প্রতিক্রিয়াশীলতার অন্ধকার ছায়ায় আমাদের শিশুরা

মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৭, ২০১৭ ৬:০০ PM | বিভাগ : সমাজ/গবেষণা


১. আমাদের অরুন্ধুতী/সিদ্ধার্থ 

সত্যি কথা বলতে কী, এই অনুভূতিটুকু আসলে ভাষায় প্রকাশযোগ্য নয়। আমাদের, মানে আমি এবং আমার বউ, আমাদের একজন সন্তান আসছে। বাচ্চাটা এখন চার মাসের বেশি সময় ধরে বড় হচ্ছে, তার মায়ের পেটে। বাচ্চাটার হাত পা মাথা আমি দেখেছি, আল্ট্রাসাউন্ড মেশিন দিয়ে। ডাক্তার একদম ভিডিও করে আমাদের দিয়ে দিয়েছেন। সে এখন হাত মুঠ করে, তার নাক হয়েছে, সে শুনতে পায়, এবং তার মায়ের পেটের মধ্যে মাঝে মাঝে সে বেশ জোরেই নড়তে থাকে। আমি অফিস থেকে গিয়ে আমার বউয়ের পেটে হাত দিয়ে অল্প স্বল্প নড়াচড়া বুঝতে চেষ্টা করি। এখন আমার সবচাইতে প্রিয় কাজ হচ্ছে বউয়ের পেট ধরে বসে থাকা। ছোট ছোট নড়াচড়াও আমাদের কী রকম আনন্দ দেয়, বলে বোঝানো যাবে না। সে এখন বড় হচ্ছে, ধীরে ধীরে তার শরীর তৈরি হচ্ছে। পৃথিবীর আলো বাতাসের মধ্যে বেঁচে থাকার উপযুক্ত হচ্ছে। কবে যে সে বের হবে! কবে যে আমরা দেখতে পাবো তাকে! আমাদের দুইজনারই আর অপেক্ষা করতে ভালো লাগছে না।

সন্তান জন্ম দেয়ার, একটি জীবন সৃষ্টির আনন্দের সাথে আসলে কোনো আনন্দের তুলনা হয় না। সে নাকি এখন খাবারের স্বাদ বোঝা শুরু করেছে। তার মা যেই খাবার খাচ্ছে, সেও সেখান থেকে ভাগ বসাচ্ছে। তাই কোনো খাবার খাওয়ালে হাড্ডি শক্ত হবে, কোন খাবারে তার মাসল সুগঠিত হবে, কোন খাবারে ব্রেইন ভাল হবে, এইসবই খুঁজে খুঁজে পড়ে সেই অনুসারে আমার বউকে খাওয়াতে হচ্ছে। এসব করতে আমার একটুও বিরক্ত লাগছে না। খুব আনন্দই লাগছে। আমার বাচ্চা, আমাদের বাচ্চা। আমাদের অংশ। আমাদের এক টুকরো ভবিষ্যৎ। আমাদের চেয়ে সুখী আর কেউ নেই।

সেদিন তার মায়ের সাথে আমার বিশাল এক ঝগড়া হয়ে গেলো। সে কী জানি এক সিনেমায় দেখছিলো, ছেলেমেয়েরা তাদের বাবামাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দিচ্ছে। সিনেমায় বাবা কী জানি বলছিলো, তার ছেলে এক ধমক দিলো বাবাকে। এই দেখে আমার বউ তেলেবেগুনে জ্বলে উঠলো। বললো, আমার বাচ্চা যদি তার বাপের সাথে এইরকম বেয়াদবি করে, থাপ্পড় দিয়ে তার দাঁত আমি ফেলে দেবো। শুধু তাই না, তার মা বলতেই থাকলো, তার বাচ্চা বেয়াদবি করলেই সে দেবে এক থাপ্পড়।

এই কথা শুনে আমি বিশাল হাউকাউ করলাম। আমার বাচ্চার গায়ে কেউ হাত দিলে ভালো হবে না। আমি বউকে বললাম, বাচ্চাদের বুঝিয়ে বলতে হয়। হয়তো সে কোনো দুষ্টুমি করবে, বা অন্যায় করবে। বাচ্চারা এরকমই করবে। খুব স্বাভাবিক সেটা। এর প্রধান কারণ হচ্ছে তার যথেষ্ট জ্ঞানের অভাব। তার সঠিক শিক্ষার সমস্যা। হয়তো আমরা তাকে ভালো শিক্ষাটি দিতে পারি নি। শুরু থেকেই যদি ভাল শিক্ষাটি তাকে দিতাম, তাহলে সে হয়তো এরকম করতো না। তাই সঠিক শিক্ষাটি তাকে দিতে হবে। আমরা যদি তাকে ভালোবাসি, সেই আমাদের কাছ থেকে ভালোবাসার শিক্ষাটি পাবে। আমরা যদি তাকে মারি, সেও আমাদের থেকে মারামারির শিক্ষাটুকু নিয়ে বড় হবে। আমরাই আসলে তাকে গঠন করছি। তাই তার ভবিষ্যতের সবকিছুর জন্য আমাদের ছোটবেলা দেয়া পারিবারিক শিক্ষা, এবং স্কুলের শিক্ষা, সবকিছুই তার ভবিষ্যতের মনস্তত্ব গঠন করবে।

