নারীবাদী সাহিত্যতত্ব: লুপ্ত অতলান্তিক ও ভবিষ্যৎ বিনির্মাণ - ০৯

শুক্রবার, ফেব্রুয়ারী ১৪, ২০২০ ৩:২৮ AM | বিভাগ : সাহিত্য



) ক্রীড়াময় বহুত্ববাদ (Playful Pluralism): আনেত্তি কোলনি, এলিজাবেথ উইলসন কিম্বা এ্যালিসন লাইট প্রমুখ ‘ক্রীড়াময় বহুত্ববাদের প্রবক্তা। বিশ্বাসে এঁরা রবাট শোলেসের অনুসারী পুরুষ রচিত টেক্সটসমূহের একরৈখিক ও ঢালাও বিদ্বেষমূলক পঠনের হাত হতে নিস্কৃতি দিতে চান। যেমন, এলেন শোওয়াল্টারকৃত ‘দ্য মেয়র অফ ক্যাসটারব্রিজে’র পাঠকে তিনি ‘অতি সাধারণীকৃত’ বলে মনে করেন। সুসান কোপেলম্যান কার্ণলন, বহুত্ববাদীদের একজন, বলছেন: “আমাদের সংস্কৃতিতে কৈশোর সময়ের সঙ্কট সম্পর্কে কমবেশি আমরা সবাই জানি। ব্রন-ওঠা, যৌন কল্পনা, হস্তমৈথুন, শরীরের নতুন সব পরিবর্তন। কিন্তু ছেলেরা দ্রুত এই অসহায়ত্ব কাটিয়ে ওঠে। কারণ তাদের জন্য আছে সাহিত্যের বিপুল ঐশ্বর্য-মহৎ ও সস্তা, চিরায়ত ও সাময়িক, ধার্মিক ও ইতর- এই সব সাহিত্য ছেলেদের নিশ্চিত করছে যে যা কিছু ঘটছে তা খুবই স্বাভাবিক। কিন্তু মেয়েরা এ ব্যাপারে একেবারেই ভাগ্যাহত। লক্ষ্যণীয় ব্যাপার হচ্ছে যে, Prescriptive Criticism- এর প্রবক্তাগণ লেখকের কাছ হতে ‘রাজনৈতিক সচেতনতা’ চাচ্ছেন বটে, কিন্তু নারীর এই একান্ত শরীরগত সঙ্কট- সমস্যাদির প্রতি এই স্কুল একেবারেই উদাসীন।”

আবার অপর এক বহুত্ববাদী এরিকা জং ক্রুদ্ধ নারীবাদী কবিতা সম্পর্কে সতর্ক করে বলেন: “আমরা সবাই বিশ্বাস করি যে রাজনৈতিক পীড়ন ও ব্যক্তিক অনুভূতি অঙ্গাঙ্গী জড়িত তবু অতীতে যেমন নারী আন্দোলনের ফলাফল হিসেবে আজ শ্লোগানসর্বস্ব কবিতা রচিত হয়েছে তা যেনো আর না হয়।”

