সমালোচনা যখন নারীর শরীরে

শনিবার, অক্টোবর ৭, ২০১৭ ১১:৩৩ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


নারী, গুরুত্বপূর্ন কোনো পদে বসে আছেন, কিভাবে অত বড় পোস্টে আছেন আমরা কি কিছু জানি না ভেবেছেন? হুম সব জানি। শরীর আর চেহারা দেখিয়ে কুপোকাত করেছেন বসকে, বিভাগীয় প্রধানকে, না হলে অত বড় পদ? প্রমোশন? ফার্স্ট ক্লাস ফার্স্ট? অসম্ভব। মেধা বলতে কিছু আছে নাকি মেয়েদের? শুধুই চেহারা, শরীর আর মেয়ে হয়ে জন্মানোর সুযোগ নেয় তাঁরা।

বাদ যাবে না কোন নারী। সবার অবস্থানই এক এক করে প্রকাশ করা হবে। সামিয়া রহমান, উপাচার্যের সোফার হাতলে বসে বিশ্ববিদ্যালয়ের চাকরি বাগিয়েছেন, কাজেই তাকে ভার্চুয়ালি রেপ করা হোক, এই অধিকার দেশের মানুষের আছে এবং এই উপর্যুপরি বাক্যবানের সাথে 'প্ল্যাজারিজম' নামক বিষয়ের কোনো সম্পর্ক আছে কিনা তা অন্তত আমার জানা নেই। অবশ্য এইসব আলোচনা, সমালোচনা এবং ব্যক্তি বিদ্বেষমূলক বক্তব্যে যারা অংশ নিয়েছেন তাদের কাউকে প্রকৃত সমালোচক মনে হয়নি, তাদেরকে নারী বিদ্বেষী ছাড়া আর কিছু বলা যায় কিনা আমার অন্তত জানা নেই।

এরপরের আক্রমনের শিকার হয়েছেন বাংলাদেশে বিশ্বসুন্দরী প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণকারী বাল্যবিবাহের শিকার, ডিভোর্সি মেয়ে জান্নাতুল নাঈম এভরিল। তথ্য আড়াল করে সে যে ভুলটি করেছে, সেই ভুল নিয়ে আলোচনায় তার অসততার সমালোচনা না করে, তার চেহারা, শরীর, তার অতীত, তার পরিবার কাউকে ছাড়িনি আমরা। একটি ভুল নিয়ে কথা বলা যেত, তা না করে তাকে যেভাবে ভার্চুয়াল আক্রমণ করা হলো তাতে মেয়েটা যে আত্নহত্যা করেনি এজন্য প্রশংসার দাবিদার। সমালোচনাটা হতে পারতো তার তথ্য গোপন নিয়ে, এমনকি আয়োজকদের অনিয়ম নিয়ে, কিন্তু সেসব না করে মেয়েটির ব্যক্তিগত জীবনসহ তার চেহারা, শরীর কিছুই বাদ যায়নি। একজন নারীবাদী দেখলাম তার চেহারায় নাকি প্লাস্টিক সার্জারি করা এবং এই টাকার উৎস নিয়েও সন্দেহ প্রকাশ করেছেন। মজার ব্যাপার হলো, এই নারী বিদ্বেষমূলক সমালোচনায় নারী, পুরুষ, শিক্ষিত, অশিক্ষিত কেউ পিছিয়ে নেই।

এরপরের আক্রমনের শিকার হয়েছেন অভিনেত্রী জয়া আহসান। পূজোর সময় নিজের একটি সিনেমার অভিনয়ের সিঁদুর পড়া কিছু ছবি পোস্ট করে সম্প্রীতির আহবান জানিয়েছিলেন তিনি। আর এইখানে শুরু হয়েছে তাকে গালাগালি। কেনো এক ধর্মের হয়ে ভিন্ন ধর্মের সাজে সেজেছেন? নিজের দেশে কিছু করতে না পেরে ইন্ডিয়াতে গিয়ে পরিচালকদের শরীর দেখিয়ে কাজ পাচ্ছেন। কি অসাধারন চিন্তার বহি:প্রকাশ প্রচণ্ড মেধাবী এই অভিনেত্রী যদিও এসব কুরুচিপূর্ণ বক্তব্যকে বৃদ্ধাঙ্গুলী দেখিয়ে তাঁর কাজ করে যাচ্ছেন, তাঁর এই গাঁটস কে সন্মান না জানিয়ে পারা যায় না।

আলোচনা, সমালোচনা করার অধিকার সবারই আছে, সেটা পুরুষ আর নারীভেদে ভিন্ন কেনো? নারীর একটি ভুল ধরা পড়লে সেই ভুল নিয়ে সমালোচনা করতে গিয়ে কিভাবে যেন আমরা তার শরীরে চলে যাই। কই, একজন সেলিব্রেটি পুরুষের সমালোচনা করতে গিয়ে তো কোনো অপ্রাসঙ্গিক সমালোচনা হয় না? পুরুষতান্ত্রিক সমাজের নারী পুরুষ -নির্বিশেষে একই মানসিকতা পোষণ করে আর তার শিকার হয় শুধুমাত্র নারী! আর কত শত বৎসর পরে এর পরিবর্তন আসবে কে জানে! ভার্চুয়ালি শারীরিক আক্রমণের শিকার পরবর্তীতে কোন নারী হতে যাচ্ছেন, এই অপেক্ষা করা ছাড়া আমাদের কি আর কিচ্ছু করার নেই?


  • ৩২৬৪ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

আসমা খুশবু

ইংরেজি সাহিত্যে এম এ, করা আসমা খুশবু ফ্রিল্যান্স লেখালেখি করতে ভালবাসেন।

ফেসবুকে আমরা