১৯৯৪ তে তসলিমা ২০১৮তে অদিতি, প্রসঙ্গ : বাংলাদেশে মৌলবাদ এবং জয় বাংলার হুঙ্কারে নারীর দেশত্যাগের সিদ্ধান্ত

রবিবার, মার্চ ১১, ২০১৮ ৫:১৩ PM | বিভাগ : সম্পাদকের কীবোর্ড


গত কয়েকদিনের ঘটনায় প্রকট হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের নারীবাদ বস্তুত কথিত নারীবাদী সিন্ডিকেট দ্বারা নিয়ন্ত্রিত। এই সিন্ডিকেট বাস্তবায়ন করে চলেছে কিছু ভয়ানক পুরুষতান্ত্রিক এজেন্ডা। আট নয়জন নারীর চাকচিক্য বাংলাদেশের নারীবাদকে প্রতিনিধিত্ব করে না। একটি বেগুনী শাড়ির মার্চ বাংলাদেশের নারীবাদকে প্রতিনিধিত্ব করে না। নারী দিবসের মার্চকে পেছনে রেখে সেল্ফি তুলে তারা ফিরে গেছে দশভুজা রূপে পুরুষতন্ত্রের রচিত স্ক্রিপ্টের চরিত্র রূপায়ণে। তাদের সারা বছরের নারীবাদী খোরাক এইসব সেল্ফি, বছরব্যাপী আমরা মাঝেই মাঝেই দেখতে পাবো ফেসবুক/ইন্সটাগ্রামে। সাথে কিছু ব্যক্তিগত আমি আমি আমি অর্জন!

এদিকে প্রকৃত নারীবাদ- অদিতির সাথে নিজের চিৎকার গিলে ফেলে ল্যাগেজপ্যাক করছে। আর চিৎকার করছে- “আমি এই শুয়োরদের দেশে থাকবো না, জয় বাংলা বলে যারা মেয়ে মলেস্ট করে তাদের দেশে আমি থাকবো না, থাকবো না…..

নারীবাদের আরেকটি সিন্ডিকেটকে দেখা গেছে সরকারী ইশারায় আয়োজিত মিছিলের সামনে। গতকাল ১০ মার্চ আয়োজন করা হয়েছিলো জাফর ইকবালের উপর হামলার প্রতিবাদে এই মশাল মিছিলের। এই সিন্ডিকেটের কাউকেই কোনোদিন নারী নির্যাতন বিরোধী কোনো মিছিলে দেখা যাবে না। জাফর ইকবাল স্যারের কপালে কপাল ঘষতে ইচ্ছা করছে!

জয়বাংলার মিছিলে নারী মলেস্ট করা হলো- অদিতি, ইশরাতল শোভা, আফরিন আসাদ মেঘলাসহ আরো অনেক মেয়ে আরো কয়েকজন অসভ্য মেয়ে চিৎকার করে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতে অস্ত্র তুলে দিলো। এই অস্ত্র উদ্ধারের দায়িত্ব বর্তালো এই নারীবাদী সিন্ডিকেটের উপর।

জাফর স্যারের উপর হামলা হয়েছে গত ৩ মার্চ। শাবি’র ছাত্ররা হামলাকারীকে আটক করে গণপিটুনী দিয়ে তাকে পুলিশের হাতে তুলে দিয়েছে সাথে সাথে। তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় এই হামলার প্রতিবাদে গণজাগরণ মঞ্চ মিছিল করেছে। এর পরদিনও দেশব্যাপী প্রতিবাদ মিছিল অব্যাহত ছিলো। ‘নারী ডট নিউজ’সহ বিভিন্ন মিডিয়াও প্রতিবাদে সোচ্চার ছিলো। তার পরদিনও তার পরদিনও ... তাছাড়া ঘটনার দিন থেকে প্রশাসনসহ স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী নিজে জাফর স্যারের দ্রুত চিকিৎসায় হেলিকপ্টার দিয়ে স্যারকে ঢাকায় নিয়ে এলেন। হামলাকারীর জন্য জাহান্নাম কামনা করে প্রধানমন্ত্রী নিন্দাও জানালেন। এর মধ্যে জাফর স্যারের স্ত্রী অধ্যাপক ইয়াসমিন হক মিডিয়ার কাছে পুলিশ এবং প্রধানমন্ত্রীর ভূমিকায় সন্তোষ প্রকাশও করলেন।

