প্রতিভা রানী

প্রবাসী প্রতিভা রানী পেশাগত জীবনে বাংলাদেশে একজন শিক্ষক হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

বাড়িওয়ালা সমাচার

সময়টা সম্ভবত ২০১৩ এর শেষের দিকে, নির্দিষ্ট করে দিন তারিখ মনে নেই তবে শীতের শুরুর দিকে হবে হয়তো। তখন বরিশালে থাকতাম। নাম বলবো না তবে এক প্রভাবশালীর বাসায় ভাড়া থাকতাম। বাসাটা তেমন উন্নত নয় তবে জায়গা একটু বেশি এবং রাস্তার পাশে থাকায় আর ভাড়াটাও মোটামুটি আমাদের বাজেটের মধ্য থাকায় দেরী না করে উঠে গেলাম। খোঁজ খবর বেশি নেইনি তখন তবে সামনের দোকানদাররা খুব একটা ভালো রেপুটেশন দেয় নি বাসা এবং বাসার মালিকের সম্পর্কে। বাসাটা ফোনের মাধ্যমে কন্টাক্ট করি মালিকের বাবার সংগে।

যাইহোক বেশিদিন লাগে নি আমার ভুল ভাঙতে। কয়েকমাস পরেই একদিন বাসার মালিক আমাকে বলে বৌদি আমি একা থাকি মাঝে মাঝে খাবার দিতে পারেনতো। আমি ভাবলাম কোনো ব্যাপার না মাঝে মধ্যে একটু ভালোমন্দ খাবার দিতেই পারি তার কেযারটেকারের মাধ্যমে। এখানে বলে রাখা ভালো বাসার মালিকের বৌ ছেলেমেয়েরা ঢাকাতে থাকে আর মালিকও বরিশাল ঢাকা যাওয়া আসার মধ্যেই থাকে। তাই যখন বরিশালে থাকে তখন হোটেল থেকেই খাবার আনিয়ে খায়।

বেশ ভালোই চলছিলো সবকিছু। সময়মত ভাড়াটা মালিকের কাছে পৌঁছে দেয়া আর মাঝেমধ্যে হাই হ্যালো বলা ছাড়া তেমন কোন কথা বা দেখা সাক্ষাত হতো না। হঠাৎ করেই একদিন রাতে উনি আমাকে ফোন করেন, বৌদি আপনার সাথে আমার কথা আছে। আমি বললাম কি বলবেন বলেন। উনি বললেন ফোনে নয় সামনাসামনি বলবো। আমি বললাম কাল স্কুল থেকে ফিরে আপনার সংগে দেখা করবো তখন বলবেন।

যাইহোক পরদিন স্কুল থেকে ফিরে রেষ্ট নিয়ে বিকেলের দিকে ওনার সংগে দেখা করতে যাই। উনি ইনিয়ে বিনিয়ে আমার রান্নার প্রশংসা করেন সাথে এও বলেন আমি নাকি দেখতে সুন্দর বয়স বোঝাই যায় না। আমি কিছু বলি নি কারণ বেশিরভাগ পুরুষদের এইরকম রোগ আছে। তাই এক কান দিয়ে ঢুকিয়ে অন্যকান দিয়ে বের করে দিয়েছি। হঠাৎ করে আমার একটা ফোন আসায় আমি ওখান থেকে চলে আসি। পরেরদিন আবার ওনাকে জিজ্ঞেস করলাম কি বলবেন উনি বললো আপনাদের বরিশালে জমি আছে? আমি বললাম এখনও নেই কারণ এত টাকা দিয়ে জমি কেনার মতো এখন আর্থিক অবস্থা নেই। তিনি বললেন আমার একটা জমি আছে সদর রোডে চার শতাংশ। ওটা আপনাকে দিয়ে দিবো।

আমি হতবাক হয়ে যাই। কেনো আপনি আমাকে চার শতাংশ জমি দিবেন? যার তখন দাম নূন্যতম চল্লিশ লাখ টাকা। হঠাৎ বলা কওয়া নেই উনি আমার হাত দু’খানা ধরে বললেন বৌদি আপনাকে আমার খুব ভালোলাগে আপনার সংগে ফিজিক্যাল রিলেশন করতে চাই। আমি এক ঝটকায় হাত ছাড়িয়ে নিয়ে ওনাকে বললাম আপনার এত সাহস কোত্থেকে আসলো আমাকে বাজে প্রস্তাব দেবার? আর আমাকে ঘুষ দিতে চাচ্ছেন, আমি বিক্রি হবার মতো মেয়ে নই। একথা বলে নিজের ঘরে এলাম।

তখন আমার প্রচন্ড রাগ হচ্ছিলো নিজের উপর। কেনো না জেনে এরকম একটা বাজে লোকের বাসায় ভাড়াটে হলাম। কেনো ওনার সংগে দ্বিতীয়দিন দেখা করলাম। কেনো ওনার এই মতলব আগে বুঝলাম না। যাইহোক বাসায় এসে রতনকে ফোন দিয়ে বললাম পুরোটা। ও শুনে বললো টেনশন করো না ওনাকে এড়িয়ে চলো। তারপরেও মাথা থেকে কিছুতেই রাগ ঝাড়তে পারলাম না। মনে মনে ঠিক করলাম এই বাসায় আর থাকবো না। তবে আমার এটুকু বিশ্বাস ছিলো নিজের উপর যে নিজেকে রক্ষা করতে পারবো। যতবড়ই ক্ষমতাধর ব্যক্তি হোক না কেনো আর দ্বিতীয়দিন সাহস পাবে না বাজে প্রস্তাব দেবার।

তবে সেদিন থেকেই মনে মনে প্রস্তুতি নিলাম যে করেই হোক বাসাটা ছাড়তে হবে। প্রতিদিন স্কুল থেকে ফিরে বাসার খোঁজে বের হতাম। নিজের ছেলেমেয়েদেরও সময় দিতে পারতাম না। একটা মামাতো বোন বাসায় থাকতো ওই ওদের দেখাশোনা করতো। তবে বেশ মানসিক প্রেশারে থাকতাম। এভাবে বাসা খুঁজতে খুঁজতে হঠাৎ করেই একটা বাসা পছন্দ হয়ে গেলো। কিন্তু বিপত্তি বাঁধলো অন্যখানে। কারণ বাসার মালিক স্পষ্ট করেই বলে দিলো হিন্দুদের বাসা ভাড়া দেই না। আমি প্রচন্ড শকড হলাম তাদের কথায়। যাইহোক, আজ আর লিখবো না। অন্য সময় হবে বাকি কথা।

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।