ইসলামের প্রভাবে মুসলমানরা অন্ধকারে রয়

রবিবার, জানুয়ারী ২৮, ২০১৮ ৭:৪৯ PM | বিভাগ : মুক্তচিন্তা


কাজি হায়াৎ রোগটা ধরতে পেরেছেন! এই চিত্র পরিচালককে জিজ্ঞেস করা হয়েছে, বাংলাদেশের সিনেমার এই করুণ হাল কেনো? তিনি অকপটে বললেন (লিংক কমেন্টে), ‘একটা কথা বলি, মনে কিছু করিয়েন না। এ দেশের শতকরা নব্বই ভাগ মানুষ মুসলমান। এখানে সিনেমা শিল্প ছিলো এটাইতো অবাক বিস্ময়ের ব্যাপার। এদেশে হিজাব পরা লোক অনেক বেশি। এখন ধর্মীয় আনুগত্যটাও অনেক বেশি। সিনেমা দেখাকে অনেকে পাপ মনে করে। তো যে দেশে সিনেমা দেখাকে মানুষ পাপ মনে করে সেখানে হল ভর্তি দর্শক কীভাবে আশা করি! এটা হলো প্রথম ও প্রধান কারণ’।এরকম কথা বলার জন্য আমি সুশীল ভামদের কাছে ইসলাম বিদ্বেষী মুসলিম বিদ্বেষী হয়েছি। সেই একই কথা এবার বললেন দেশের বর্ষীয়ান এই চিত্রনির্মাতা। চলচিত্র জগতটাও তার চোখের সামনে থেকে দেখা। শাবানা সিনেমায় অভিনয় করাটাকে পাপ মনে করতেন। তার মেয়ে নিঁখোজ হলে তিনি তার নিজের পাপের কারণে মেয়ের এই পরিণতি মনে করে মানত করেন মেয়েকে পাওয়া গেলে তিনি এই সিনেমার জগত ছেড়ে দিবেন…। খল অভিনেতা রাজিব মৃত্যুর আগে ছেলেকে ওয়াদা করিয়ে নিয়েছিলেন কোনভাবে যেন সে এই পাপের জগতে না আসে!...

৯০ মুসলমান যেখানে সর্বময় ক্ষমতার অধিকারী সেখানে শিল্প মধ্যমের অবস্থা করুণ হবে এতে আশ্চর্য হবার কিছু নেই। কিন্তু এসব শুনলেই মডারেটদের জ্বলুনি শুরু হয়ে যায়। যেমন কাজি হায়তকে সাংবাদিক পাল্টা প্রশ্ন করলো, ‘আপনি বললেন সিনেমা দেখাকে মানুষ পাপ মনে করে বলেই এখন মানুষ সিনেমা দেখে না। আসলেই কি তাই? সিনেমার স্বর্ণযুগ বলা হয় আপনাদের সময়টাকে। সেসময়তো নাকি মানুষে হলভর্তি থাকতো। তখন কি ধর্ম ছিলো না মানুষের’?

কাজি হায়াৎ উত্তরে বলেছন, ‘ধর্ম ছিলো, কিন্তু ধর্মীয় আনুগত্যটা এতো বেশি ছিলো না। এবং সোশাল সিকিউরিটি ছিলো মানুষের। এখন মানুষের সোশাল সিকিউরিটি নাই। আর মানুষ যখন ইনসিকিউরিটিতে ভোগে তখন মানুষের ধর্মীয় আনুগত্যটা বেড়ে যায়। আমার কথাগুলো অন্যভাবে নিবেন না, আমি খুব স্পষ্টবাদী একজন মানুষ’।

ঠিক এটাই তো এতদিন ধরে বলে আসছি! মুসলমানরা যখনই ইসলাম থেকে দূরে সরে গেছে তখনই তারা জ্ঞান বিজ্ঞান শিল্পকলা সাহিত্যে উন্নতি করেছে। বাগদাদের খলিফারা ইসলাম থেকে সরে এসেছিলো, কেউ কেউ ইসলামের নবী এবং তার আল্লার উপর অবিশ্বাসী ছিলো। তখনই মুতাজিলা মতবাদের বুদ্ধিজীবী সাহিত্যিক বিজ্ঞানীরা রাষ্ট্রীয় কৃপা পেয়েছিলো। খলিফাদের পৃষ্ঠপোষকতায় তাদের সৃষ্টিকর্মকে এগিয়ে নিতে পেরেছিলেন। কিন্তু যখনই ইমাম গাজ্জিল ফের মুসলমানদের ইসলামের মধ্যে ঠেসে ধরলো বাগদাদে শুরু হলো এক অন্ধকার যুগের…।

ষাটের দশকে পূর্ববঙ্গে মুসলমানদের মধ্যে আজকের মতো ইসলামের প্রভাব ছিলো না। পাকিস্তান আমলে এত বোরখা হিজাব ওয়াজ তাবলিগ মানুষকে প্রভাবিত করতে পারে নি। রাজ্জাক কবরীর সিনেমা নিয়ে তরুণতরুণীরা সপ্তাহ কাটিয়ে দিতো। সিনেমার হ্যান্ডবিল কিংবা চিত্রালী পড়তেই তারা বেশি সুখ পেতো। মোকসুদুল মুমিনিন, জান্নাতি হূর বা জাকির নায়েকের ভিডিও আজ সে জায়গায় স্থান নিয়েছে। ফেইসবুকে পরীমনির হট সং একদিনে এক লাখ ভিউ দেখিয়ে এই সত্যকে আড়াল করা যাবে না। সত্যের খানিকটা টের পাবেন যখন নুসরাত ফারিয়া দুর্গাপুজায় শুভেচ্ছা জানায় কিংবা মডেল হ্যাপির আমাতুল্লায় রূপান্তর সংক্রান্ত পোস্টের কমেন্ট সেকশনে নুসরাতকে এইসব পাপের জগত ছেড়ে ইসলামের ছায়াতলে আসতে বলে কিংবা হ্যাপিকে দুই হাত তুলে স্বাগত জানানো হয়…।


  • ১১৫১ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

সুষুপ্ত পাঠক

বাংলা অন্তর্জালে পরিচিত "সুষুপ্ত পাঠক" একজন সমাজ সচেতন অনলাইন একটিভিস্ট ও ব্লগার।

ফেসবুকে আমরা