রুমানা রশিদ রুমি

রুমানা রশীদ রুমী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের লোক প্রশাসন বিভাগ হতে স্নাতক আর স্নাতকোত্তর ড্রিগ্রি নেবার পর মানব সম্পদ ব্যবস্থাপনায় এম বিএ করেন। বর্তমানে আইন বিজ্ঞানে অধ্যায়নরত। পেশা হিসেবে বেছে নিয়েছিলেন সাংবাদিকতাকে। ছিটকে পড়ে যোগ দেন ব্যাংকে। লেখালিখি আর কাটখোট্টা ব্যাংকিং এক সাথে তাল মেলাতে না পেরে বর্তমানে আছেন ‘দি বাংলাদেশ মনিটর’ এর ‘ফিচার রাইটার”হিসেবে। তাঁর সম্পাদনায় প্রকাশিত হয় ম্যাগাজিন ‘রংঢং’। নিয়মিত লেখেন ‘দি বাংলাদেশ অবজারভারে”। লিখছেন বিভিন্ন অনলাইন পত্রিকায়। কাজ করছেন নারী সম্পদ নিয়ে। ‘শূন্য প্রকাশ’ প্রকাশনী থেকে ২০১৫ সালের ‘একুশে বইমেলায়’ বের হয় তাঁর প্রথম ফিউশন ‘জয়িতা’। পাঠকের উৎসাহে চৈতন্য প্রকাশনী থেকে বের হচ্ছে “এ শহরের দিদিমনি “।

বিশ্বায়নের ঝড়ে পড়শী হে আমার : প্রযুক্তি সমাচার

ব্রিটিশ লর্ড আটকিন একবার এক বিখ্যাত মামলার শুনানীতে বলেছিলেন প্রতিবেশীর ক্ষতি করা চলবে না। তারপর প্রতিবেশীর ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে তিনি বলেন কোনো কাজের জন্য যার ক্ষতি হবার আশঙ্কা রয়েছে সে ব্যক্তিই উক্ত কাজ সম্পাদনকারীর প্রতিবেশী।

তার মানে এতদিনে যে জানতাম আমার বাড়ির আশেপাশের ৪০ ঘরই আমার প্রতিবেশী তা কিন্ত এখন আর প্রযোজ্য নয়। এখন আমরা বিশ্বায়নের হাওয়ায় দুলছি। সমস্ত বিশ্বের মানুষ প্রযুক্তির সুবিধা ভোগ করে চটজলদি আমাকে দেখতে পাবে যখন তখন। সবাই সবার প্রতিবেশী।

তাহলে লর্ড আটকিনের কথা যদি মেনে চলি তবে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহারে আমাদের কত বেশী সচেতন হতে হবে একবার ভাবুন।

যোগাযোগের জন্য যে মাধ্যমেই হোক আমার কাছে যারাই আসবেন বা আমি যাদের কাছে যাবো সবাই তখন আমার প্রতিবেশী। তাকে নোংরা কথা বলা, বা তার কোনো নোংরা কথা স্ক্রীনশট নেয়া বা নোংরা কোনো ছবি, লিংক, ক্ষতিগ্রস্থ গেম আদান প্রদান করে তাকে ক্ষতির দিকে নিয়ে যাওয়া, যখন তখন যা তা ট্রোল করা বা ক্ষতিকর যা ইচ্ছা তাই শেয়ার করে ভাইরাল করা সবটাই আমার এখতিয়ারের বাইরে।

একথাগুলো বলতে হচ্ছে কারণ আমরা প্রযুক্তির সুবিধা নিতে চাইছি। প্রযুক্তিগত সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ব্যবহার করতে চাইছি। কিন্ত সামাজিক হচ্ছি না। অসামাজিক আচরন করে সমাজে বিশৃংখলা বয়ে আনছি। সমাজের শৃংখলা বজায় রাখতে শাসনের অস্ত্র হিসেবে পুরাতন ধ্যান ধারনা, অজ্ঞতা, ধর্মীয় গোড়ামির জের ধরে এক পর্যায়ে প্রযুক্তিকেই দোষারোপ করছি। আমি নিজে তো পারছিই না বরং আমার নিজের সীমাবদ্ধতাকে আড়াল করতে যারা এগিয়ে যাচ্ছেন তাদের পেছন থেকে টেনে ধরছি।

একবারো কি ভাবছি একটি উন্নয়নশীল দেশকে আরো সমৃদ্ধ করতে প্রযুক্তির উন্নয়নে সরকারকে কত কত টাকা বিনিয়োগ করতে হয়? কত কত মানুষের দিনের পর দিন পরিশ্রম,মেধা দিয়ে বাস্তবায়ন করা প্রকল্পকে নষ্ট করে দিচ্ছি আমার নিজের অজ্ঞতার জন্যে।