ভেবে দেখো, বাঙলাদেশের একটা মাদ্রাসার ছেলে, সে মনে করে কাফের নাস্তিকদের কুপিয়ে হত্যা করা খুব স্বাভাবিক ভালো কাজ। সে ভাবতে পারে, তার স্ত্রীকে সে চাইলেই মারধোর করতে পারে। সে এমনটা কল্পনাও করতে পারে না, ধর্মবিশ্বাসের ওপর ভিত্তি করে মানুষকে হত্যা করা যায় না। বা সে স্বামী হলেই স্ত্রীর গায়ে হাত তোলার অধিকার প্রাপ্ত হয় না। এই বিষয়গুলো তাকে বোঝানোই যাবে না। কারণ সে ছোটবেলা থেকেই শিখে এসেছে, কাফের নাস্তিকদের মারা উত্তম কাজ। স্ত্রীকে সে একটু মারধোর করতেই পারে। এগুলো সে স্বাভাবিকভাবেই শিখে এসেছে। তার বদ্ধমূল ধারণা হয়েছে, এগুলোই সঠিক এবং আদর্শ কাজ। ঐ ছেলেটাই যদি ইউরোপে জন্ম নিতো, একটি ভাল শিক্ষা কাঠামোর মধ্যে দিয়ে আসতো, তাহলে সে একজন মানবিক মানুষ হতে পারতো। একজন বিজ্ঞানী, বা শিক্ষক, বা গণিতবিদ, বা লেখক, বা মানবতাবাদী হতে পারতো। সে তো জন্মে এরকম মৌলবাদী হয় নি।

এখানে সবচাইতে জরুরি হচ্ছে বাচ্চাটার শিক্ষা। সে কী শিখছে, কী দেখছে। তার শিক্ষকেরা তাকে কী বুঝিয়েছে। সে কী বই পড়েছে। তার পরিবার তাকে কী দীক্ষা দিয়েছে। সে কেমন পরিবেশে বড় হয়েছে। তার সমস্ত ধ্যান ধারণা এবং ব্যক্তিত্ব গঠিত হয় সেইসব শিক্ষাদীক্ষার ওপর ভিত্তি করেই। তাকে ভুল শিক্ষা দিয়ে, পরে সে ভুল করলে তাকে পিটিয়ে কী লাভ?

মারপিট বা মারপিটের ভয় দেখিয়ে কোনো কিছু করতে বাধ্য করা আরো বড় অন্যায়। বাচ্চাদের যত ভীতির মধ্যে, আতঙ্কের মধ্যে রাখা হবে, তত সে মানসিকভাবে দুর্বল হবে। সেই দুর্বলতা ঢাকার জন্য সে আস্তে আস্তে হিংস্র হয়ে উঠবে। সে দেখাতে চাইবে, তার মধ্যে কোনো দুর্বলতা নেই। তাই সে নিজেকে শক্তিমান প্রমাণের জন্যেই অন্যের ওপর সে যে ক্ষমতাবান, তা প্রমাণের চেষ্টা করবে। এগুলো পুরোপুরি ক্ষমতার চর্চা। তুমি যদি তাকে আঘাত করো, মানে ক্ষমতার চর্চাটা শেখাও, তাকে বোঝাও যে তুমি তার চাইতে বেশি ক্ষমতাবান, সে আঘাত করতে চাইবে তার চাইতে দুর্বল কাউকে। যেমন একটি বেড়াল ছানাকে, বা একটা পাখীকে। বা একটা খরগোশকে। বড় হয়ে সে ক্ষমতার চর্চাটুকু করবে তার চেয়ে দুর্বল কোনো মানুষের ওপর। তার চাইতে দরিদ্র কোনো মানুষের ওপর। কোনো মেয়ের ওপর। আর তার পেছনে তোমারও দায় থাকবে।