উদাহরণস্বরূপ মেয়েদের প্রতি বেতন-বৈষম্য নিয়ে একটি লেখা তখনি স্বার্থক হবে যখন তা বেতন-বৈষম্যের পাশাপাশি এর ফলে মেয়েটির মধ্যে সৃষ্ট মানসিক ভাঙ্গচুরের চিত্রও উপস্থাপনা করে। কৃষ্ণাঙ্গঁ সাহিত্যে এমন স্বার্থক সৃষ্টির ভুরি ভুরি উদাহরণ মেলে। জেমস বাল্ডুইনের লেখাসমূহ বা এ্যালিসনের কথা উল্লেখ করা যায়। “The Invisible Man”-এর কেন্দ্রীয় চরিত্র কৃষ্ণাঙ্গ হয়েও শ্বেতাঙ্গদের মন ছুঁয়ে যায়, যেতে পারে। কারণ উপন্যাসটি সার্বিকভাবে আমলাতন্ত্র ও রাষ্টযন্ত্রের বিরুদ্ধে নিঃসঙ্গ ব্যক্তির লড়াই। এরিকা জং নারীলেখকদের আরো সতর্ক করে দেন এই বলে যে তাদের লেখা যেনো শুধুই নির্যাতিতা নায়িকার আর্ত চিৎকারে পূর্ণ না হয়ে ওঠে!! বহু লেখকেই “নির্যাতিতা নারীস্বত্বা”র প্রতি সহানুভূতি আকর্ষনের জন্য তাদের নায়িকাকে দিয়ে কি না করান! নায়িকারা ধর্ষিতা হয়, প্রহৃতা হয়, মানসিক ভারসাম্য হারায়, আত্মহত্যা করে অথবা পঙ্গু হয়। সুনীল গঙ্গোপাধ্যায়ের ‘জোছনাকুমারী’ নভেলেটটির কথাই ধরুন! এতো বেশি মার খেলো ও এতবার ধর্ষনের শিকার হলো মেয়েটি যে শীর্ষেন্দু মুখোপাধ্যায় কৌতুক করে ফেললেন:

জোছনা কুমারীকে যে কষ্ট সুনীল দিলো, এরপর আর কোনো মহিলা সুনীলের সাথে প্রেম করতে চাইবে না।“ বহুত্ববাদীরা অনুজ্ঞামূলক সমালোচনাকারীদের Collective Creativity’র তত্বকেও খারিজ করে দেন।

) গাইনোক্রিটিকস ও নারীসংস্কৃতি: সমালোচক ও ক্রীড়াময় বহুত্ববাদী, এ উভয়স্কুলের বিপক্ষে দাঁড়ান শোওয়াল্টার ও তাঁর অনুসারী ন্যান্সি কট। নারীর প্রথম ব্রণ ওঠা, যৌনকল্পনা এ যাবতীয় বিষয়ে খোলাখুলি আলোচনা করে শোওয়াল্টারের গাইনোক্রিটিকস তত্ব। Gynocritics-এর সাহায্যে তাঁরা বাতিল করেন পুরুষের গোটা পৃথিবী ও সভ্যতা। গাইনোক্রিটিকস ইতিহাস, নৃতত্ব, মনোবিজ্ঞান, সমাজবিজ্ঞান... এই যাবতীয় বিষয়ে নারীবাদী অনুসন্ধান পদ্ধতি ব্যবহার করে। এদের মধ্যে নৃতত্বের ভূমিকা সবচেয়ে গুরুত্ববাহী। কেননা হালফিলের নৃতাত্বিকগণ মেয়েদের সাবকালচারকে তাদের যৌনতা, উৎপাদন, শারীর-চিন্তান, বিভিন্ন ধরনের মেয়েলি আচার-অনুষ্ঠান, পুরাণ ও ট্যাবুর আলোকে বিশ্লেষণ করেন। গাইনোক্রিটিকস তত্বের কয়েকটি বিখ্যাত বই:

. মিশেল রোসাল্ডো: ওমেন, কালচার এ্যান্ড সোসাইটি (নৃতত্বভিত্তিক গবেষণা গ্রন্থ)

. দ্য বন্ডস অব ওম্যানহুড়: ওম্যানস স্ফিয়ার ইন নিউ ইংল্যান্ড (১৭৮০-১৮৩৫) লেখক, ন্যান্সি কট।

