বাংলাদেশের বোরকায়ন ও ধর্মীয় রাজনীতি

বুধবার, সেপ্টেম্বর ১৬, ২০২০ ১১:৩৮ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


সম্প্রতি বোরকা বিষয়টা ভাইরাল হয়ে ভালো হয়েছে। এতে পরিষ্কার হয়ে গেছে সমাজ পরিবর্তনের গতিপ্রবাহ এবং ভবিষ্যৎ গন্তব্য। একই সাথে এটা নাস্তিকদের জন্য এসিড টেস্ট, মুখোশ খুলে যাচ্ছে অনেকের। ফেবুতে বোরকা পরিহিত একজন নারীকে তার সন্তানের সাথে ক্রিকেট খেলার একটা ছবিকে সবাই বাহবা দিচ্ছেন, কেউ কেউ বলতে চাচ্ছেন, বোরকার সাথে ক্রিকেট খেলার কোনো বিরোধ নেই। ছবিতে মা ও শিশুর ক্রিকেট খেলার আনন্দকে আপনি “ম্যাডোনা অ্যান্ড চাইল্ড” বললেও আমার কোনো আপত্তি নেই। কথা হচ্ছে, ছবির নারী কৈশোরে নিজেও একজন অ্যাথলেট ছিলেন। পত্রিকা মারফত জানলাম তিনি বর্শা নিক্ষেপ, দীর্ঘ লাফে পুরস্কারও জিতেছেন ছাত্রজীবনে। তো আমার প্রশ্ন হচ্ছে তিনি কি বোরকা পরেই সেই স্কুল জীবনে খেলায় অংশ নিয়েছিলেন? নাকি তিনি বিয়ের পর বোরকা পরেছেন? বোরকা তার নারী স্বাধীনতার অংশ হিসেবে নিজেই ‘চয়েস’ করে নিয়েছেন?

সমাজ দ্রুত বিভক্ত হয়ে যাচ্ছে দ্বিমুখী বিভাজনে এবং ভবিষ্যতে এই পোলারাইজেশন বাড়তেই থাকবে। বোরকার পক্ষ বিপক্ষ তৈরি করার একটা উদ্দেশ্য প্রণোদিত রাজনীতি আছে। বোরকা প্রমোট করার সাথে ক্ষমতার সম্পর্ক আছে, সংখ্যাগরিষ্ঠের ভোটের বিষয় আছে। বোরকার সমর্থক কুটিল বামপন্থী আর বোরকার বিরোধী উদার প্রগতিশীলতার তর্ক এড়িয়ে একটু পিছনে ফিরে দেখি বাংলাদেশ হিজাবাইজেশন বা বোরকায়নের কারণ কী? কেনো বাংলাদেশের এমন অবস্থা হলো যেখানে সরকার থেকে শুরু করে দেশের প্রধান প্রধান গণমাধ্যমে বোরকার প্রচার প্রসার বিপণন চলছে? বাংলাদেশের সব রাজনৈতিক দলই ক্ষমতার মসনদ আঁকড়ে ধরতে ধর্মকে ব্যবহার করেছে কিন্তু আওয়ামীলীগ গত একটানা শাসনামলে যতটা নির্লজ্জভাবে ধর্মকে ব্যবহার করেছে তা মনে হয় বিএনপি, জামাত জাতীয়পার্টি স্বপ্নেও কল্পনা করতে পারবে না কারণ তাদের সামনে থাকবে আওয়ামীলীগের মতো প্রবল প্রভাবশালী বাংলাদেশের একমাত্র প্রগতিশীল বিরোধীদল। আওয়ামীলীগ ধর্মকে ব্যবহার করেছে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করতে।