২০১৫ সালে অভিজিৎ রায়ের হত্যার পর থেকে এটাই সরকারের একমাত্র সর্বোচ্চ তড়িৎ ব্যবস্থা গ্রহণ। অভিজিৎ রায়কে হত্যার পর পর অভিজিৎ রায়ের স্ত্রী বন্যা আহমেদ আহত হয়ে রক্তাক্ত অবস্থায় অভিজিৎ রায়কে বাঁচানোর জন্য চিৎকার করে সাহায্য চেয়েছিলেন। সাধারণ মানুষসহ উপস্থিত বইমেলার নিরাপত্তায় নিয়োজিত পুলিশ তাঁর সাহায্যে এগিয়ে আসে নি। তারপরও একে একে স্মুদলি ঘটে গেছে পরের হত্যাকাণ্ডগুলো। প্রশাসনকে আমরা বেতো রোগী হিসেবেই শয্যাশায়ী দেখেছি। যাই হোক এই দেশে ইস্যু এসে ইস্যুকে চাপা দিয়ে দেয়। প্রয়োজনে ইস্যু তৈরি করাও হয়।

ঐতিহাসিক ৭ মার্চ এসে জাফর স্যারের উপর জঙ্গি হামলার ইস্যুটিকে চাপা দিয়েও দিলো। সাত মার্চ এর জয় বাংলার মিছিল থেকে কিছু সময়ের জন্য উঠে এলো নতুন এক ইস্যু। আমরা দূর থেকেও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে শুনতে পেলাম অদিতি, ইশরাতল শোভা, আফরিন আসাদ মেঘলাসহ আরো অনেক মেয়ের চিৎকার--চিৎকার ভেসে এলো বাংলা মোটর থেকে....কলা ভবন থেকে....টি এস সি থেকে.....নীলক্ষেত থেকে...... কাকরাইল থেকে......আরো কত না জানি চিৎকার তেমন জোরালো হয়ে উঠতে পারে নি বলে আমরাও শুনতে পাইনি। ৭ মার্চের জয় বাংলার মিছিলগুলো যেনো হয়ে উঠেছিলো আরবীয় সংস্কৃতির তাহারুশ খেলার উৎসব। এই খেলায় কিছু বিভিন্ন বয়সী পুরুষ একটি মেয়েকে টার্গেট করে বৃ্ত্ত রচনা করে মেয়েটিকে আক্রমণ করে। তারা একে একে মেয়েটিকে আচড়ে কামড়ে ছিড়ে ফেলে তার জামা কাপড়, মেয়েটি চিৎকার করলে ভিড়ের পুরুষগুলো আনন্দ উল্লাস করে, উপভোগ করে আরো জোরে উল্লাস চিৎকার করে মেয়েটির আর্তনাদকে চাপা দিয়ে দেয়। এর মধ্যে কোনো কোনো পুরুষ আবার মেয়েটিকে বাঁচানোরও চেষ্টা করে এই চেষ্টাও ঐ তাহারুশ খেলারই অংশ, মেয়েটিকে উদ্ধারের নামে সেই উদ্ধারকারী পুরুষটিও মেয়েটির শরীর বিভিন্নভাবে স্পর্শ করে। এই খেলার উৎপত্তি মিশরে হলেও এটি জনপ্রিয় হয়েছে আরবদেশে। আরব দেশের বোরকা, হিজাবের মতো এই খেলা ক্রমে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে বাংলাদেশেও। তারই জমকালো অভিষেক ঘটে গেলো ৭ মার্চ উপলক্ষে সারা ঢাকায়।

ঘটনার পরপরই অদিতির স্টাটাসটি ভাইরাল হলেও তার পরপরই একটি নারীবাদী সিন্ডিকেট তৎপর হয়ে উঠলো অদিতির স্টাটাস এবং আইডিকে ফেক প্রমাণ করতে। আমরা স্ববিস্ময়ে দেখলাম আমাদের চারপাশের নারীবাদী সিন্ডিকেটের সদস্যরাই অদিতিকে ফেক বলাসহ স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের বলেও চিহ্নিত করা প্রয়াস চালালো। ফলে অদিতি তার স্টাটাসটি সরিয়ে নিতে বাধ্য হলো। কিন্তু থামলো না চেতনা ব্যবসায়ীদের আস্ফালন। পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে যাবতীয় চেতনার দালালেরা তৎপর হয়ে উঠলো অদিতিকে খুঁজে বের করে দেখে নেয়ার জন্য।