. ক্যারল স্মিথ ও রোজেনবার্গ: দ্য ফিমেল ওয়ার্ল্ড অব লাভ এ্যান্ড রিচ্যুয়ালস।

. অ্যান ডগলাস: দ্য ফেমিনাইজেশন অফ অ্যামেরিকান কালচার।

. নীনা অয়েরবাখ: কম্যুনিটিস অফ ওমেন-

অন্যান আইডিয়া ইন ফিকশন (অসম্ভব মৌলিক এই অভিসন্দর্ভে লুইসা মে এ্যালকট অথবা মিসেস গাস্কেলের ঘরোয়া লেখাপত্র থেকে শুরু করে ডরোথি স্যায়ার্স, সিলভিয়া প্লাথ এবং মুরিয়েল স্পার্কের রচনাবলী ও বিশ্লেষিত হয়েছে)

৪) সাহিত্যে নারীরস্বত্বার অম্বেষণে ফ্রেঞ্চ স্কুল অফ ফেমিনিজম:

গাইনোক্রিটিকস’তত্ব এ্যাংলো-মার্কিনী স্কুলের উপজাত হলেও এই তত্ব কিন্তু অনেকটাই মিলে যায় ফ্রেঞ্চস্কুলের তত্বের সাথে। এ্যাংলো-মার্কিনীরা যতই কেননা ফ্রেঞ্চদের ‘ইন্দ্রিয়পরায়ন’ বা ‘অরাজনৈতিক’ বলে গালি দিন, অস্বীকার করা যাবে না যে ফ্রেঞ্চ স্কুলই চিন্তার রাজ্যে মেয়েদের দাসত্ব ভেঙ্গেছে। অ্যাংলো-মার্কিনীরা মিছিল করেছে পুরষেরই খননকৃত পথে। Beauvoir’র টেক্সট যেমন, নারীর সমস্যার প্রতিফলন ঘটাতেই পুরুষের কর্তৃত্বব্যাঞ্জক ভাষায়। কিন্তু ফ্রেঞ্চ স্কুল জুড়ে ফেলে দ্যায় ব্যাকরণ-সিনটেক্স-ন্যারেটিভ লাইন-রিয়েলিজম-আঙ্গিকের সুনির্দিষ্টতা। পুরুষালী টেক্সটের যৌক্তিকতাকেও বিদ্রুপ করেছেন ফ্রেঞ্চ স্কুলের অন্যৎম দুই পুরোধা রঁলা বার্থ ও এডওয়ার্ড সাঈদ। এডওয়ার্ড সাঈদ রীতিমতো ‘শব্দতত্ব’ ঘেঁটে দেখান যে, ‘author’ শব্দটি উদ্ভুত হয়েছে ল্যাটিন Ôactus’ শব্দ থেকে যার অর্থ “কর্তৃত্ব, প্রতিষ্ঠান, দখলদারিত্ব” ইত্যাদি। পুরুষের টেক্সট বড় বেশি যুক্তিবাদীতা দাবী করে। কেননা, যুক্তিই উত্তরপুরুষের কাছে তার অস্তিত্বের বৈধতা প্রমাণ করে। একজন পুরুষ কখনোই সজোর বিশ্বাসে তার সন্তানকে বলতে পারে না যে সে তার পিতা। সেহেতু সে কল্পনা করে যে সে ঐ শিশুটির পিতা এবং সে অনুসারে যুক্তি সাজায়। তৈরী করে গল্প, টেক্সট, ধর্মতত্ব-পরম পিতা (God The Father) বা চরম অলঙ্ঘ্য সেমিটিক ঈশ্বর। হোমার হতে শুরু করে বেন জনসন: বিশাল কবিসেনানী তাঁদের শব্দের মাধ্যমে সৃষ্টি করেছেন পিতৃত্বের বিশাল অধিজগৎ। মাতৃত্বের পরিবর্তে তারা প্রতিষ্ঠা করেন পিতৃত্বের গৌরব। ক্লাইতেমেনস্ত্রা সেদিন আপন পুত্রের নিহত হলেন, সেদিন থেকেই ÒPatriarchal Text” নামক দানোটির অভিযাত্রা শুরু।