বাংলাদেশের একমাত্র প্রগতিশীল, মুক্তিযুদ্ধের স্বপক্ষের দলটি ধীরে ধীরে গায়েব করে দিয়েছে উদীচী, সম্মিলিত সাংস্কৃতিক জোট, জাতীয় কবিতা পরিষদ, গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের মতো অসাম্প্রদায়িক প্রতিষ্ঠান। আর এইসব প্রতিষ্ঠানের কর্তাব্যক্তিরাই ভেবেছে আওয়ামীলীগ হলো মা-বাপ আর তারা নিজেরা আওয়ামীলীগের বাচ্চা। আওয়ামীলীগ ধ্বংস করতে বাকি রাখে নাই তার সম্ভাব্য কোনো প্রেসার গ্রুপ, বিরোধীদল বা প্রতিবাদী চরিত্র। আওয়ামিলীগের আমলেই খুন হয়েছে বেশিরভাগ মুক্তমনা, প্রগতিশীল লেখক, আক্রান্ত হয়েছে শিল্পী ও শিল্প। কিন্তু কোনদিন বিচারের ব্যবস্থা করে নি। মুক্তমনা লেখক, কবি, সাংস্কৃতিক কর্মী, এলজিবিটি এক্টিভিস্ট ক্রমাগত খুন হতে থাকলে যাদের প্রতিবাদ করার কথা তারাই শহিদ মিনারে নাগরিক সমাবেশে সাংস্কৃতিক কর্মী, লেখক, শিল্পী, মুক্তমনা মানুষদের আহ্বান জানান সামাজিক বিশৃঙ্খলা হতে পারে এমন বিষয়ে তারা যেন কিছু না লেখেন। বাংলাদেশের বুদ্ধিজীবীরা গৃহপালিত, তারা কোনদিন সরকারের অন্যায্য কর্মকাণ্ডে বাঁধা দেয় নি, সরকারের সমালোচনা করে দুটো বিবৃতি দেন নি। তাদের সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ড ব্যক্তিবন্দনা, দলীয় ফরমায়েশি বৃত্তে আবদ্ধ হয়ে গেছে। এভাবেই দিনে দিনে বাড়িয়াছে দেনা, এখন শুধাতে হচ্ছে ঋণ। আওয়ামীলীগ দেশে সব সময় এমন একটা হেজিমনি পরিস্থিতি তৈরি করে ফেলে যে জনগণ সেই ইস্যুতে ব্যস্ত হয়ে যায়, জনগণ নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেয়, ফলে সরকারও নিজেদের অপকর্ম থেকে দায় মুক্ত থাকে। আওয়ামীলীগ সাংস্কৃতিক প্রতিষ্ঠান দখলে নিয়ে ইসলামপ্রিয় জনগণকে উপহার দিলো কওমি মাদ্রাসার মাস্টার্স সমমান ডিগ্রি, বাংলাদেশের প্রতিটি থানায় একটা করে মডেল মসজিদ। প্রতিটি থানায় একটা লাইব্রেরি থাকলেও সেটা ব্যবহার ও রক্ষণাবেক্ষণের অভাবে এখন পরিত্যক্ত। সুতরাং মফস্বলের ছেলেমেয়েদের পড়ার কোনো লাইব্রেরি আর রইলো না।