তার চাইতে তার সাথে সমস্যাটি নিয়ে আলাপ করে, তাকে বারবার বুঝালেই, যুক্তি তথ্য প্রমাণ সহকারে, আমার মনে হয় কাজ হবে। তাকে সংশোধনের সুযোগ দিতে হবে, বারবার। কিন্তু কখনই খুব ভয়ঙ্কর শাস্তি দেয়া যাবে না। কারণ সে আমাদেরই সন্তান। এবং একজন মানুষও। মানুষ হিসেবে তার আত্মসম্মান, আত্মমর্যাদা যেন বজায় থাকে। কারো অধিকার নেই তার গায়ে হাত তুলে তাকে অপমান করার। কষ্ট দেয়ার। সে শিশু হলেও তার আত্মসম্মানবোধ ছোটবেলা থেকেই গঠিত হয়।

২. শিশু নির্যাতন

জার্মানিতে আরব দেশের কিছু মুসলমান পরিবার বাস করে। আপনি সেইসব এলাকায় ঘুরলে দেখবেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রে, বাচ্চাগুলো তাদের বাবাকে, বিশেষ করে বাবাকেই, একদম বাঘের মতো ভয় পায়। মাঝে মাঝেই স্কুল থেকে অভিযোগ আসে। কারণ বাচ্চাটা যখন স্কুলে যায়, তার চোখে মুখে থাপ্পড়ের চিহ্ন থাকে। দেখা যায় এক চোখ কালো বা নীল হয়ে আছে। বোঝা যায়, তাদের পরিবারের কেউ তাদের প্রচণ্ড মারধোর করেছে। জার্মান পরিবারেও এরকম হয় দুই একটা, তবে জার্মান একটি শিশু পুলিশে ফোন দিয়ে এই বিষয়ে অভিযোগ করলে পুলিশ বাসায় এসে বাবা মাকে ওয়ার্নিং দিয়ে যায়। জার্মান পরিবারে তাই এগুলো কম। স্কুলে মারপিট তো ভয়াবহ ক্রাইম। তবে আরবরা এসবের ধার ধারে না। পুলিশ আসলে পুলিশকে বলা হয়, সিঁড়ি থেকে পরে গেছে। বাচ্চারাও ভয়ে আর কিছু বলে না। কিন্তু জার্মান বাচ্চারা এত ভয় পায় না। কারণ তারা জানে রাষ্ট্র তাদের অধিকারের পক্ষে। কেউ তাদের অত্যাচার করতে পারবে না। কিন্তু আরব থেকে আসা অধিকাংশ বাচ্চাকেই প্রায় প্রতি রাতেই পেটানো হয়। আমার নিজের চোখেই এরকম কয়েকটি ঘটনা দেখা। তাদের সন্তান অনেকগুলো, এটাও একটা কারণ হতে পারে হয়তো।

মার খেয়ে বাচ্চাগুলো আরো বেশি জেদি হতে থাকে। মানসিকভাবে সে ক্ষতিগ্রস্ত হয়। অপমানের কারণে সে নিজেকে ছোট ভাবে। এই অনুভূতি একটি শিশুর জন্য ক্ষতিকর। বেচারারা স্কুলে বা পুলিশকেও কিছু বলতে পারে না। কারণ তাদের ভয় দেখানো হয়, স্কুলে বা পুলিশকে কিছু বললে কীভাবে কীভাবে তাদের পেটানো হবে, তাদের ছুরি দিয়ে জবাই করা হবে, এমনটাও ভয় দেখায় অনেক বাবা।

একটা বাচ্চার সাথে কথা বলেছিলাম, তার বাবা খুব মোটা একটা বেত কিনে বাসায় রেখেছে। বাচ্চাটা যদি খেলতে চায়, তাহলে ঐ বেত দিয়ে তাকে পেটানো হবে, এমনটাই ভয় দেখিয়েছে তার বাবা। আবার, একটা বাচ্চাকে নির্মমভাবে পেটানো হচ্ছে, এরকম ভিডিও সেই বাবাটি তার ছেলেকে দেখিয়েছে। ভিডিওটাতে নাকি খুব নির্মমভাবে চাবুক দিয়ে পিটিয়ে একটি বাচ্চাকে রক্তাক্ত করা হয়। ছেলেটা সেই ভিডিও দেখে কয়েকদিন রাতে ঘুমাতে পারে নি। সব সময় তা মনে হয়েছে এই বুঝি তার বাবা চাবুক নিয়ে এসে পিটিয়ে তাকে আধমরা করে ফেললো। এই আতঙ্ক একজন শিশুর জন্য ভয়াবহ ক্ষতিকর। শিশুটির মনে ভায়োলেন্সের জন্ম হচ্ছে। বড় হয়ে সে পশুপাখিকে নির্মমভাবে মারতে পারে, এমনকি মানুষও খুন করতে পারে। এই বাচ্চাটি যে বড় হয়ে সিরিয়াল কিলার বা ইসলামী জঙ্গি হবে না, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই। এই বাচ্চাটার প্রয়োজন ছিলো একটু জড়িয়ে ধরে আদর করে কথা বলা। কথা না শুনলে আবারো আদর করে বলা। বোঝানো, খুব ঠাণ্ডাভাবে। বাচ্চারা তো দুষ্টুমি করবেই। তাতে কী?