অথচ মাতৃত্ব! কতো সহজ নির্ভার স্বতঃসিদ্ধ! শিশুর সাথে তার সম্পর্ক স্তন্যদানের কথাহীন নিবিড়তায়, জরায়ুর আত্যন্তিক অন্ধকারে। জুলিয়া ক্রিস্তেভাঁ তাই প্রস্তাব করেন, প্রাক্-অয়দিপাউস পর্ব সমাপ্তির সাথে সাথে শিশুকে দেয়া যাক প্রতীক নির্ভর এক নতুন ভাষা। ‘যুক্তি’র দরকার নেই। ‘যুক্তিশিশ্নকেন্দ্রিকতা’ (Phallogosocentrism) পৃথিবীতে যুদ্ধ আর উপনিবেশের সংখ্যাই শুধু বাড়িয়েছে। ভাষা হোক ÔProphecy’-র ‘মতো সহজ ও মরমী। ক্রিস্তেভা মনে করেন, পৃথিবীর অধিকাংশ ÔProphecy’ মেয়েলী ভাষায় রচিত। ধর্মগ্রন্থগুলোর ভাষা সাদামাটা-অর্থহীন-পুনরাবৃত্তিসম্পন্ন-কোমল-অস্বচ্ছ কিন্তু ঘুমপাড়ানি গানের মতোই তীব্র সম্মোহক! আপনার nerv-কে যা প্রশমিত করছে, ভিজিয়ে দিচ্ছে আপনার চোখের পাতা। পাশাপাশি রাখুন গ্রীক LOGOS বা যুক্তিবিদ্যার কঠোরতাকে। আরোহ-অবরোহ-সিদ্ধান্তের বর্গবিচারে আপনার nerve ফের যুদ্ধংদেহী। ক্রিস্তেভাঁর এ ভাষন যে মোটেও অতিরেক নয় তার সাদৃশ্য প্রমাণ খুঁজে পাওয়া যায় প্রায় শ’তিনেক বছর আগে SPINOZA প্রণীত ÒThree Systems of Ethics”- , যেখানে তিনি যীশুখ্রীষ্ট ও গৌতমবুদ্ধকে ÔFeminine Virtue’ সম্পন্ন বলে আখ্যায়িত করেন।

ফ্রেঞ্চ স্কুলের অপর এক পুরোধা হলেন সিস্কু। মাতৃত্বের নয়, বিষয়ের মুক্তি [Writing Subject] খোঁজেন তিনি নারী শিরীরে, নারী কামনার [Female Sexuality] বিপুল ঐশ্বর্যে। আহা, এমন স্বরাট কামনা যে প্রজাতির অধিকারে তারা নিছকই Second Sex? ছুঁলে বিদ্যুল্লতা না ছুঁলে পাথর’? The Laugh of Medusa প্রবন্ধে ভয়ানক রাগী অংশটুকু লক্ষ্য করুন : Write! Writing is for you, your body is yours; ... let nothing stop you; not man, not the imbecilic capitalist machinery, sumsgfaced readers, managing editors don’t like the true texts of women, female sexed texts. That kind scares them,’ আবার দুঁপ্লেসিস তাঁর ‘For the Etruscans: Sexual Difference and Artisitic Producation-The Debate over a Female Aestetic’ গ্রন্থে খ্রী. পৃ. ৩০০০ অব্দের এক সুমেরীয় আখ্যান ঘেঁটে দেখান পুরুষ দেহের রূপক সেই অতীতকাল থেকেই কিভাবে সংস্কৃতি, পরিবেশ ও ভাষাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছে। ঐ আখ্যানে, তিয়ামাতের দৈত্যরা বরাবর চেষ্টা করছে সূর্যকে জাগাতে, যে সূর্য ডুবে গ্যাছে অতল অন্ধকার ও বর্তুলাকৃতি এক জলাশয়ে। এখানে সূর্য হলো পুরুষদেহের প্রতীক এবং অন্ধকার-তরল-বিপজ্জনক জলাশয় হলো নারীদেহ, যে স্থান হতে সূর্যকে উদ্ধারের জন্য কৃষিভিত্তিক সেই সভ্যতার কী প্রানান্ত প্রচেষ্টা!!!

