নারী নির্যাতন মামলা, 'ব্যক্তিগত' বলে সরলীকরণ

বুধবার, মে ২০, ২০২০ ৩:৩২ AM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


একবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটির (DRU) বার্ষিক নির্বাচনে ঘনিষ্ঠ একজন প্রার্থী ছিলেন। আমরা জান দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছি। তখন দেখতাম, ওই প্রার্থীর একজন আরও ঘনিষ্ঠ বন্ধু DRU এর বাগানে খুবই ভাবগাম্ভীর্যতা নিয়ে বসে থাকে। নিদেনপক্ষে বন্ধু প্রার্থীটির সাথে বাৎচিত করে না (প্রকাশ্যে), তারপর দেখি- আমরা যাঁরা ওই প্রার্থীর জন্য প্রকাশ্যে ভোট চেয়ে বেড়াচ্ছি আমাদেরকেও এড়িয়ে চলেন।

আমি খটকা নিয়ে ঘট না পাকিয়ে ওই সাংবাদিকের কাছে জানতে চাইলাম, "মিয়া, বিষয় কী? তুমি তোমার এতো ঘনিষ্ঠ একজন বন্ধুর জন্য ভোট চাইতে মাঠে নামলে না?"

ওর উত্তরটা ছিলো এমন, "আপা, আমি সামনের বছরের পরের বছর DRU তে নির্বাচন করুম, সেই জন্য। আমি যদি ওর (বন্ধু প্রার্থীটির) জন্য ভোট চাই, তাহলে আমি ওই পক্ষের প্রার্থী ও তার সমর্থকদের ভোট হারাতে পারি!"

এটা হলো "নির্বাচনী সাংবাদিক নেতাদের" আদর্শ। ওঁরা খুবই Neutral। একটা ভোটও হারাতে চান না। আর ভোট যাতে না কমে, সেই জন্য এক সময়কার শিবির কর্মী সাংবাদিক রেজাউল করিম প্লাবনকেও আশ্রয়-প্রশ্রয় দিবেন। ভালো, খুবই ভালো! আর বিস্তারিত নাইবা গেলাম !

এই "নির্বাচনমুখী সাংবাদিক" ছাড়াও এক গ্রূপ আছেন তাঁদের অজুহাত "আসলে, প্লাবন অমুকের লোক। আমার অমুক ভাই/আপা সামনের বছরের পরের বছর নির্বাচন করবো। আমি যদি এই ব্যপারে কিছু বলি তাহলে আমার অমুক ভাই/আপা অনেক ভোট হারাবো!" (এখানে একটা জোরে ঢোক নেন!)

এর পর আরেক গ্রূপ, "এইরকম একজন নারী নির্যাতক।.... শিবির করা প্লাবন কেমনে আপনার লোক হয়!"  তখন সেই দলের অভ্যন্তরীন যোগাযোগ বিশারদরা (যারা প্রকাশ্যে কোথাও কিছু বলবেন না। তাদের আপনি জীবনেও বুঝবেন না। উনি আসলে কার পক্ষে কোন গুজব পুষে ও ছড়িয়ে বেড়ায়) বলতে থাকলেন, "এটা একটা ব্যক্তিগত বিষয়। এটা নিয়ে মিডিয়া প্রহসন হচ্ছে... .ব্লা ব্লা ব্লা।"

যা হোক, ধরেই নিলাম দৈনিক সমকাল পত্রিকার সাংবাদিক সাজিদা ইসলাম পারুলের সাথে ঘটে যাওয়া নির্যাতনের ঘটনাটি ব্যক্তিগত এবং এই ব্যক্তিগত বিষয়টি নিয়ে পারুল নিজেই আইনের প্রশ্রয় নিতে উদ্যোগ নিয়েছেন ও থানায় ফৌজদারী মামলা করেছেন দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার সাংবাদিক রেজাউল করিম প্লাবন ও তার পরিবারের সদস্যদের নামে।