৩. বৃদ্ধাশ্রম 

আমার বাচ্চা যদি বড় হয়ে আমাকে এবং তার মাকে বৃদ্ধাশ্রমে পাঠিয়ে দেয়, তখন কী হবে? আমি নিশ্চয়ই চাইবো, আমার বাচ্চাদের সাথেই জীবন কাটাতে। কিন্তু তা যদি না হয়, আমি কখনই কারও মুখাপেক্ষী নই। নিজের জীবন নিজেই গড়ে নিতে শিখেছি। কারও কাছে আমার হাত পেতে টাকা নিয়ে জীবন চালাতে হবে বলে মনে হয় না। আমি প্রবল আত্মসম্মানবোধ সম্পন্ন একজন মানুষ, বুড়ো বয়সে আমার বাচ্চা আমাকে দেখবে সেই আশায় আমি বাচ্চা জন্মও দিচ্ছি না। আমার এবং আমার বউয়ের ভবিষ্যৎ আমিই দেখতে পারবো। কারও আশায় আমাদের থাকতে হবে না।

আমরা নিঃস্বার্থভাবে আমাদের সন্তানদের ভালোবাসবো, এবং তার জীবনে যা কিছু চাই, আমাদের সাধ্যমত করতে চেষ্টা করবো।। বিনিময়ে তার কাছ থেকে আমাদের চাওয়ার কিছু থাকবে না। সে যেন একজন সত্যিকারে উন্নত, সৎ এবং মানবিক বোধ সম্পন্ন মানুষ হয়, সেই চেষ্টাটুকুই থাকবে। ধর্ম জাতি বর্ণ লিঙ্গ সেক্সুয়াল ওরিয়েন্টেশন সবাইকে, এমনকি পশুপাখীকে গাছপালাকেও যেন সে ভালোবাসে, সেই শিক্ষাই দেবো।

৪. মানব জাতির শিক্ষক 

আজকে জনৈক মুসলমান আমাকে একটি মেসেজ পাঠিয়েছেন। রোজই এরকম অসংখ্য মেসেজ পাই, বেশিরভাগ সময়ই সেগুলো পড়ে দেখা হয় না, কিন্তু আজকের মেসেজটা কোনো কারণে পড়ে ফেললাম। তিনি আমাকে বর্ণনা করেছেন, আল্লাহ পাক প্রেরিত মানব জাতির শিক্ষক হযরত মুহাম্মদের ধর্ম পালন না করার শাস্তি স্বরূপ জাহান্নামে আল্লাহ পাক আমার সাথে কী কী করবেন। কী কী অত্যাচার এবং শাস্তি দেবেন। সেই শাস্তিগুলোর কয়েকটি বর্ণনা করছি। 
১) আগুনের জুতা পরিয়ে শাস্তি দেয়া হবে, যার কারণে মগজ টগবগ করে ফুটতে থাকবে।
২) মাথার উপর ফুটন্ত গরম পানি ঢালা হবে, তা পেটের মধ্যে প্রবেশ করে পেটের সব কিছু বিগলিত করে পায়ের দিক দিয়ে বেরিয়ে যাবে। 
৩) রক্ত-পুঁজ পান করানো হবে।
৪) মুখ আগুনে তাপে ভাজাপোড়া হয়ে উপরের ঠোঁট সংকুচিত হয়ে মাথার মধ্যস্থলে এবং নিচের ঠোঁট ঝুলে নাভির সাথে এসে লাগবে।
৫) বিষাক্ত সাপে কামড়াবে। যা একবার দংশন করলে তার বিষ ব্যথা ৪০ বছর পর্যন্ত অনুভব করবে। 
৬) ভয়ঙ্কর আগুনে পোড়ানো হবে, যাতে চামড়া গলে যাবে। আবার চামড়া গজানো হবে। আবার তা গলে যাবে। এভাবে চলতেই থাকবে, অনন্তকাল।