স্টাটাস সরিয়েও অদিতি লুকিয়ে থাকতে পারলো না। তাকে আবারও এসে স্টাটাস লিখতে হলো যে সে ফেক নয়। সে আরো জানালো সে স্বাধীনতা বিরোধীদের হাতের অস্ত্র হতে চায় না বলেই তার স্টাটাস সরিয়ে নিয়েছে।

তাতেও কি রেহাই মেলে, সে লীগ নামের মৌচাকে ঢিল ছুঁড়েছে। সে জয়বাংলার মিছিলে নির্যাতিত হয়ে সে জয়বাংলার সোনার ছেলেদের দিকে আঙুল তুলে দেখিয়ে দিয়েছে কারা তাকে মলেস্ট করেছে। এই দেশে এটাকে কেউ সাহস বলে না বলে দুঃসাহস!

একে একে বাজতে থাকলো ধামাচাপা সঙ্গীত।

আওয়ামীলীগের সাধারণ সম্পাদক বাণী দিলেন যে ছাত্রলীগের মিছিল থেকে কোনো নির্যাতন হয় নি। এগুলি স্বাধীনতা বিরোধীদের অপপ্রচার। আওয়ামীলীগ সরকারের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাণী দিলেন -নির্যাতন হয়েছে, নির্যাতনের ভিডিও ও হাতে এসেছে। দায়ীদের খুঁজে বের করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। -এটা হলো সম্ভাব্য আগুনে জল ঢেলে দেয়া। পক্ষান্তরে সরকারের ভেতরের সমন্বয়হীনতার স্বরূপ।  

এর মধ্যে এসে গেলো আর্ন্তজাতিক নারীদিবস। এইবারের নারী দিবস উপলক্ষ্যে মার্চ পেলো নতুন মাত্রা। এতো জমকালো নারী দিবস মার্চ আগে কখনও দেখে নি ঢাকাবাসী।

আগেরদিন ঘটে যাওয়া নারী নির্যাতনের কোনো উত্তাপই পাওয়া গেলো না সেই নারী দিবস মার্চে। অদিতিসহ অনেক নারীর উপর নির্যাতন কি আর নারী নির্যাতন? ঐটাতো ছিলো স্বাধীনতা বিরোধী নারীদের উপর নির্যাতন। তাছাড়া নারী নির্যাতনই তো। এইটাকে ধামাচাপা দেয়ার জন্য অনুগত নারীবাদী, নেতার নাম নিতে নিতে মুখে ফেনা তোলা নারীবাদীরাই যথেষ্ট। আট নয় জনের সেই নারীবাদী সেই সিন্ডিকেটকেও দেখা গেলো নারী দিবস মার্চের অগ্রভাগে সেলফিরত অবস্থায়।

কি আসে যায়? অদিতি, ইশরাতল শোভা, আফরিন আসাদ মেঘলাসহ আরো অনেক মেয়ের চিৎকার ততক্ষণে জাগিয়ে দিয়েছে সময়কে। একের পর এক আসতে থাকলো জয় বাংলার ছেলেদের কীর্তিগাথার সংবাদ। নির্যাতিত মেয়েরা সামনে আনতে থাকলো তাদের উপর ঘটে যাওয়া মধ্যযুগীয় তাহারুশ তাণ্ডব।-

