আমরা পুরুষ নয় পুরুষতন্ত্রকে ঘৃণা করি

মঙ্গলবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৭ ৩:০৪ AM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


সবাই ভাবে আমি এবং আমার মতো অনেক মেয়েরাই পুরুষ বিদ্বেষী, মানে পুরুষদের ঘৃণা করি। কারণে তো বটেই অকারণেও গালিগালাজ করি। তার কারণ হিসেবে তারা বলেন, আমরা নারীবাদী তাই এসব বলে থাকি। তাদেরকে বোঝানো যায় না যে আমরা পুরুষ নয় পুরুষতন্ত্রকে ঘৃণা করি।

 

হ্যা আমি পুরুষতন্ত্রকে দারুণ ভাবে ঘৃণা করি। পুরুষতন্ত্রে বিশ্বাসী নারী পুরুষ উভয়ই হতে পারে। 

আমি কখনও পৃথিবীর সব পুরুষকে ঘৃণা করি না। এ পৃথিবীতে চলতে হলে নারী-পুরুষ, পশুপাখি, গাছপালা সব দরকার আছে।

হ্যা আমাদের মতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে প্রতিনিয়ত মেয়েরা হেনস্থা হচ্ছে। ধর্ষিত হচ্ছে যখন তখন। রাস্তাঘাটে বাজে কথা, কুরুচিপূর্ণ ইঙ্গিতের সম্মুখীন হচ্ছে ছাড় পাচ্ছে না অনলাইনেও! কিছুদিন আগে হঠাৎ দেখা গেলো পুরুষেরা বাসে মেয়েদের কাপড় কেটে দিচ্ছে। আজ শুনলাম রিক্সায় এক মেয়ের স্তনে এমন ভাবেই ধারালো অস্ত্র চালিয়ে পালিয়েছে এক পুরুষ যে কারণে মেয়েটার স্তনের অনেকটা অংশ যখম হয়েছে।

আচ্ছা আপনি, হ্যা একজন পুরুষ এবং একজন পুরুষতান্ত্রিক সমাজের বাসিন্দাকে আমি প্রশ্ন করছি এই সকল ঘটনাকে আপনি কোন দৃষ্টিতে দেখেন? আপনি কি মেয়েদের সাথে এরকম আচরনকে সমর্থন করেন? আমি জানি মুখে বলবেন না কিন্তু অন্তরে হ্যাঁ হবে অনেকেরই। আচ্ছা আপনি যদি হ্যাঁ উত্তরটা মনে মনেও ভাবেন তবে তার কারণ কি?

মেয়েদের স্বাধীনতা? লেখাপড়া? চাকরী? পোষাক? এবং মেয়েদের এই নষ্ট সমাজের বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়ানোর চেষ্টা?

আচ্ছা মেয়েদের এই সকল কাজ আপনাদের কোন পাঁকা ধানে মই দিচ্ছে? 

মেয়েরা তো নিজেদের চেষ্টায়ই প্রতিষ্ঠা পাচ্ছে। এই নষ্ট সমাজে থেকেও মেয়েরা নিজেদের ক্যারিয়ার তৈরি করছে এবং সফল হচ্ছে। তাতে আপনাদের গাত্রদাহের কারণ কি? সফল মেয়েদের পায়ের তলে রাখতে পারছেন না তাই? মেয়েদের ঘরে বন্দী করে ইচ্ছামত বাজে ব্যবহার করতে পারছেন না তাই? তিনবেলা না খাইয়ে গায়ে সিগারেটের ছ্যাকা লাগাতে পারছেন না তাই? মন চাইলেই মা, বোন, বাপ, ভাই সহকারে ঘরের বউকে পিটিয়ে লাশ বানিয়ে ফ্যানে ঝুলিয়ে আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিতে পারছেন না তাই? 

হ্যাঁ আমি নিজেই দেখেছি আপনাদের মতো পুরুষতান্ত্রিক সমাজে একজন চাকরী করা মেয়েও শ্বশুরবাড়িতে কিভাবে অনাহারে দিন পার করে। না খেয়ে মুখ বুঝে হজম করে সবকিছু, কি করে প্রায় না খেয়ে দশমাস বাচ্চা পেটে রেখে সেই বাচ্চাকে এই পৃথিবীতে আনে। তারপরও মেয়ে জন্মের অপরাধে কতটা নতুন নতুন নির্যাতনের স্বীকার হয়, তখন ভোগে সেই দুধের মেয়ে শিশুটিও। চাকরী করা সত্বেও একজন মেয়ে কতটা নির্মমতার স্বীকার হয় তা আমি জানি।

রইলো বাকী পোষাক।

পোষাক তো যার যার স্বাধীনতা। আপনাদের মানে পুরুষদের পোষাক নিয়ে তো কেউ প্রশ্ন তোলে না তবে মেয়েরাই কেনো বারবার প্রশ্নের সম্মুখীন হবে? 

বাঙালীদের প্রধান পোষাক শাড়ি কিন্তু আপনারা চান মেয়েরা বোরকা পড়বে, পড়বে হিজাব। কেনো?  মেয়েরা কি পড়বে সেটা ঠিক করে দেওয়ার আপনারা কে?

মেয়েরা হিজাব পড়বে না, আপনারা তাকায়েন না, তাইলেই হয়। আমি তো কোনোদিন শুনিনি একজন মেয়ে একজন পুরুষকে দেখে যৌন আকাঙ্খা জাগে তবে কেনো একজন মেয়ে দেখলেই আপনারা (পুরুষরা) যৌন আকাঙ্খায় পড়েন। আপনারা(পুরুষরা) বলেন মেয়েদের কাপড়ে গন্ডগোল, তবে কেনো খাদিজা, তনু  নামের মেয়েরা ধর্ষন থেকে নিস্তার পেলো না। তারা তো বোরকা পড়ত, হেজাব করতো! 

কি এটুকু শুনে মুখে কুলুপ পড়লো তো? 

এখন বলবেন যে মেয়েটার চরিত্র খারাপ, তাইতো?

শোনেন, আপনারা(পুরুষরা) আপনারা না গেলে কিন্তু বেশ্যা পাড়াও চলবে না। আপনারা যাইয়েন না ওইসকল পাড়ায়। আপনারা যাবেন, নিজেদের আকাঙ্খা মিটাবেন দোষ দিবেন মেয়েদের তা চলবে না!


  • ২১৮৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সাবরিনা শারমীন বাঁধন

সংস্কৃতিকর্মী

ফেসবুকে আমরা