এরকম আরও অসংখ্য অভিনব শাস্তি দেয়ার কৌশল। শুনলে মনে হবে, কোনো অসুস্থ বিকৃত মস্তিষ্কের সিনেমা পরিচালকের বিকৃত মস্তিষ্ক সিনেমা দেখছি। ঠিক যেমনটা হিটলার করতো, ইহুদীদের সাথে। বিবরণগুলো পড়লে মনে হয়, যেন হলিউডের বানানো SAW সিনেমার কাহিনী পড়ছি। কী পরিমাণ বিকৃত মস্তিষ্কের অধিকারী হলে কেউ এরকম বিবরণ দিতে পারে? কী পরিমাণ অসুস্থতা থাকলে কেউ এসব কল্পনা করতে পারে। ভাবুন তো! আল্লাহপাক নিজেকে মানুষের স্রষ্টা দাবী করে, নিজের সন্তান সমতুল্য মানুষকে শুধুমাত্র তার নাম দিনে পাঁচবার না জপার কারণে এরকম শাস্তি দিচ্ছেন, সেই আল্লাহ কোনো অবস্থাতেই আমার ভালোবাসা বা শ্রদ্ধা পাওয়ার উপযুক্ত নন। বরঞ্চ এরকম আল্লাহ সত্যি থাকলেও, তার সাথে দেখা হলে তার মুখে আমি থুঃ থুঃ দেবো। দিয়ে বলবো, তোর মতো ইতরের জন্য এইটাই বরাদ্দ।

সেই সাথে, তিনি এটাও বললেন, হযরত মুহাম্মদের ধর্ম পালন করলে বেহেশতে আমাকে কী কী সুবিধা দেয়া হবে। সেগুলো হচ্ছে, উন্নত বক্ষের ৭২ জন হুর এবং মুক্তার মতো দেখতে গেলমান। সেই হুরগুলো নাকি প্রতিবার সেক্সের পরে আবার ভার্জিন হয়ে যাবে। এক একবার সেক্স নাকি ৭০ বছরব্যাপী দীর্ঘ হবে। হোয়াট দ্যা ফাক! চিন্তা করে দেখুন অবস্থা!

শুনে বলতেই হলো, ভাই, আপনার আল্লাহ মানে আসলে মুহাম্মদের কল্পিত চরিত্রটি, যে আসলে মুহাম্মদ নিজেই, একজন অসুস্থ মানসিকতার লোক। ছোটবেলা নিশ্চয়ই তার সাথে ভয়াবহ কোনো অন্যায় হয়েছিলো। সেই অন্যায়ের দীর্ঘমেয়াদী প্রতিক্রিয়া তার মধ্যে থেকে গেছে। তাই বড় হয়ে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হয়ে সে সমানে কাফের মেরেছে, অন্যের বউকে গনিমতের মাল বানিয়েছে। নিজের অমুসলিম আত্মীয় স্বজন সবার ওপর প্রতিশোধ নিয়েছে। তার জন্য আমার খুব মায়া হয়। ছোটবেলা তার সাথে কী অন্যায় হয়েছে জানি না, তবে আমি নিশ্চিত তা খুব ভয়াবহ ছিলো। নইলে এরকম সিক পারভার্ট মানসিকতার কেউ হতে পারে না।

সেই সাথে, আল্লাহ যদি মানব জাতির জন্য মুহাম্মদকে শিক্ষক হিসেবে পাঠিয়ে থাকেন, সেই শিক্ষক যে শিক্ষকতায়, তার দায়িত্বে চরমভাবে ফেইল করেছেন, তা আজকের মুসলমানদের অবস্থা দেখলেই বোঝা যায়। যেই গ্রন্থ গত চৌদ্দশত বছর ধরে অনবরত প্রতিদিন মুখস্ত করে আবৃত্তি করে পড়ে তারা এখন সারা পৃথিবীকে নরক বানিয়ে ছেড়েছে, তার দায় তো তবে মুহাম্মদ এবং তার বানানো আল্লাহকেই নিতে হবে। সে তাহলে কী শেখালো?

বেশ্যার লোভ দেখানো, সাইকোপ্যাথ টাইপের নির্যাতনের হুমকি দেয়া এরকম শিক্ষক পাঠালে ছাত্ররা তো আইসিস আলকায়েদা আর বোকো হারামই হবে। এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই।

 


  • ২২০৬ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

আসিফ মহিউদ্দিন

জার্মান প্রবাসী আসিফ মহিউদ্দীন বাঙলা অন্তর্জালে একজন নিধার্মিক ব্লগার এবং অনলাইন একটিভিস্ট।

ফেসবুকে আমরা