ধামাচাপার পর্ব -

নতুন কোনো ইস্যু সৃষ্টি সময়সাপেক্ষ বলে পুরাতন ইস্যুকে ধাক্কা দিয়ে জাগিয়ে তোলা হলো। যারা এটা নিয়ে সোচ্চার হওয়ার চেষ্টা করলো তাদের ইনবক্সে আসতে থাকলো গালাগালি। অশ্লীল ভিডিও। দু’য়েকজন  ইনবক্সে বোঝাতেও আসলেন যে অদিতিদের কারণে মুক্তিযুদ্ধের পক্ষের ক্ষতি হচ্ছে। এইগুলি আসলে ঐ পক্ষেরই কাজ। অনেক নারীকেও দেখলাম অদিতির চিৎকারকে বাড়াবাড়ি বলে পাশ কাটিয়ে যেতে। অনেকে বলতে থাকলেন যে – যে নারীরা জাফর ইকবালের উপর হামলার পর টু শব্দটি করে নি তারাও নাকি অদিতির জন্য কান্নাকাটি করছে। অনেকে অদিতির জন্য করুণা প্রকাশ করে দায় সারলেন। কেউ বললেন -অদিতির জন্য আমাদেরও খারাপ লাগছে। কিন্তু তার কারণে জাফর ইকবালের উপর হামলাকারীরা পার পেয়ে যাচ্ছে। অনেকে এও বললেন অদিতিকে সমর্থন দিয়ে তোমরা অদিতির বিপদ বাড়াচ্ছো। যাহ বাবা এতো রীতিমতো হুমকি! কার হয়ে এই হুমকি?

পুলিশ এবং সরকার জাফর ইকবালের উপর হামলার ঘটনায় সন্তোষজনক ব্যবস্থা গ্রহণ এবং যথাযথ তদন্তের আশ্বাস দেয়া সত্বেও এই ইস্যুতে ১০ মার্চ আবারও মশালসহকারে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন করা হলো। তারিখটা কিন্তু এখানে গুরুত্ব পূর্ণ। নারীর উপর নির্যাতনকে কবে আর এই সমাজ রাষ্ট্র অপরাধ বলে গণ্য করেছে?

কোনো ইস্যুতে প্রতিবাদ অব্যাহত রাখাই যায়। তবে জাফর ইকবাল স্যার পুরুষ বলেই, জাফর ইকবাল জনপ্রিয় লেখক বলেই, জাফর ইকবাল শুধু  সরকারের পছন্দের মানুষ বলেই কি তাঁর হামলার আট দিন পরেও দেশে ভয়াবহ রকমের দলবদ্ধভাবে আরবীয় খেলার কায়দায় সংঘঠিত নারী নির্যাতনকে উপেক্ষা করে জাফর ইকবালের উপর হামলার বিক্ষোভ মিছিল জরুরি ছিলো? দেশের মানুষ কি ঘাস খায়? সরকারী পৃষ্টপোষকতায় জঙ্গিবাদের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ মিছিলের আয়োজন কাদের রক্ষা করতে এটা কি সাধারণ মানুষ বুঝবে না? মানুষকে এতোটা বোকা ভাবা ঠিক না।

আমরা কোনো সিন্ডিকেট নারীবাদ করি না। “তুই আমার পিঠ চুলকা আমি তোর পিঠ চুলকাবো”-এই নারীবাদ সমর্থন করি না। “ওমুক নারীবাদী ভাই নারী মলেস্ট করছে তাড়াতাড়ি ধামাচাপা দে”-নারীবাদের সাথেও আমরা নাই। “আমরা আমরাইতো”-নারীবাদ সমর্থন করি না। “নারীবাদী সঙ্গীত শিল্পীর কাজের মেয়ের অপঘাত মৃত্যু হয়েছে, কোনো আওয়াজ হবে না” -এই নারীবাদ আমরা করি না। “আমার স্বামী ভাই মামু কাজের মেয়েকে প্রেগনেন্ট করেছে, জানো নাতো কাজের মেয়েগুলি কত বদ! বেগম সাহেব হতে চায়”- এই নারীবাদের সাথেও আমরা নাই এটা আগেই স্পষ্ট করেছি। আজ যারা অদিতিকে স্বাধীনতা বিরোধী চক্রের অংশ বলছে তারাই কিন্তু জান্নাতুন নাঈম প্রীতিকে খারাপ মেয়ে বলেছিলো। প্রচারকাঙ্খী বলেছিলো! প্রয়াস পেয়েছিলো জুতো দিয়ে পেটানোর, কারণ প্রীতি নারী হলেও তার প্রতিপক্ষ পুরুষটিও নারীবাদী।পুরুষতান্ত্রিক সমাজে নারীর নিজের বাবা মায়ের বাড়িতেও জামাইয়ের আদর, নারীর শুশুর বাড়িতেও পুরুষের আদর। পুরুষতান্ত্রিক নারীবাদীদের কাছে তাই নারী’র চেয়ে নারীবাদীপুরুষের খাতির বেশী! এই নারীবাদী সিন্ডিকেট পছন্দের পুরুষের অপকর্মকে সময় মতো আড়াল করার জন্যই বরাবর কাজ করে আসছে। এদের চিহ্নিত করা জরুরি হয়ে উঠেছে।

