আসুন তনু হত্যার বিচারের দাবিতে একাত্ম হই!

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২২, ২০১৮ ৬:১০ PM | বিভাগ : প্রতিক্রিয়া


নো ওয়ান কিলড জেসিকা। ইন্ডিয়ান মুভিটি দেখছি। মুভিটিতে অতি সাধারণ জেসিকাকে হত্যা করে মদ্যপ একটি ছেলে। যার বাবা প্রচণ্ড ক্ষমতাধর।

জেসিকা হত্যার আসামী গ্রেফতার হয়। হত্যাকাণ্ডটি হয়েছিলো এক মধ্যরাতের পার্টিতে, যেখানে প্রায় ৩০০ মানুষ উপস্থিত ছিলো। কিন্তু আদালতে সাক্ষ্যপ্রমাণ তথা উইটনেস হিসেবে কাউকে পাওয়া যায় না। কারণ একটাই, ক্ষমতাধর পিতার পুত্র দোষী। সময় গড়ায়, দেশপ্রেমিক জনতা ভুলে যায় যে জেসিকা নামে কেউ ছিলো। জেসিকা হত্যার ফাইলটি চাপা পরে যায় কালের গহ্বরে।

হঠাৎ কোনো একদিন, তুখোড় কোনো সাংবাদিকের বিবেকে আঘাত হানে হারিয়ে যাওয়া জেসিকা। শোকসন্তপ্ত পরিবারের লোকদের আকুতি সেই সাংবাদিককে ভাবায়। মিডিয়ার অধিকার রয়েছে যত্রতত্র যাবার। সত্য প্রকাশ করার। সত্য প্রকাশ হয়। দোষী শাস্তি পায়।

বাংলাদেশে ধর্ষণ করার পর তনু, সোহাগী জাহান তনুকে হত্যা করা হয়েছিলো, সুরক্ষিত সেনানিবাস এলাকায়। আমরা মিছিল করেছি। তনু হত্যার বিচার চেয়েছি। বিচার পাই নি। আমাদের সাথে ছিলো না কোনো সাংবাদিক। ছিলো না কোনো মিডিয়া।

ব্যক্তিগত ভাবে আমার নিজের তিন বোন। চাচাতো মামাতো ফুফাতো কিংবা খালাতো বোন অনেক। আবার সামাজিক মাধ্যমে চৈতী আপু, নাহিদা নীশি, জেসমিন আপু, জাহানারা নূরী, লূনা নূর, ইতু, সঙ্গীতা, জয়া করিম, নাযিয়া ইউসুফ, ফারজানা, আসমা খুশবুসহ অনেক ভালো লেখক, আদর্শিক সাদৃশ্য আছে এমন মানুষদের সাথে ভাইবোনের সম্পর্কই হয়েছে এতদিন। যারা আমাকে ভালোবাসেন, আমি যাঁদের নিজের মতোই ভালোবাসি,  তাদের যদি কখনো এমন কোনো সমস্যা হতো- আমি চুপ করে থাকতে পারতাম না।

কিন্তু সোহাগী জাহান তনুর জন্য আমরা কতটুকু আন্তরিক হতে পেরেছি? কিংবা পার্বতীপুর এর পূজা! দিনাজপুরের ইয়াসমিন এর জন্য? জাতীয়তাবাদ আমাদের এমন আচ্ছন্ন করে রেখেছে যে, নিজ পরিবারের বাহিরে কাউকে আমরা মানুষ মনেই করি না। কিংবা করতে চাই না।

আমাদের গণমাধ্যম, মিডিয়া সবসময় এলিট শ্রেণির মানুষদের নিয়ে কাজ করে। তাদের কথাই শুধু বলে। সাধারণ নারী থাক দূরের কথা, লক্ষাধিক মানুষ মিরপুর বস্তির আগুনে সর্বহারা হয়; আমাদের মিডিয়া ইউএসবাংলা আর নেপাল নিয়েই ব্যস্ত। এই মিডিয়া তনুর জন্য নয়। নয় মিরপুর বস্তিবাসী কিংবা দিনাজপুরের পূজার জন্য। 

বিমানদূর্ঘটনায় আহত নিহতদের জন্য আমার একই বেদনা। একই সহমর্মিতা। আমরা তো একই। মানুষ। প্রতিবেশী। তবে কেনো শুধু ধনি শ্রেণির মানুষদের জন্য আমাদের মায়াকান্না! আমরা সবাই যে এক, অভিন্ন; এটুকু কেনো আমরা উপলদ্ধি করতে পারি না?

তনু হত্যা হয়েছে। কাল আপনার তনু হত্যা হবে। আপনার বোন আজ, এখনই ট্রেন, বাস কিংবা টিউশন থেকে ফেরার পথে নির্যাতনের স্বীকার হতে পারে।

স্বাধীনতার পর থেকেই যৌন নির্যাতনের বিষয়টি আমাদের দেশে প্রকোপ হয়ে দাড়িয়েছে। আসুন, প্লিজ একবার আসুন-

তনু হত্যার বিচার দাবিতে একাত্ম হই। নিজ পরিবারের ভবিষ্যৎ চিন্তা করে আমরা একাত্ম হই। ক্ষমতাধর দোষী, ধর্ষকদের ভীত নাড়িয়ে দিই। আমার, আপনার বোন, মা'দের জন্য পৃথিবীটা নিরাপদ করে দিই। ভালোবাসা পৌঁছে দিই আগামী প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে। প্লিজ!


  • ১৩৫ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

জাকারিয়া হোসাইন

অনলাইন একটিভিস্ট ও হিউম্যান রাইটস ডিফেন্ডার।

ফেসবুকে আমরা