বামপন্থী যুক্তমনা এরোমেটিক কসমেটিক্সের ১০০% হালাল সাবান অথবা ইউনিলিভারের হিজাব শ্যাম্পুকে পুঁজিবাদী পণ্য বলে পুরনো শ্রেণি সংঘাতের তত্ত্ব টানলেও ধর্ম যে পণ্যের বাজার সেটা স্বীকার করবে না, সেখানেও দ্বান্দ্বিক বস্তুবাদ ধরিয়ে দেবে এবং মুক্তি ও বিপ্লবের ধোঁয়াশা পাণ্ডিত্য উপস্থাপন করবে, কারণ বাম এবং ইসলামের মধ্যে একটা অবৈধ সম্পর্ক আছে। সুতরাং সরকার, বিরোধীদল, বাম কোনো পক্ষই ইসলামকে ব্যবহার করতে বিরত থাকে না। এরোমেটিক কসমেটিক্সের ১০০% হালাল সাবান, ইউনিলিভারের হিজাব শ্যাম্পুর কথা যে প্রসঙ্গে বলছিলাম, সমাজে ধর্মীয় এবং যৌন সুড়সুড়ি সবসময় ছিলো। যৌন সুড়সুড়ি জাগানোর জন্য যেমন পার্টনার লাগে তেমনি ধর্মীয় সুড়সুড়ি জাগাতে রাষ্ট্র লাগে। রাষ্ট্র ক্ষমতায় টিকে থাকার জন্য রাজনৈতিক দল শুরু করে ইসলাম তোষণ, যার ফ্লাগশিপ প্রমাণ আমাদের কাটাছেঁড়া সংবিধান। আলো থেকে ক্রমাগত অন্ধকারে প্রবেশের ইতিহাস মনে হয় একমাত্র বাংলাদেশের। এত সমৃদ্ধ সাংস্কৃতিক দেশে পোশাক নিয়ে তর্ক হবে কে তা ভেবেছিলো! এখানে নবান্নের পরে রাত্রি জেগে পালাগান, যাত্রাগানের মেলা, বিচারগান বা মারফতি গানের আসর, সহজিয়া বৈষ্ণব বা লালনের আখড়া, ক্ল্যাসিকাল গানের জলসা। সেখানে পোশাকের সমালোচনার প্রসঙ্গ আসে নি কখনো। কারো পোশাক নিয়ে বাধ্যবাধকতা দেখি না। পোশাকের কারণে মরমী সাধকের নিরাপত্তাহীনতা দেখি না। গ্রামের কৃষকের বউ বা মা যখন গামলার ভাত গামছায় বেঁধে নিয়ে ধানের মাঠে, পাটের খেতে যায় তখন পোশাক কোনো সমস্যা না। হুমায়ুন আজাদ একবার বলেছিলেন, “এদেশে ভিক্ষুকের ছেঁড়া কাপড়ের ভিতর দিয়ে যৌনাঙ্গ বের হয়ে গেলেও তার দিকে কেউ ফিরেও তাকায় না”। কিন্তু এদেশে একজন তরুণী ওড়না ছাড়া বের হলেও তার রাস্তার মানুষ তার জন্ম ঠিকুজী বের করে ফেলে এবং রাস্তার ভিক্ষুক থেকে শুরু করে ফেরিওয়ালা বা হোটেলের বয় বা কনজ্যুমার প্রোডাক্ট কোম্পানির প্রধান কর্মকর্তা মেয়েটিকে বেশ্যা প্রমাণ করে ছাড়ে।

আমাদের চোখের সামনে বাংলাদেশকে একটা ট্রানজিশন পিরিয়ড পার করতে দেখলাম। এই পরিবর্তনটা শুরু হয়েছে কয়েক দশক আগে থেকেই কিন্তু চোখে ট্রমার মতো লেগে থাকা আচমকা পরিবর্তন শুরু হয়েছে সম্প্রতি। আমাদের চিরচেনা গণ্ডীর বাইরে ব্যতিক্রম দেখলেই মনে প্রশ্ন জাগে পরিবর্তনটা ভালো নাকি মন্দ? পরিবর্তন কি নান্দনিক নাকি প্রাসঙ্গিক তার স্বপক্ষে বয়ান করার জন্য দুইচার জন ডিগ্রীধারী জোয়ানকে নিয়োগ দিতে হয় যারা রেখাচিত্র, তথ্য উপাত্ত দিয়ে যারা স্বাধীনতা, অধিকার বুঝিয়ে বলবেন জলবত তরলং। দেখবেন কিছু ইস্যুতে বিশেষ কিছু মানুষ এক প্লাটফর্মে চলে আসে এবং কিবোর্ডের সবচেয়ে উঁচু পর্দায় গাইতে থাকেন পরাধীনতার গান, শেকলের সৌন্দর্য, উচ্চরবে প্রচার করতে থাকেন পারলৌকিক মুলোর বিজ্ঞাপন। এই লোকগুলোকে চিনে রাখা জরুরি। বাংলাদেশের সামজিক পরিবর্তনের অংশ হিসেবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়কে এপি সেন্টার ধরলে এই বাংলাদেশকে চেনা যায় না, মনে হয় আলিয়া মাদ্রাসা, ইনফ্যাক্ট ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এখন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় মাদ্রাসা। আমি রাস্তাঘাটে অহরহ তিন চার বছরের শিশুকেও বোরকা পরানো অবস্থায় দেখেছি। বোরকা ঢাকা শিশু বাবার কোলে কোথাও যাচ্ছে। পিছনে হাঁটছে বোরকা পরা আরেকজন নারী। পোশাক তো যার যেমন পছন্দ পরতেই পারেন। তিন বছরের শিশুটিও হয়তো পছন্দ করেই গরমে সেদ্ধ হতে নিজেকে মুড়িয়ে রাখে। অথচ পাকিস্তান আমলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রীদের দেখলে বর্তমান ছাত্রীরা হয়তো বেপর্দা বলে পাবলিক শেমিং করে ফেলতে পারে। বর্তমান বাংলাদেশে রাষ্ট্রীয় ছত্রচ্ছায়ায় সামাজিক প্রচারণা আছে যে নারীর চুল দেখানো পাপ, হাসরের ময়দানে চুল হয়ে যাবে সাপ। নারীর শরীর হলো তেঁতুল, যা দেখলে পুরুষের লালা ঝরে। নারীর শরীর হলো মধু, অনাবৃত রাখলে সেখানে ভিড় করবে মাছি।