আমরা অদিতিসহ সব নির্যাতনের ঘটনার সুষ্ঠ তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি। সেই নির্যাতন বাইতুল মোকাররম মসজিদ থেকে হোক আর জয় বাংলার মিছিল থেকেই হোক। ধামাচাপা দেয়ার প্রবণতা বন্ধ হোক। বন্ধ হোক সারাদেশব্যাপী মসজিদ মাদ্রাসাসহ যত্র তত্র নারী শিশু ধর্ষণ! আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই -আমরা নারীর সমতার জন্য লড়াই করছি। আমরা নারীর উপর সব ধরণের শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন বন্ধের জন্য লড়াই করছি। নিজের ফেসভেলু বাড়ানোর জন্য নয়। দেখে নেয়ার ভয় দেখিয়ে অদিতিদের আর্তনাদকে ধামাচাপা দেয়ার রাজনীতি বন্ধ করার দাবি জানাচ্ছি।

জাফর ইকবাল গুরুত্বপূর্ণ অবশ্যই। অদিতিরাও ফেলনা নয়। তারা এই দেশেরই নাগরিক এই দেশেরই মেয়ে। অদিতির দেশ ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত কোনো ভাবালুতা থেকে নয়। বাস্তবতা থেকে। ১৯৯৪ সালে তসলিমা নাসরিন দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য হয়েছিলো মৌলবাদের হুঙ্কারে। অদিতি দেশ ত্যাগ করবার সিদ্ধান্ত নিয়েছে ২০১৮ সালে, জয় বাংলার হুঙ্কারে। তাহলে কি এই দেশের সাহসী নারীদের দেশত্যাগ করা ছাড়া উপায় নেই? আপোষ নামায় দাস্তখত না করা নারীদের কি তবে নির্বাসনই সমাজ রাষ্ট্র নির্ধারিত শাস্তি? এই দেশে নারী জন্মের শাস্তি কি তবে মৃত্যু অথবা নির্বাসন?

শাসক লজ্জিত হন নম্র হন! রাষ্ট্রের নাগরিক নারীর প্রতি সমদৃষ্টি দেন রাষ্ট্র! নারীর প্রতি সোনার ছেলেদের নির্যাতনের যথার্থ তদন্ত করে বিচারের ব্যবস্থা করেন। বিভিন্ন মহল থেকে অদিতিদের ভয় দেখানোর রাজনীতি বন্ধ হোক- ভুলে যাবেন না চিরদিন কাহারো সমান নাহি যায়।

সারাদেশে নারী সমাজের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি। অদিতিরাও আপনার আমার সন্তান। অদিতিদের উপর নির্যাতনের প্রতিবাদে আজ এখনই সোচ্চার হোন। এবং তা আপনার ঘরের মেয়েটির উপর নির্যাতন নেমে আসবার আগেই। 


  • ৭৩০১ বার পড়া হয়েছে

পূর্ববর্তী লেখা পরবর্তী লেখা

বিঃদ্রঃ নারী'তে প্রকাশিত প্রতিটি লেখার বিষয়বস্তু, ক্রিয়া-প্রতিক্রিয়া ও মন্তব্যসমুহ সম্পূর্ণ লেখকের নিজস্ব। প্রকাশিত সকল লেখার বিষয়বস্তু ও মতামত নারী'র সম্পাদকীয় নীতির সাথে সম্পুর্নভাবে মিলে যাবে এমন নয়। লেখকের কোনো লেখার বিষয়বস্তু বা বক্তব্যের যথার্থতার আইনগত বা অন্যকোনো দায় নারী কর্তৃপক্ষ বহন করতে বাধ্য নয়। নারীতে প্রকাশিত কোনো লেখা বিনা অনুমতিতে অন্য কোথাও প্রকাশ কপিরাইট আইনের লংঘন বলে গণ্য হবে।


মন্তব্য টি

লেখক পরিচিতি

চৈতী আহমেদ

প্রধান সম্পাদক, নারী

ফেসবুকে আমরা