সিগারেট মেয়েরা ফুঁকলে কার্বন ডাই অক্সাইড আর ছেলেরা ফুঁকলে অক্সিজেন বেরোয়!

সোমবার, জানুয়ারী ১৫, ২০১৮ ১০:০৫ AM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


সেই কবে বঙ্কিম লিখেছেন, মেয়েমানুষ বড় জঞ্জাল। মেয়েমানুষের সেই উপমা আর গেলো না। পৃথিবী এগিয়ে চাঁদে চলে গেলো, মঙ্গলে উপনিবেশ স্থাপনের প্ল্যান হতে লাগলো। শুধু মেয়েমানুষ রয়ে গেলো যেখানে ছিলো, সেখানেই। বা, বলা যায় তার রোল এক্সটেনশন হলো। সে ছেলেও বিয়োয়, আবার পুরুষের মতো চাকরিও করে। সকালে উঠে রাঁধে বাড়ে, সবাইকে খেতে দেয়, আবার নিজের খাবারের বাক্স বেঁধে অফিসেও দৌড়ায়। মেয়েমানুষ পুরুষের মতো বাসে ট্রেনে গুঁতোগুঁতি করে অফিস পৌঁছায়, রাস্তায় শোনে "লেডিজে যেতে পারেন না। এখানে দাঁড়ানোর যায়গা নেই দেখছেন তো!" অবাঞ্ছিত ধাক্কা খায় সামনে পিছনে।

600

অফিস পৌঁছে সেখানে বসের কাছে "এইজন্যেই মেয়ে নিই না টিমে, রোজই দেরি করে আসে" শোনে। তারপর সারাদিন মেয়ের ডে’কেয়ার, শাশুড়ির বাতের ওষুধ, আর বরের ড্রাই ওয়াশ করতে দেওয়া স্যুটের খবর নেয় ফোনে কাজের ফাঁকে ফাঁকে। বদলে পাশের সিটে বসা কলিগ টিপ্পনি শোনে, এইজন্যেই আমি বউকে চাকরি করতে দিই না। অফিসে কাজ করে কতক্ষণ? অথচ সময়ে প্রমোশন চাই। চুপ করে শোনে মেয়ে। চোরের মার খেয়ে চুপ করে থাকাই নিয়ম।

অফিসের সবচেয়ে ডুড ছেলে অফিসের হোয়া গ্রুপে জোক পাঠায়, মেয়েরা জামার প্রথম বোতাম খুলে চাকরি পায়, আর ছেলেদের জামার প্রথম বোতাম খোলা থাকলে তারা রিজেক্ট হয়। টিমসুদ্ধ লোকজন পড়ে হ্যা হ্যা করে খানিক। রাতে বাড়ি ফিরে রান্না আছে, শাশুড়ির- "আরেকটু তাড়াতাড়ি আসবে তো! মেয়েটা সারাদিন তোমায় পায় না" শোনা আছে। বর মোবাইল খুলে দেখে কে কে কী মেসেজ পাঠিয়েছে। ওই জামার বোতাম খোলা মেসেজ দেখে হেসে নেয় খানিক আগে, তারপর বলে, তোমাদের অফিস গ্রুপের মেসেজ আজকাল সাবালক হচ্ছে দেখি! যদিও বরের মোবাইলের পাসওয়ার্ড জানার হক নেই তার।

এই রুটিনের বাইরে বেরোলেই মেয়ে খারাপ। সিঙ্গল মা খারাপ, ডিভোর্সি মেয়ে খারাপ, এসিড এট্যাক থেকে ডিভি হয়ে রেপ সারভাইভার, সবাই খারাপ। মেয়েমানুষদের আজকাল কত স্বাধীনতা দেওয়া হয়, তবু হয় না! যেন মেয়েদের স্বাধীনতা ছেলেদের পকেটে থাকে, দশ বারো আনা বের করে দিয়েছে, তবু আরো চাই। বাংলাদেশের এক শর্টফিল্ম বানানেওয়ালা তার মুভিতে বলেছে, মেয়েরা প্রকাশ্যে সিগারেট খেলে পরিবেশ দূষণ হয়। মেয়েদের ফোঁকা সিগারেটে কার্বন ডাই অক্সাইড বেশি। পুরুষরা ফুঁকলে বোধহয় অক্সিজেন বেরোয়! আমার কর্তার এক্স-বস বাড়িতে নেমন্তন্ন খেতে এসে বলেছিলো, মেয়েছেলে ছোট জামা পড়লে রেপ তো হবেই। রাস্তায় বিএমডব্লু ফেলে রাখলে চুরি করবে না চোরে? মানে, পুরুষরা যে সবাই চোর রেপিস্ট বাই নেচার সেটা তাঁর মতো অতি শিক্ষিত গর্বের সাথে স্বীকার করেন। এত জঞ্জাল জিনিস বাঁচিয়ে রাখার কী দরকার জানি না। মেয়ে সন্তান যারা পেটেই মেরে ফেলে, খুবই ভাল কাজ করে। এইই সার সত্য।

বিধিসম্মত সতর্কীকরণ:

এক, আমি নিজে শুধু স্মোক করি না তা নয়, অন প্রিন্সিপ্যাল কোনোভাবে তা প্রোমোট করি না। দ্যাট ইনক্লুডস কোনো স্মোক করার ছবিতে লাইক না করা থেকে স্মোকিঙের প্রোফাইলওয়ালা লোকজনের ফ্রেন্ড রিকু এক্সেপ্ট না করা। কিন্তু মেয়েছেলে স্মোক করলে পরিবেশ দূষণ হয়, ছেলেরা করলে হয় না বললে খিস্তোবো। বেশ করবো।

দুই, বহুদিন ডিপ্রেশড হই না। রাগ হয়। চিল্লাই। মার খাই। হারি। আবার উঠি। আজ খুবই ডিপ্রেসড। কেনো জিগাবেন না। অস্থির এবং বিরক্ত। এই ছোটলোকের দেশে কোনোদিন কিছু হবে না। সারাজীবন কষ্ট পাওয়ার থেকে মেয়েগুলো এক ঘায়ে মরে গেলেই বাঁচা যায়।


  • ৬৫১ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

দেবশ্রী মিত্র

টেলিকম ইঞ্জিনিয়ার

ফেসবুকে আমরা