ট্রানজিশন পিরিয়ড বাংলাদেশের সামাজিক পরিবর্তন ঘটেছে রাজনীতি ধর্মের লেবাসে নাকি ধর্মের পিঠে রাজনীতি সওয়ার হয়ে নাকি রাজনৈতিক ধর্ম ব্যবসায়ী মিলেমিশে তা আমার মতো নন-একাডেমিকের পক্ষেও বুঝতে পারা খুব কঠিন কিছু নয়। যেহেতু আমার বোধের সামনেই সমাজের পরিবর্তন ঘটেছে সেহেতু সমাজের সদস্য হিসেবে সমাজের হৃদস্পন্দন আমি বুঝতে পারি, যেমন ধরুন বাচ্চাদের নাম। আগে বাংলাদেশী হিন্দু মুসলমান নির্বিশেষে সবার নিজ নিজ ধর্মীয় নামের বাইরেও একটা বাংলা নাম ছিলো। নব্বই দশকের উপসাগরীয় যুদ্ধের সময় সেই প্রথম বাংলাদেশের মুসলিম সমাজ একটা সত্যিকারের বীরোচিত নাম খুঁজে পায় "বাপের ব্যাটা সাদ্দাম" ঐ সময়ে জন্ম নেয়া শিশুদের জনপ্রিয় নাম। এরপরে তো মধ্যপ্রাচ্য সদ্য ফেরত বাংলাদেশি পাকা দালানের মালিক হীনমন্য মুসলমান সন্তানের আকিকা দিলেন আহরাফ, আহনাফ ইত্যাদি দুর্বোধ্য আরবি নামে। মধ্যপ্রাচ্য তখন সবে থেকে শিখে এসেছেন সালাফি ইসলাম, যোগ দিয়েছেন স্থানীয় রাজনীতিতে, নিয়ন্ত্রণ করেন গ্রামীণ পঞ্চায়েত, স্বেচ্ছায় দ্বায়িত্ব নেন মোরাল পুলিশের। ততদিনে তেল অর্থনীতির সুবাদে উপচে ওঠা পেট্রোডলার আসতে লাগলো বাংলাদেশের বিভিন্ন দ্বীনি এনজিওদের হাতে। সৌদি অর্থায়নে সালাফি ওয়াহাবি ইসলামের বয়ান চলতে থাকে মসজিদ, মাদ্রাসা, স্কুল, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয়, মেডিকেলে সর্বত্র। এখন তো বাসে, ট্রেনে, লঞ্চেও মিজানুর রহমান আজহারির ওয়াজ শোনা যায়। একজন বিশিষ্ট নাগরিকের কাছে প্রশ্ন করেছিলাম, বাংলাদেশে বোরকা, হিজাবের পরিমাণ বাড়ছে কেনো? উত্তরে তিনি বলেছিলেন, “”মানুষ যখন আত্মপরিচয় সংকটে ভোগে, তখন সংস্কৃতি আঁকড়ে ধরে”। বাংলাদেশের সংস্কৃতি বলতে তিনি কী বোঝাতে চেয়েছিলেন বা কী বোঝা আমার মাথার উপর চাপাতে চেয়েছিলেন তা শুধু মনে হয় ‘আলফা গড’ জানেন। যে দেশে আব্দুর রাজ্জাক, তারেক মনোয়ার, মিজানুর রহমান আজহারির মতো নারী বিদ্বেষী লোক শ্রেষ্ঠ ধর্মীয় বক্তা সেদেশে নারীর পোশাক কেমন হতে পারে তা সহজেই অনুমেয়।

