ার দরকার আছে কী? সৃষ্টিকর্তায় বিশ্বাস না করলেই কী সে নাস্তিক নয়?

যে যেই ধর্মের অনুসারী বা যেই ধর্মের পরিবারে মানুষের জন্ম হয় সেই ধর্মই যদি সে ত্যাগ করে তাহলে আয়োজন করে আরেকটি ভিন্ন ধর্ম ঘাটাঘাটি করে ক'জন আর তা গ্রহণ করে? কেননা অধিকাংশ আস্তিকইতো আরেক ধর্মের অনুসারীকে মনে করেন ভুল পথে ধাবিত সে। বেশীর ভাগ ক্ষেত্রেই শুধু নিজের ধর্মের প্রতিই মানুষের পক্ষপাতিত্ব কাজ করে -অযৌক্তিক বিষয়াদিও তখন যৌক্তিক মনে হয়। এমন কী যৌক্তিক মনে না হলেও মানুষ যুক্তি বের করার চেষ্টা করে।

নিজের ধর্মের বিষয়াদিতেই যদি মনে খুঁতখুতানি কাজ করে তাহলে সেই ধর্ম ত্যাগ করতে কতজন আর অন্য ধর্মের প্রতি নতুন করে আকৃষ্ট হবে? অন্য ধর্মের খুঁতগুলোতে আগেই কিছুটা হলেও সে শুনে থাকে যেটা কোনো বাঁধা ছাড়া সহজেই সে মেনে নেয় বা জাজ করতে পারে। তাহলে নতুন করে আবার ঘাটাঘাটি করে জীবনের মূল্যবান সময়ের অপচয় কতটা যৌক্তিক? জীবনের জ্ঞানের ভান্ডারতো এত সংক্ষিপ্ত নয় যে সব ধর্মের সব রকম কুসংস্কারই ঘেটেঘুটে যাচাইবাছাই করে দেখা সম্ভব।

আজ জানলাম নেপালের ছাউপাদি বিষয়টি -এতে হিন্দু দেবতাদের সন্তুষ্টি রক্ষায় পিরিয়ডকালীন সময়ে মেয়েরা ঘরের বাইরে গিয়ে থাকে। এমন কী বাচ্চা জন্মদান করলেও এই একই রীতি -নবজাতককে নিয়ে মায়েদের তখন সেখানে গিয়ে থাকতে হয়। তখন তাদের আশ্রয় বলতে থাকে খোলা আকাশের নীচে একটি মাচা এবং চাল। চারিদিক খোলা। এই ঘরকে বলে কাউসেড (চারিদিকে বেড়া ছাড়া গোয়াল ঘর বা খড়ির ঘরের মতো ঘর আর কী--যে যেমন করে তৈরি করে)। ওদিকে নেপালে শীতও তেমন কম নয়। এমন ঘরে থাকতে গিয়ে এক মাকে সাপে কেঁটেছে। বাচ্চারা এতিম হয়ে গিয়েছে তার। আরেক সদ্যজাত শিশু এমন পরিবেশে থাকতে গিয়ে মারা গিয়েছে অসুখে। ইয়াং মেয়েরা যখন এমন ঘরে থাকতে যায় তখন পাড়ার ফটকা ছেলেপেলে এসে উত্যক্ত করে। কেউ কেউ আবার রেপডও হয়। শুধু এখানেই সীমাবদ্ধ নয় এই ট্রাডিশন। পিরিয়ডগ্রস্থ মেয়েদের হাঁটাচলার পথও ভিন্ন করে দেয়া, যেনো দেবতা খুশী থাকেন। কেননা পিরিয়ড হলে মেয়েদেরকে অপবিত্র মনে করা হয়।

যদিও ২০০৫ এ আইন করে ধর্মীয় এই কুসংস্কারকে বন্ধ করা হয়েছে নেপালে তথাপি আজও এই রীতি চালু আছে নেপালের গ্রামগঞ্জে। আমাদের কাছে বিষয়টিকে হাস্যকর মনে হলেও তাদের জন্যে সিরিয়াস বিষয় এটি। যারা এই সমস্যার ভূক্তভোগী তারা না পারে বলতে না পারে সইতে। এরই মাঝে কেউ কেউ হয়তো বলে ফেলে, আর কত?

শুরু হয় ঠোকাঠুকি, দলাদলি, বাঁধে সংঘর্ষ! একটু একটু করে বদলাতে থাকে চিন্তাধারা। সময় যায়, এক সময় হয়তো আইনেও পরিবর্তন আসে।

কোনো কোনো দেশে মুসলিম মেয়েদের খৎনার রীতি আজও চালু। ভাবলেই কেমন গা শিউরে ওঠে। আমাদের দাদীনানীর সময়ে তিন/চার সতীনের ঘর চালু ছিলো। এই সেদিন আমাদের পরিচিত মধু মিয়া যখন ধর্মীয় পথে দ্বিতীয় বিয়ে করে আনেন আরেক সুন্দরীকে, তার প্রথম স্ত্রী'র দিলে আগুণ লেগে যায়। কথা না বাড়িয়ে রাগে শোকে তিনি বদনার পানিতে গুলিয়ে দেন লাল মরিচের বাটা। তার টার্গেট শুধু নববঁধূ হলেও বাসর যাপন শেষে আগে হাগু চাপায় ফাঁদে পড়ে যান তার প্রাণের স্বামী -রাখে আল্লাহ মারে কে? উল্টা বরের মার পড়ে নিজের কাঁধেই।

আজ আর বহুবিবাহ তেমন দেখা যায় না। আইনও এটাকে তেমন উস্কানি দিয়ে সাপোর্ট করে না জনস্বার্থেই। এতে শুধু স্বাস্থ্যগত সমস্যার ছড়াছড়ির সম্ভাবনাই বাড়ে না। স্ত্রীগণও প্রেমের চেয়ে কূটকৌশলেই বেশী দক্ষতা অর্জণ করেন। সতীনদের কাহিনী ঘাটলে তেমনই আলামত মেলে।

জীবনে বদ্ধমূল ধারণা নিয়ে বসে থাকা যায় না। সময়ের সাথে সাথে চিন্তা চেতনায় পরিবর্তন ঘটাতে হয়। কেননা গতিশীলতা এবং অবিরত উন্নয়ণই জীবনের চাওয়া।


  • ২৯২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

শিল্পী জলি

সমাজকর্মী, ইউএস প্রবাসী

ফেসবুকে আমরা