আহমদ শফি একজন প্রকৃত ইসলাম ধর্মানুসারী, মডারেট নন

শনিবার, জানুয়ারী ১২, ২০১৯ ৬:১৪ PM | বিভাগ : সাম্প্রতিক


আহমদ শফি আর যাই হোক ভন্ড মুসলমান নয়। তিনি ইসলামী আলেমই কেবল নন, তিনি প্রকৃত ধার্মীক মানুষ। ইসলাম নারীর যে পর্দার বিধান তাতে ঋতুবতী হবার পর কোনো নারীর ঘরের বাইরে বের হবার অনুমতি নেই। মাহরাম অর্থ্যাৎ মহিলার পুরুষ অভিভাবক যেমন বাবা ভাই ছেলে সন্তান ছাড়া অন্য কোনো পুরুষ সঙ্গীর সঙ্গে বাইরে যাওয়া তো দূরের কথা হজ্ব করারও অনুমতি নেই।

ইসলামের এমন কোনো সোর্স নেই যেখানে এই প্রশ্নে একমত হয় নি। এই বিধান মোতাবেক কোনো মেয়ে কেমন করে স্কুলে যাবে? কেমন করে সে ক্লাশ করবে যেখানে পুরুষ শিক্ষক রয়েছে? কেমন করে সে স্কুলের পথে বের হবে বা হোস্টেলে থেকে পড়বে?

বহু সুন্নতি দাড়িঅলা ইসলামী কালচার, ইসলামী রাষ্ট্র, মুসলমান জাতি বলে বলে দৈনিক মুখে ফেনা তুলে ফেলে নিজের মেয়েকে বোরখা হিজাব পরিয়ে ডাক্তারী পড়তে পাঠায়। আহমদ শফি তাদের মতো ভন্ড না। ঐসব ভন্ডদের কাছে সংবিধানের শুরুতে বিসমিল্লাহ উঠালে ইসলাম উঠে যায় দেশ থেকে। আহমদ শফিরা সংবিধানটাকেই মানে না। আপনি ইসলামী রাষ্ট্র চাইবেন, মুসলমান জাতি বলবেন, ইসলামী কালচা্র, পোশাক, ব্যাংকিং, ইসলামি চিন্তাচেতনার কথা বলবেন কিন্তু ইসলামকে আক্ষরিকভাবে মানবে না –তা তো হবে না! ইসলামের অতটুকু মানবেন নিজের সুবিধার জন্য এটা ভন্ড মডারেটদের কাজ। আহমদ শফি মেয়েদের শিক্ষাহীনতার যে দাবি তুলেছেন তা ইসলাম মতে শতভাগ সঠিক।

ভন্ড মডারেটরা দাবি করেন কুরআনে নারী পুরুষ উভয়ের জন্য জ্ঞান অর্জন ফরজ করা হয়েছে। কুরআনের এই জ্ঞান অর্জন মানে কি নারীদের বিশ্ববিদ্যালয়ে পাশ করে চাকরিবাকরি করার দলিল? কুরআনের এই জ্ঞান অর্জন মানে তথাকথিত ওহির মাধ্যমে যেসব নির্দেশ উপদেশ আসতো সে সম্পর্কে ওয়াকিবহাল থাকা।

ইসলামের কোথাও জ্ঞান অর্জন বলতে ইসলামী শিক্ষাব্যতিত অন্য কিছুকে বুঝানো হয় নি। ইসলাম পুরোপুরি আরবের ক্ষমতা দখল করার পর প্রাক-ইসলামী যুগের সব রকম নিদর্শন ধ্বংস করেছিলো ‘জাহেলি যুগের চিহ্ন’ ঘোষণা দিয়ে। মডারেটদের আরো একটি ভন্ডামীর উদাহরণ হচ্ছে, কুরআনের শুরুটা ‘পড় তোমার প্রভুর নামে’ কাজেই ইসলামে বিদ্যা শিক্ষার উপর জোর দেয়া হয়েছে…। এই লাইনে কোথায় এরকম ইঙ্গিত করা হয়েছে এটা কেউ প্রশ্ন না করেই বিশ্বাস করে বসে আছে। এই লাইনে মুহাম্মদের সৃষ্টি জিব্রাইল মারফত আল্লাহ বলছে মুহাম্মদকে পড়তে। কি পড়তে? যা নাযিল করা হচ্ছে… ব্যস এটুকুই। পৃথিবীর কোনো ধর্মই লেখাপড়ার উপর জোর দেয় নি। বরং মানুষ বেশি জানলে ধর্মের বিপদ হতে পারে জেনে তার রেশ টেনে ধরা হয়েছে। অতিমাত্রায় প্রশ্ন করা ধর্ম পছন্দ করে না। আমরা কি যীশু, মোজেস, কৃষ্ণ, বুদ্ধ, মুহাম্মদ- এদের কাউকে পড়ুয়া হিসেবে দেখেছি? তারা কেউ কি বই পড়েছে? লাইব্রেরি করার উপদেশ দিয়েছে?

হযরত মুহাম্মদ নারীদের ঘরের বাইরে যাওয়াকে কি চোখে দেখতেন এই হাদিস থেকে স্পষ্ট বুঝা যাবে। রাসুলুল্লাহ(সাঃ) বলেছেন, “নারীরা হচ্ছে চাদর এবং যদি সে গৃহের বাইরে যায় তবে শয়তান খুশি হয় (তাকে বিভ্রান্ত করতে পারবে বলে)। সে (নারী) আল্লাহর নৈকট্য লাভ করতে পারে না যতটা সে গৃহে থেকে করতে পারতো।” (ইবনে হিব্বান ও ইবনে আবী খুযাইমাহ, আলবানী এটিকে সহীহ বলেছেন, সিলসিলা আস সহীহাহ ২৬৮৮)। সৌভাগ্যের বিষয় হচ্ছে তথাকথিত আল্লার নবীর এইসব বিধান খোদ মুসলমানরাই মানে নি। মানলে মুসলমান নারীরা ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার, ব্যাংকার, সচিব হতে পারতো না। দু:খজনক হলো এইসব নারীরা যখন হিজাব পরে সচিবালয় বসে, বিদেশে সরকারী ট্যুরে যায়, লোকজন এসে তার নামাজের কারণে দেড় ঘন্টা বসে থাকে তখন তাদেরকে বলতে ইচ্ছে করে -ইসলামে কোথায় আপনাকে এত বড় পদে বসে থাকতে অনুমতি দিয়েছে? আপনি যে গেলো মাসে সরকারী বিদেশ সফরে গিয়েছিলেন তার অনুমতি ইসলামের কোথায় দিয়েছে? ইসলাম যদি অনুমতি দিবেই তাহলে একা একা কেনো হজ্ব করতে পারলেন না?... এই জন্যই বলি আহমদ শফি আপনাদের সবার চাইতে সৎ। তিনি একজন প্রকৃত ইসলাম ধর্ম অনুসারী। ভন্ডরাই কেবল সুবিধা মতো তাকে একবার ‘তেতুল হুজুর’ আরেকবার ‘জাতীয় মুরব্বী’ ডাকতে পারে…!


  • ৩৯০ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সুষুপ্ত পাঠক

বাংলা অন্তর্জালে পরিচিত "সুষুপ্ত পাঠক" একজন সমাজ সচেতন অনলাইন একটিভিস্ট ও ব্লগার।

ফেসবুকে আমরা