ইতিমধ্যে পারুল সাংবাদিক সংগঠন ও দৈনিক যুগান্তর পত্রিকার কর্তৃপক্ষকেও বিষয়টি অবগত করেছেন। যেহেতু, প্লাবন তার সাংবাদিকতার পরিচয় (যুগান্তরের সাংবাদিক!) সহ সরকারের সকল হত্তাকর্তাদের সাথে ছবি, সাংবাদিক সকল নেতার সাথে ত্যালা ত্যালা ছবি তুলে রেখেছেন এইরকম সময়ে কাজে লাগানোর জন্য। তাই, দৈনিক যুগান্তর ও সাংবাদিক ইউনিয়নগুলো DRU এর মতো "প্লাবন"কে সাময়িক বরখাস্ত করতে পারতেন ও বলতে পারতেন, "এমন একটা গুরুতর অভিযোগ উঠেছে /এইটা বিচার শেষে  আপনি দোষী না সাব্যস্ত হলে আপনার সদস্যপদ ফিরিয়ে দেয়া হবে।"

এইবার আসেন কেনো পারুলকে মামলা করার ১১/১২ দিন চলে যাবার পরও দরজায় দরজায় ঘুরতে হচ্ছে। কেনো প্রশাসন পারুলের করা মামলায় অভিযুক্ত আসামী প্লাবনকে গ্রেফতার করে বিচারের আওতায় আনতে পারছেন না সে প্রসঙ্গে যাই।

কারণ, পুলিশ যখন প্লাবনের ঢাকার বাসায় খুঁজতে যান, আসামি তখন গ্রামের বাড়িতে গরিব ও দুঃস্থদের মধ্যে "সবজি" বিতরণ করে বেড়ান। আবার পুলিশ যখন গ্রামের বাড়িতে খুঁজতে যান। প্লাবন তখন ঢাকায় কোনো এক সাংবাদিক নেতার ঘরে এসি রুমে ঘুমান (নাম জিগায়েন না, খুইজ্জা লন)।

মাথায় আসে না -ঘটনা যদি সত্যি হয়.... বঙ্গবন্ধুর আদর্শের সৈনিক হয়ে কীভাবে একজন সাংবাদিক নেতা শিবিরের কর্মী প্লাবনকে আশ্রয় দেন।

যদি পারুল-প্লাবনের বিষয়টি ব্যক্তিগত হয়। তাহলে, প্লাবন আপনার বা আপনাদের কাছে "ভাই বাঁচান, ভাই বাঁচান" করে কিভাবে আশ্রয় পায়।

আপনি কেনো প্লাবনকে পুলিশের কাছে সোপর্দ করে বলেন না বিষয়টা ব্যক্তিগত ও যেহেতু পারুল মামলা করেছেন। সেহেতু, বিষয়টা আইনী প্রক্রিয়ায় বিচার হোক।

যাক, আপনাদের কারোর কারোর প্রশ্রয়ে প্লাবন এখনও প্রকাশ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছে। আর পারুল নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। অনিশ্চয়তায় দিন কাটাচ্ছে।

তবে, পারুল অলরেডি জয়ী। এমন একজন "হুমরা-চোমরা" প্রভাবশালী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে দাঁড়াতে পেরেছে।

পারুল আইনের কাছে গেছে, পারুল আপনাদের কাছেও গেছে/যাচ্ছে। এইবার আপনাদের বিবেক ও বুদ্ধি দিয়ে হয় একজন "নির্যাতক"কে পুষেন বা নির্যাতনের শিকার হওয়া পারুলের জন্য ন্যায় বিচার যাতে বাধাগ্রস্থ না হয় -সেটা দেখেন!

আবার বলছি, নির্যাতনের এই ঘটনায় দুটো পক্ষ, "নির্যাতক ও নির্যাতিত"। আপনি কোন পক্ষে সেটা দিয়ে কিন্তু আপনার/আপনাদের প্রতি পেশার লোকজনের সম্মান ও শ্রদ্ধা বাড়বে। বিশ্বাস করেন, দিব্যি দিয়া কইতে পারি - "ভোটও বাড়বে"।

নিচের চাওয়া গুলো বলে রাখলামঃ

অবিলম্বে প্লাবনের গ্রেফতার চাই
পারুলের জন্য ন্যায় বিচার চাই
সুনামধন্য দৈনিক যুগান্তর পত্রিকাটি নারী নির্যাতকমুক্ত চাই
পেশাগত (সাংবাদিকতা) সংগঠনগুলো নারী নির্যাতকমুক্ত চাই। 


  • ২৯৩ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

আলফা আরজু

সাংবাদিক

ফেসবুকে আমরা