দেশের মানুষের জীবন যাপনের শ্রীবৃদ্ধির জন্য আইন তৈরি হয়। কিন্ত আইন ই লাগতো না যদি অপরা্ধ না থাকতো। অথচ আজকে আমার কোনো কাজে সেটা সতর্ক হোক বা অসতর্কতায় অন্যের ক্ষতির  বিশেষ করে প্রত্যক্ষ এবং সাম্প্রতিক ক্ষতির কারণ হচ্ছে এবং তা অপরাধ।

মুহূর্তের মধ্যে আমরা মানুষের ব্যক্তিগত বিষয়ে অনুপ্রবেশ করে ফেলছি নিজের অবচেতনে। আমাদের প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রনের বাইরে চলে যাচ্ছে। আমরা প্রত্যক্ষভাবে অন্যের ক্ষতির কারণ হয়ে যাচ্ছি। লাফিয়ে লাফিয়ে আমরা অপরাধপ্রবন হয়ে পড়ছি। এবং একসময় অপরাধ করেই ফেলছি। অগত্যা অপরাধী হয়ে যাচ্ছি। প্রতিদিন পুলিশের তথ্য প্রযুক্তি নিরাপত্তা ও অপরাধ বিভাগে অনেক অভিযোগ জমা পড়ছে। তাই তোড়জোর করে সাইবার ক্রাইম দমনে আইন তৈরী হচ্ছে। নিয়মের বেড়াজালে ফেলতেই হবে বিশৃঙ্খল সমাজকে নিয়ন্ত্রনে রাখতে।

তাহলে মাঝে পড়ে আহা বন্ধু তুমি; পড়শী যে আমার এখন কোথায়?

খবরে বারবার উঠে আসছে সাইবার ক্রাইমের ফাঁদে পড়ে সর্বস্বান্ত হচ্ছে অনেকে। যার ৭০% নারী আর যাদের বয়স ২৫ বছরের নীচে। আহারে নারী অপরদিকের মানুষটি কি আদতে তোমার বন্ধু বা প্রেমিক? বন্ধু, প্রেমিক যাইহোক সব সম্পর্কের একটা সীমাবদ্ধতা থাকে। যে কথা বন্ধুসুলভ নয় বা প্রেমিকসুলভ নয় সে কথা প্রশয় দেয়া শুধু একজন নারীর জন্য নয় অন্য নারীর জন্যও ক্ষতিকর। কেননা এতে ওই ধরনের কথা বলতে অপরদিকের মানুষটি অভ্যস্ত হয়ে পড়ে। তাই উপযুক্ত সময়ে সঠিক বাক্য বা আচরন আদান প্রদানে অপরপক্ষকে সতর্ক করা নারীর দায়িত্ব এবং অধিকার।

কিন্তু বিশ্বাসের দিকটি থেকে গেলো। আমার কাছে সহজ উত্তর – মানুষের মাঝে স্বর্গ নরক, মানুষেতে সুর অসুর। আমরা যতই প্রযুক্তিতে এগিয়ে যাই না কেনো সমাজ বিজ্ঞান, নৈতিক বিজ্ঞানের বাইরে বের হতে পারবো না। বিশ্বাসভঙ্গ হলে পৃথিবী মানবশূন্য হবে। আজকের স্পামব্যাংকের থেকে কেনা স্পাম্প মাতৃত্ব আগ্রহী রা এই বিশ্বাসভঙ্গের ফসল। এ সন্তান আমাকে মাতৃত্ব দেবে কিন্ত যে সন্তান বড় হবে সে হতাশাগ্রস্ত হয়ে বেড়ে উঠবে। বাবা-মার যৌথ বেড়ে ওঠার ভেতর তার যে মানসিক বিকাশ তার সাথে পার্থক্য হবেই। তা্ই ভয়ংকর সেই এককেন্দ্রিক জীবন যাপনে আগ্রহী জেনারেশনকে ভালোবাসায় বাঁধতে নারী –পুরুষ নির্বিশেষে সহজাত প্রবৃত্তি নিয়ন্ত্রনে রাখুন, সহিষ্ণুতা বজায় রাখুন, নৈতিক বিষয়ে অধ্যাবসায় করুন। নারী-পুরুষের পারষ্পরিক শ্রদ্ধাবোধ বৃদ্ধি করুন। পরিবারকে সময় দিন।

982 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।