৫) সমকামী ও কৃষ্ণাঙ্গ নারীসাহিত্য:

সমকামী’ শব্দটা আমাদের বাঙালি ছুৎমার্গে বড় লাগে। পশ্চিমা পাগলামি, যৌন বিকৃতি-কতো কিই-না আমরা ভাবি! অদ্রিয়েন রিচ তাঁর “Compulsory Heterosexuality and Lesbian Existence’ গ্রন্থে ‘Lesbian’ শব্দটির দুটো অর্থ করেন: প্রথমত, Lesbian Existence [যা কিনা ক্লিনিক্যাল ও সীমায়ত অর্থাৎ দেহগত সম্পর্ক বোঝাতে ব্যবহার করা হয়] এবং Lesbian Continuum [অস্তিত্বের জন্য নারীদের পারস্পরিক `Comradeship’]| শেষোক্ত সম্পর্কটি, পুরুষের মাঝে, অত্যন্ত প্রবলভাবেই বিদ্যমান। সেনাবাহিনী, ধর্মাশ্রম, অফিস, কোথায় নেই? অথচ নারীর জন্য সমাজ চিরকাল একটি মাত্র সম্পর্ক নির্দিষ্ট করে রেখেছে। বিপরীতকাম। কিন্তু সভ্যতার শুরু থেকেই নারী যেমন বিপরীতকামী তেমনি সমকামী। অনেকেই মনে করেন, সমকামিতা কিংবা বিবাহ বিরোধিতা বুঝি কোনো হালফ্যাশন। তারা ভুলে যান এ দুয়ের কোনোটিই নারীজীবনে নতুন নয়। সপ্তম শতাব্দীতে গ্রীক নগর লেসবসের নারীকবি স্যাফোর নেতৃত্বে এ আন্দোলনের সূচনা। কিংবা অরণ্যচারী আফ্রিকান নারীরা, যারা ডাইনীবিদ্যা চর্চার মাধ্যমে অর্থনৈতিক স্বাধীনতা অর্জন করেছিলেন, কুয়াংটুং গ্রামের সেই মহতী চৈনিক নারীগণ যারা দাঁড়িয়ে গেছিলেন একটি প্রতিষ্ঠান হিসেবে। সেই চৈনিক নারীরা সম্পর্কে অসম্মতি জানিয়ে স্বামীদের পরিত্যাগ করেছিলেন, কন্যাসন্তানের জন্মকে জাকঁজমকের সাথে স্বাগত জানানোর প্রথা চালু করেন এবং সম্রাটের রেশম কারখানায় নারীশ্রমিকদের শ্রম-শোষণের বিরুদ্ধে সফল ধর্মঘট সম্পন্ন করেন, অথবা দ্বাদশ ও পঞ্চদশ শতকের ‘beguines’ ইউরোপীয় নারীরা, পিতৃতান্ত্রিক জীবনব্যবস্থা প্রত্যাখান করে কুমোর, দর্জি, কারুশিল্পী, সেবিকা প্রভৃতি পেশার মাধ্যমে যাঁরা জীবিকা নির্বাহ করতেন-তারা প্রত্যেকেই ছিলেন সমকামী। পশ্চিমের সমকামী নারীবাদীরা আজ এটাই বলতে চাইছেন যে পুরুষেরা যতোই নিশ্চিত থাকুন না কেনো যে, মেয়ে মাত্রই লক্ষ্য হোল একটি স্বামী তথা পুরুষ দেবতা জোটানো, ইতিহাস মোটেই তা বলে না। উৎপীড়ক পুরুষের প্রেম নারী জন্য ততো জরুরী কিছু নয়।  সমকামী নারীবাদী সাহিত্যের কয়েকটি প্রধান গ্রন্থ হলো: জেন বুলের‘ Lesbian Images’(১৯৭৫) বারবারা গ্রিয়র ও জেন ডেমনের‘The Lesbian in literature: A Bibiligraphy’, (১৯৬৭), ডলোরেস ক্লেইথের Woman plus Woman’ (1974) লিলিয়ান ফ্যাডারমায়ন এর  ‘Surpassing the Love of Men’.

