একে নারীর দুর্বলতা নয় বরং পুরুষের লজ্জা বলি

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ২১, ২০১৭ ৭:৩৮ PM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


আজ হঠাৎ আবিষ্কার করলাম রাজধানীতে বসবাস করেও রাত টার সময় মাত্র আধঘন্টার পথ যাওয়ার জন্যে বাসে উঠতেও রীতিমত আতঙ্ক কাজ করছে আমার। বাসে ওঠার আগে ভালো করে খেয়াল করে নিচ্ছিলাম অন্য কোনো মহিলা যাত্রী আছেন কিনা! এই ভয়টাকে আসলে আমি আমার দুর্বলতা মনে করতে পারছিনা বরং বর্তমান পরিস্থিতিতে এটা বোধহয় নির্দিষ্ট একটা গোষ্ঠীর সকলের সীমাবদ্ধতা কিংবা অসহায়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এমনিতে আমি মোটামুটি সাহসী গোছের মেয়ে হলেও আজ আধঘন্টার ওই বাস যাত্রার পুরোটা সময় আমি মনে মনে জপেছি ঈশ্বর আমি যেন বাসের শেষতম মহিলা যাত্রী না হই।

 


ওই বাসে আরো প্রায় ২০/২৫ জন ঘরফিরতি পুরুষ যাত্রী ছিলেন। এরা প্রত্যেকেই কারুর বাবা, কারুর স্বামী, কারুর সন্তান, কারুর ভাই তবু একজন নারী হয়ে কেন যেন নিরাপত্তার প্রচন্ড অভাব বোধ করছিলাম। নিজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অন্য কোনো নারী সহযাত্রীর ভরসাই করতে হয়েছে আমার!

আমার বোন। মাত্র দশ বছর পেরিয়ে এগারোর দিকে এগুচ্ছে। আমার মা এখনি ওকে ওড়না পরে বাইরে বেরুনোর অভ্যাস করিয়ে ফেলেছে। বাসার গেটে গিয়ে দাঁড়াতে চাইলে ওকে হাটুর নীচ অব্দি লম্বা ফ্রকের নীচেও সালোয়ার পরতে হয়। আমি এই অপ্রয়োজনীয় কাপড়ের বিরোধীতা করতে পারিনা কেন না আমি জানি এই দেশে চার মাস বয়সী শিশু ও ধর্ষিতা হয়। আমি চুপচাপ এগুলো দেখে যাই আর মনে মনে বলি, ঈশ্বর আমার বোনটা যেন ভালোয় ভালোয় বড় হয়। কোনো অশুভ দৃষ্টি যেন ওকে স্পর্শ না করে।

আমার মা নিতান্ত ধার্মিক মানুষ। আমি যখন ক্লাশ ফোরে পড়ি তখনই আমার কুরআন পড়া শিখতে হয়েছিলো। কিন্তু আমার বোন ক্লাশ সিক্সে ওঠা সত্ত্বেও ওকে এখনো আরবী শিখতে দেয়নি কেন না বাসার আশেপাশে যে দুজন হুজুর আরবী শেখান তাদের মধ্যে একজনের নুরানী মাদ্রাসার ছোট ছোট ছেলেদের সাথে কুকীর্তি ধরা পড়েছে। আর অন্যজন নাকি বাচ্চাদের পড়ানোর সময় বিশ্রীভাবে গায়ে মাথায় হাত বুলায়। এই পরিস্থিতিতে বোনকে আরবী শেখানোর জন্য নারী শিক্ষক খোঁজা হচ্ছে।

বাসে ওঠার আগে আমি খুঁজি নারী সহযাত্রী, আর আমার বোনের জন্য খোজা হচ্ছে নারী শিক্ষক! এটি আসলে আমাদের দুর্বলতা নয়.... এটি তাদের লজ্জা যারা আমাদের বন্ধু হতে পারতো, না হয়ে পুরুষ হয়েছে! প্রায় রাত্রে বোনকে নিয়ে দুঃস্বপ্ন দেখে আমার ঘুম ভাঙে। মনে মনে বলি, ঈশ্বর আমার বোনটা যেন ভালোয় ভালোয় বড় হতে পারে.... আমার অনাগত কন্যা যেন এই সমাজে জন্ম না নেয়... কোনো নারী যেন একা বাসের শেষতম যাত্রী না হয়..... আর কোনো নারী যেন ঘরে বাইরে অফিসে রাস্তায় ভিড়ে নির্জনে ধর্ষিতা না হয় ঈশ্বর তুমি দেখো!


  • ২২৪৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

আফরোজ ন্যান্সি

শিক্ষার্থী, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়

ফেসবুকে আমরা