জানাযায় নয়, প্রতিবাদে ভিড় করুন

মঙ্গলবার, এপ্রিল ১৬, ২০১৯ ৩:১১ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


নুসরাতের জানাজায় হাজার হাজার মানুষ ভিড় করেছিলো, এতো মানুষের ঢল দেখে ভাবছিলাম এই মানুষেরা এতোদিন কোথায় ছিলো?

তবে কি মরে গেলে মানুষের মনে এমন ভাব আসে? মেয়েটা বেঁচে থাকতে সে যখন অসভ্য অধ্যক্ষ সিরাজের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করছিলো তখন এরা কি চোখ কান বুজে ছিলো, শুনতে পায়নি, কিছু জানতে চায়নি?

এটি ২০১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি ‘দৈনিক মানবজমিনের’ প্রতিবেদন। প্রতিবেদনে স্পষ্ট বলা হয়েছে, প্রেম প্রস্তাবে সাড়া না দেয়ায় নুসরাত জাহান রাফি নামে এক দাখিল পরীক্ষার্থীর চোখে চুন জাতীয় দাহ্য পদার্থ ছুড়ে মেরেছে বখাটেরা। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পরীক্ষাকেন্দ্র ঘুরে, রাফির মাথায় হাত রেখে বলেছিলেন, আমি আশ্চর্য হয়েছি চোখে প্রচন্ড জ্বালাপোড়া নিয়ে নুসরাত সাহসিকতার সঙ্গে পরিক্ষায় অংশগ্রহণ করেছে, আমরা নুসরাতের পাশে আছি থাকবো। পরবর্তীতে জানা গেলো, ওই চুন নিক্ষেপকারী ছিলো, বখাটে নূর উদ্দিন। কিন্তু তাকে গ্রেপ্তার তো দূরে থাক পুলিশ সেই সময় কিছুই করেনি।

অথচ ঐ রকম এক অঞ্চলে এসব খবর সবারই জানা থাকার কথা ছিল একটি মেয়ে দুই বছর আগে বখাটের দ্বারা উক্ত্যক্ত হওয়ার পরও প্রশাসন কেনো নিশ্চুপ ছিলেন? কেন তারা বখাটে নূর উদ্দিনকে সেই সময় গ্রেপ্তার করতে পারেননি?

আজ যদি নূর উদ্দিনের শাস্তি হতো, তাহলে কী সিরাজরা এভাবে সাহস পেত?

এরপর চট্টগ্রামের পাহাড়তলী চক্ষু হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় দাখিল পরীক্ষা দিয়েছিলো মেয়েটি। খবরের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই সময় সোনাগাজী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মিনহাজুর রহমান এবং ওসি হুমায়ুন কবীর, নুসরাতের উপর চুন নিক্ষেপ কারী বখাটে যুবককে অবশ্যই আইনের আওতায় আনার কথা জানিয়েছিলেন।

এই দেশের মানুষের মন বোঝা বড় মুশকিল। অথচ তখন গোটা ৫০ জন মানুষ যদি নুসরাতের পাশে দাঁড়াতো তাহলে মেয়েটাকে পুড়িয়ে মারতে পারত না। এভাবে জানাজাও হতো না ।

এখন ভাবছি এই মেয়েটার পরিবারে যারা বেঁচে আছে কতদিন এরা নিরাপদে বেঁচে থাকার সুযোগ পাবে। কোন কোন অভিযোগের খপ্পরে না জানি তাদের পড়তে হয় !

প্রাথমিক যুদ্ধটা আশেপাশের মানুষদেরই শুরু করতে হয় কিন্তু হায় আমরা তো মানুষের বিপদে তামাশা দেখতেই বেশি ভালোবাসি। অন্যের যুদ্ধকে নাটক সিনেমা ভাবি,কত কি ভাবি ... এই মানুষেরা।

দয়া করে আমার ইনবক্সে কেউ বাংলা নব বর্ষের শুভেচ্ছা জানাবেন না। আমি এইসব লোক দেখানো রীতিনীতিতে বিশ্বাসী নই বলে দুঃখিত।


  • ২৮১ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

ফেসবুকে আমরা