কালো মেয়ের পায়ের তলায় দেখে যা আলোর নাচন!

“O, my clamswomen/Let us all cry together!”

Come,

Let us mourn the death of our mothers,

And all the young women Have perished in the wilderness:’

: ওকোট পি বিটেক।

এলিস ওয়াকার তাঁর “In Search of our Mother’s Gardens” গ্রন্থের শুরুতেই স্মরণ করছেন চাবুকের আঘাতে স্পৃষ্ট ও আটটি, দশটি, পনেরোটি, বিশটি করে সন্তানের জন্মদান করা কৃষ্ণাঙ্গ ও ক্রীতদাসী মায়েদের কথা, যাদের সব ক’টি সন্তানই সাদা মালিকদের খামারে বিক্রী হয়ে যেত। এমনি এক কৃষ্ণ ক্রীতদাসী ফিলিস হুইটলি কি মনে করে কবিতা রচনা শুরু করলেন। ফিলিস হুইটলিই প্রথম আফ্রো-আমেরিকান নারীকবি।

বস্তুতঃ নারীবাদী সাহিত্যের অন্তর্গত আর এক বিশাল জগৎ হলো কৃষ্ণাঙ্গ নারীদের সাহিত্য। কালো মেয়ে। দাসত্ব-বন্দুক-চাবুক-সাদা মালিকের হাতে ধর্ষণ-ধর্মান্তর। তবু কোন আরণ্যক সঙ্গীতের রেশ রয়ে যায়। কালোগান, কালোছড়া, ডাইনী বিদ্যা, ভুডুমন্ত্র। রুগ্ন এক কৃষ্ণাঙ্গ কিশোরী জোরা নেল হার্ষ্টন উনিশ শতকের শেষভাগে ঝোলাকাঁধে বেরিয়ে পড়লেন। ফ্লোরিডা থেকে লুইসিয়ানা-এক অন্তহীন পথে যাবতীয় কৃষ্ণউপকথা, মন্ত্র, সঙ্গীত চয়ন করেন। ১৯৪৭ সালে এলিস ওয়াকারের ছোট গল্প ‘হান্না কেমহাফের প্রতিশোধ’ গোটা মার্কিনযুক্তরাষ্ট্র কাঁপাল। ত্রিশের মহামন্দা, বর্ণবাদ ও আফ্রিকার ডাইনীবিদ্যার ভুডুমন্ত্র মিলেমিশে সে এক অনন্যসাধারণ আলেখ্য! সংক্ষেপে, গল্পের কাহিনী হচ্ছে: মন্দার সময় এক দরিদ্র, কালো মা তার সন্তানদের জন্য রেশন চাইতে গেলে সাদা রেশনউলি তাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দ্যায়। অপমানিত কালো মা ভুডুমন্ত্রের সাহায্যে ঐ শ্বেতাঙ্গিনীর দুটো পাই অচল করে দ্যান।

১৯৯৩ এ টনি মরিসন নোবেল পুরস্কারে ভুষিত হন। জিন টুমার, কোলেত্তি, আনাই নিন, টিল্লি ওলসেন... হার্লেমের দরিদ্র মেয়েরা আজ শাসন করছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাহিত্য জগৎ। তৃতীয় বিশ্বের একটি দেশের এক কালো মেয়ে হিসেবে আমার গৌরবও তাতে বড়ো কম নয়।


  • ১৬৯ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

অদিতি ফাল্গুনী

লেখক ও কলামিস্ট

ফেসবুকে আমরা