আঞ্জুমান রোজী

লেখক

জন্মদিনে আঞ্জুমান রোজী'র পাঁচটি কবিতা

শুভকামনা

জীবন এখনো যন্ত্রের রাজত্বে বন্দী

কিন্তু ততটা যন্ত্র নই যে, নিজেকে হারিয়ে ফেলি

অনেকের চেয়েও ভালো নেই বটে

তবে তোমাকে যখন বলি, শুধু বলতে ইচ্ছে করে,

ভীষণ ভালো আছি!

 

এখনো সন্ধ্যায় ক্লান্ত মনে ঘরে ফিরি

ক্লান্ত বটে, তবে জীবন পথে একাকী চলায়

এতটা ক্লান্ত নই যে,

তোমাকে ডেকে বলি, আসলে আমি একা নই।

 

তুমি জানো,

আমার প্রতিদিনের ভোর আসে আলোর হাতছানি দিয়ে...

 

অন্তরের অন্তরাল 

সব পাখি উড়ে যায় অন্তরে অন্তরে

দেহের বাইরে মুখোশের আড়ালে

তবু তুমি আছো, আমি আছি

মনের আকাশে চিল একখানি

এক ছোবলে তুলে নেই বেদনা

চারণভূমির অনন্ত সাধনায়

দুপুর, বিকেল শেষে

সন্ধ্যা পেরিয়ে মধ্য রাতে

শীতল হবে সে সকল ক্ষত

ডানামেলা পাখির আড়ম্বর যত।

 

সব পাখি উড়ে যায় অন্তরে অন্তরে

ভেতরে বাইরে নীল নীল আভরণে।

 

নীলকথারা 

বেদনার দাহে কথারা সব পুড়ে যায়

মৃত পাখির মতো ডানা ঝাপটায়

ঝরাপাতা হয়ে সব ধুলিতে গড়ায়।

 

শরীর দীর্ঘ সময় ধরে স্তব্ধ হয়ে আসে

কথার বুক জমাট পাথর হয়ে থাকে

তখন দু’চোখ ভরে কথার আকুতি চলে।

 

বেদনা দীর্ঘ হলে কথা উচ্ছিষ্ট হয়ে যায়

হারিয়ে যায় কথারা বেদনায় বেদনায়

 

অতলের তলে থাকে শুধু নীলকথারা।

 

 

জলের ভেতর

জলজ জলে হাত রেখে দেখি

কার জলে বাঁধা পড়ে গেছি জানি

জলের অতলে আগুন লাগে

আগুন জলের ফিসফাস শুনি।

কষ্টগুলো ঢেলে দিতে চাই জলে

পোড়াদেহ অকুণ্ঠ প্রাত

কার কাছে পাতি অঞ্জলি

হাঁসেদের চোখে নামছে যে রাত।

 

আলোর বিস্ময়ে

মৌনতা ভাঙতে আকাশকে সাক্ষি রেখে

নিজেকে সমর্পণ করি যাযাবরের অস্তিত্বে।

আমি রঙমাতাল,

রঙচটা চঞ্চু ভেদ করে আলোর বিস্ময়ে ছুটি...

দিব্যি কর্ণগোচর করি এমন শব্দে

ডংকা বাজিয়ে সমুদ্রের গর্জনে;

দেহের ভাঁজে ধ্রুপদির ঢেউ নিয়ে

আমি জেগে উঠি মা মাটি সমেত

এই বিশ্বচরাচরে!

800 times read

নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।