এখন আমরা রোজার দিনে আগের রমজান বলতে পারি না, কারণ 'রামাদান সহি' উচ্চারণ। কলেজের মাঠের বিশাল ওয়াজ মাহফিলে ঈদুল আজহা/আযহাকে আমরা প্রথম জানতে পারি 'ঈদুল আদহা'র উচ্চারণ। সেদিন প্রথম জানতে পারি নারী, অধিকার ও স্বাধীনতার সম্পর্কিত সুসংবাদ। তারপর থেকেই ধীরে আমরা বাংলাদেশীরা ভাষার জন্য জীবন দিলেও সেই ভাষায় নিজের সন্তানের নাম রাখতে পারি না, নিজস্ব সংস্কৃতি রক্ষার জন্য যুদ্ধ করে দেশ স্বাধীন করলেও সেই সাংস্কৃতিক চর্চা করতে পারি না। জাকির নায়েকের সুবাদে আমরা এটাও জেনে গেছি একজন অমুসলিম যদি সালাম দেয় তাহলে তার উত্তরে কী বলতে হবে, অমুসলিমকে বন্ধু করা যাবে কি না, অমুসলিম দোকানের সদাই কেনা যাবে কিনা, ইত্যাদি বিচিত্র প্রশ্ন, যেগুলো একমাত্র ভুক্তভোগী ছাড়া কোনো যুক্তত্যাগী বুঝতে পারবে না।

বহু বছর আগে বাংলাদেশে নিযুক্ত একজন রাষ্ট্রদূত বলেছিলেন বাংলাদেশ হতে যাচ্ছে পরবর্তী মডারেট মুসলিম কান্ট্রি। আজকের ব্রাত্য রাইসু, ফরহাদ মজাহার, আসিফ নজরুল, ড্যাশনাকি ভট্টাচার্য, সলিমুল্লাহ খান সেই মডারেট মুসলিম কান্ট্রি বিনির্মাণের একেকজন তাত্ত্বিক গুরু আর কিছু ফেবু বিযুক্তমনারা সেই আন্দোলনের সিপাহশালার। বোরকা পরা তনু ধর্ষিত হলেও এই শ্রেণি প্রতিবাদ করে নি, অথচ বোরকা পরে ক্রিকেট খেলছে বলে নারী মুক্তির আশা দেখছেন। আসলেই আপনাদের হিপোক্রেজিনেস দেখে ইয়ে হয়ে যাই।

বামপন্থী ক্যামোফ্লজরা বলছে বোরকা নাকি ফ্রিডম অফ চয়েজ। যুক্তমনের ভেকধারী বামপন্থীরা শিখাচ্ছে স্বাধীনতা হলো দাসত্ব, যুদ্ধ হলো শান্তি আর অজ্ঞতা হলো প্রশান্তি। যুক্তমনার দল বোরকা পরিহিত নারীর ক্রিকেট খেলাকে নারী মুক্তির সিডও সনদ দিয়ে দিয়েছে আর ছেলেকে ক্রিকেট খেলায় সঙ্গ দেয়াকে মাতৃত্ব নামে মার্কেটিং করছে। গণমাধ্যম, ছদ্মবেশী মুক্তমনা, ক্ষমতার ব্লু প্রিন্ট ডিজাইনার খুব কৌশলে সমাজে বোরখার ইতিবাচক মনোভাব ও ইমেজ তৈরির চেষ্টা করে গেল এবং প্রথম আলো, ডেইলি স্টার অনেকাংশেই সফল, কারণ অনলাইনে এখন একটাই আলোচ্য বিষয়। মডারেট মুসলিমদের কাছে এটা একটা বিরাট সুসংবাদ যে বোরখা পরেও ক্রিকেট খেলা যায়, বোরকা আধুনিকতার সাথে সাংঘর্ষিক নয়। বোরকার স্বপক্ষে এই বিতর্ক তাদের জন্য সামাজিক স্বীকৃতি, ফলে বাস্তবে যে মেয়েটি সাধারণত বোরকা পরে না তার উপর সামাজিক হেনস্তার পরিমাণ বেড়ে যাবে।


  • ৩১২ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

বিকাশ মজুমদার

কবি, অনুবাদক, ব্লগার

ফেসবুকে আমরা